শরীরে বহনযোগ্য ক্যামেরার ব্যবহার চালু সিএমপিতে

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২১ । ২০:০৮ | আপডেট: ২৪ জুলাই ২১ । ২১:৩২

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে (সিএমপি) প্রথমবারের মতো সংযোজন করা হয়েছে শরীরে বহনযোগ্য বা বডি ওর্ন ক্যামেরা। প্রাথমিকভাবে নগরীর চারটি থানার সদস্যরা এ ক্যামেরা নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। পর্যায়ক্রমে নগরীর বাকি ১২টি থানায় এ ক্যামেরার ব্যবহার হবে। 

শনিবার চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার পুলিশ সদস্যদের হাতে এ ক্যামেরা তুলে দেওয়া হয়। পুলিশের শরীরের বহনযোগ্য ক্ষুদ্র এই ক্যামেরার ব্যবহার নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার কর্মীরা উদ্বিগ্ন। এতে করে মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে বলে মত তাদের। বাংলাদেশে এ ক্যামেরা ব্যবহারে পুলিশ সদস্যদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, পুলিশের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে এ ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। কোনোভাবে নাগরিকদের গতিবিধি নজরদারি করা হবে না।

সিএমপি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ২৮টি ক্যামেরা নগরের কোতোয়ালী, ডবলমুরিং, পাঁচলাইশ ও পতেঙ্গা থানায় দেওয়া হয়েছে। বেল্টের মাধ্যমে বুকে বা কাঁধে লাগিয়ে এই ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় দৃশ্য বা চিত্র ধারণ করবে পুলিশ সদস্যরা। ফুল এইচডি ফরম্যাটে ৬৪ মেগাপিক্সেলের এই ক্যামেরায় একটানা ১২ ঘণ্টা দৃশ্য ও শব্দ ধারণ করা যাবে। ঝড়-বৃষ্টিতেও এগুলো সচল থাকবে। অন্ধকারে ভিডিও না হলেও অডিও রেকর্ড করা যাবে। এই ক্যামেরার জিপিএস পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অবস্থান সম্পর্কেও জানা যাবে।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) মো. আব্দুল ওয়ারীশ জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় আপাতত সিএমপির চার বিভাগের চার থানায় এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রত্যেক থানাকে ৭টি করে ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ১৬ থানায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। 

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে কোনও পুলিশি অভিযান বা তল্লাশিতে থাকবে এই ক্যামেরা। যা দিয়ে পুরো ঘটনার চিত্র ধরা পড়বে। কোনও বিক্ষোভ বা নাশকতায় এই ক্যামেরার মাধ্যমে জানা যাবে কারা তাতে কী ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিভিন্ন সময়ে পুলিশের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ ওঠে, সে ক্ষেত্রে এই ক্যামেরার ধারণ করা দৃশ্য থেকে প্রকৃত সত্য জানা যেতে পারে। 

ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ক্যামেরাগুলো ভ্রাম্যমাণ সিসিটিভির কাজ করবে। যখন কোন এলাকা রেইড করা হয়, তখন কোন অপরাধী আমাদের চোখ এড়িয়ে গেলেও এই ক্যামেরা সবকিছু রেকর্ড করে রাখবে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক জাকির  হোসেন সমকালকে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা যেমন রয়েছে, তেমনি পরবর্তীতে পুলিশ নিয়ে দেশের মানুষের মাঝে নানা বিতর্কও আছে। লোকজনের শরীরে মাদক গুঁজে দিয়ে ফাঁসানোর মতো অভিযোগও রয়েছে। এ অবস্থায় শরীরে বহনযোগ্য ক্যামেরা সংযোগ করা পুলিশের একটি চমৎকার উদ্যোগ। এতে করে পুলিশ নিজেই আইন লঙ্ঘন করছে কিনা তা নজরদারিতে থাকবে। তবে এটি ব্যবহারে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শুধুমাত্র অপরাধ কার্যক্রম নজরদারিতে এর ব্যবহার সীমিত রাখতে হবে। কোনভাবেই নাগরিকদের গতিবিধি নজরদারি করা যাবে না, মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা যাবে না।    

নগর পুলিশ কমিশনার সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, এই ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পুলিশ সদস্যদের কার্যক্রম নজরদারি করা হবে। পুলিশের কার্যক্রম রেকর্ডেও থাকবে। ফলে তাদের কাজের স্বচ্ছতা যেমন নিশ্চিত হবে, জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে। এটা একেবারেই পুলিশের নিজস্ব কাজের জন্য। কোনোভাবেই নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছা বা কার্যক্রম এখানে নেই। বিশ্বের অনেক উন্নত, সভ্য দেশে বডি ওর্ন ক্যামেরার কার্যক্রম চালু আছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com