কিশোরগঞ্জে মডেল আশ্রয়ণ প্রকল্প যশোদল

০১ আগস্ট ২১ । ০০:০০

কিশোরগঞ্জ অফিস

কিশোরগঞ্জের যশোদল ইউনিয়নের দামপাটুলী গ্রামে শনিবার আশ্রয়ণ প্রকল্পের নতুন ঘরে উঠেই আঙিনায় খেলায় মেতে ওঠে শিশুরা - সমকাল

কিশোরগঞ্জের যশোদল ইউনিয়নের দামপাটুলী গ্রামটি যেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার চিত্রকেই নতুন করে উদ্ভাসিত করেছে। এখানে টেকসই ২২টি ঘরই শুধু নির্মাণ করা হয়নি, প্রতিটি ঘরে রান্নাবান্নার জন্য এলপি গ্যাসের সুবিধা সংবলিত চুলা, শিশুদের খেলাধুলার জন্য ছোট্ট মাঠ, পাশেই একটি ছোট্ট পার্ক, পার্কে বসার জন্য সুদৃশ্য বেঞ্চ এবং বয়স্কদের হাঁটাচলার জন্য রয়েছে প্রশস্ত রাস্তা।

দেশের কোথাও কোথাও আশ্রয়ণ প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ করার যে অভিযোগ উঠেছে, তার বিপরীত চিত্র এই যশোদল। এই আশ্রয়ণ প্রকল্প স্বচ্ছতা ও সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গতকাল শনিবার করোনা মহামারির মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরগুলো স্থানীয় ২২টি হতদরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে হস্তান্তর করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ডা. জাকিয়া নুর লিপি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার, মাছুমা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাগুফতা হক, উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আলম, পিআইও মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ, যশোদল ইউপি চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ সুলতান রাজন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ডা. জাকিয়া নুর লিপি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে এ রকম ঘর নির্মাণ করে গৃহহীনদের মধ্যে বিতরণের কাজ চলছে। একটি মানুষও যাতে গৃহহীন না থাকে, কেউ যাতে অনাহারে না ভোগে তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই সরকারের পক্ষে যদি আপনাদের সমর্থন অব্যাহত থাকে তাহলে সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন আমরা পুরো বাংলাদেশকেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করতে পারব।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথম ধাপেই আমরা যশোদল ইউনিয়নকে নির্বাচন করেছি। কারণ মহান মুক্তিযুদ্ধে এই ইউনিয়নের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা জাতি ভুলে যায়নি। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিচক্ষণতার সঙ্গে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেই মহান পুরুষ, প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম এই যশোদল ইউনিয়নের বীরদামপাড়া গ্রামের সন্তান। মহান নেতার এই জন্ম-মৃত্তিকায় সে কারণেই আমরা প্রথম পর্যায়ে এই আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল কাদির শিপু বলেন, দামপাটুলী গ্রামের এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে যাতে কোনোভাবেই নিম্নমানের কাজ হতে না পারে, সে জন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমি সব সময় নিবিড়ভাবে তদারক করেছি। সারাদেশের মধ্যে কাজের মান ও সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে এই আশ্রয়ণ প্রকল্প একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে।

এদিকে ঘর বরাদ্দ পাওয়া দামপাটুলী গ্রামের বাচ্চু মিয়া, মধ্যপাড়া গ্রামের মোছাম্মদ কমলা, আয়েশা আক্তার ও আমাটিশিবপুর গ্রামের ফাতিমা আবেগাপ্লুত হয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তারা দুই হাত তুলে কেঁদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করেন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com