নিয়ম মেনে ব্যবসা করছে আলেশা মার্ট, দাবি চেয়ারম্যানের

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২১ । ২০:৩২ | আপডেট: ১৮ জুলাই ২১ । ২০:৩২

সমকাল প্রতিবেদক

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মনজুর আলম শিকদার

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলেশা মার্ট সব ধরনের নিয়ম মেনে ব্যবসা করছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মনজুর আলম শিকদার। তিনি বলেছেন, শুরু থেকে তারা সময়মত পণ্য সরবরাহ করছেন। এ পর্যন্ত সাড়ে তিন লাখ অর্ডারের ডেলিভারি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে অভিযোগ এসেছে মাত্র ১০টি অর্ডারের ক্ষেত্রে। কিন্তু আলেশা মার্ট যে পদ্ধতিতে ব্যবসা করে একই পদ্ধতিতে অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করায় তাদের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে। যে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিরূপ আচরণের মুখোমুখি হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তিনি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলেশা মার্টকে সমানভাবে বিচার না করার অনুরোধ করেন।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন আলেশা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান। সম্প্রতি আলেশা মার্টসহ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক তাদের সব ধরনের কার্ড হোল্ডারদের লেনদেন না করার নির্দেশনা দিয়েছে। একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান বিকাশ। বাংলাদেশ ব্যাংকও প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাউন্টের তথ্য তলব করেছে। এমন পরিস্থিতিতে আলেশা মার্টের ব্যবসার ধরন, লাভ লোকসানসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি। এতে আলেশা হোল্ডিংস এবং আলেশা মার্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মনজুর আলম শিকদার বলেন, একই ধরনের ব্যবসা পদ্ধতি অনুসরণ করায় আলেশা মার্টকে এ সময়ের আলোচিত অন্যান্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একইভাবে বিচার করা হচ্ছে। কিন্তু যেসব প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে সমালোচিত বা ক্রেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারছে না বা করেনি, তাদের সঙ্গে আলেশা মার্টের অনেক পার্থক্য রয়েছে। আলেশা মার্টের বিরুদ্ধে পণ্য সরবরাহকারী, ক্রেতা বা অন্য কারোর কোনো অভিযোগ নেই। এমনকি ক্রেতাদের থেকে সংগ্রহ করা ৩৪ কোটি টাকার ভ্যাট পরিশোধ করেছে সংস্থাটি। আর আয়কর দিয়েছে ১৬ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, এটা সত্য আলেশা মার্ট ডিসকাউন্ট দিয়ে পণ্য বিক্রি করছে। এর কারণ হচ্ছে নিজেদের ব্র্যান্ডিং করা। এই ডিসকাউন্টের কারণে দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ বর্তমানে আলেশা মার্টকে চেনে। এই বিপুল পরিমানে মানুষের কাছে পৌঁছাতে যে প্রচারণা খরচ হত, সেই তুলনায় ডিসকাউন্ট বাবদ লোকসান অনেক কম। পাশাপাশি আলেশা মার্টের কারণে অন্যান্য সহযোগি প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি পাওয়াও সহজ হয়েছে। ফলে সকল প্রতিষ্ঠানের প্রচারণার পরিবর্তে আলেশা মার্টের প্রচারণা করা হচ্ছে। আর এতে যে লোকসান হচ্ছে তা কোম্পানির নিজস্ব সম্পদ থেকেই বহন করা হচ্ছে।

মনজুর আলম শিকদার বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আলেশা মার্টের ওপর তদন্ত করা হোক। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা মানুষের টাকা তছরুপের ঘটনা ধরা পড়লে লেনদেন বন্ধ করা বা অ্যাকাউন্ট তলব করাসহ অন্য যেকোনো ব্যবস্থা নিলে তাদের আপত্তি থাকবে না।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত ছয় মাসের ব্যবসায় আলেশা মার্ট ৩৫০ কোটি টাকা ডিসকাউন্ট দিয়েছে। আর লাভ করেছে ১৪০ কোটি টাকা। ফলে এ সময়ে তাদের লোকসান দাড়িয়েছে ২১০ কোটি টাকা। ব্যাপক ছাড়ে ব্যবসা করার কারণে এই লোকসান হয়েছে। আলেশা হোল্ডিংসের বর্তমানে ১১টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার মধ্যে ৭টি লোকসানি ও চারটি লাভজনক। এছাড়া আরও আটটি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রমে আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

মনজুর আলম শিকদার বলেন, সরকার ই-কমার্সের জন্য যে নীতিমালা করেছে তাতে নতুন ও ছোট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা করা সহজ নয়। শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা পার্শ্ববর্তী কোনো দেশে নেই। দেশে ই-কমার্স প্রসারের জন্য এই নীতি পুনর্বিবেচনা করা দরকার। ছোট উদ্যোক্তাদের সুযোগ দেওয়া উচিত।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com