চার মাস পর কমিটি পেল ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২১ । ২১:৩৪ | আপডেট: ০১ আগস্ট ২১ । ২২:৫৮

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর চার মাস ছিল নেতৃত্বশূন্য। অবশেষে আংশিক কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। একই সঙ্গে মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমিটিরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নেতৃত্বে আসা ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, পুরোনো বদনাম ঘুচিয়ে ঢেলে সাজানো হবে ছাত্রলীগকে। প্রাধিকার পাবে সৎ, যোগ্য ও ত্যাগী নেতারাই।

শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হয় জেলা ছাত্রলীগের কমিটি। সভাপতি করা হয়েছে মোহাম্মদ আল আমিনকে ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন হুমায়ুন কবির। ৪৬ সদস্যের কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও ২৪ জন সহসভাপতি, ৯ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ৯ জন সাংগঠনিক সম্পাদক ও দু'জন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রয়েছেন। একই দিন আগামী তিন মাসের জন্য মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে নওশেল আহমেদ অনিকে। ৩৪ সদস্যের কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে সাতজনকে। রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির দুই সদস্যও।

চলতি বছরের ২৮ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি। জেলা ছাত্রলীগ কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় বিলুপ্ত ঘোষণা করার কথা বলা হয় এতে। একই সঙ্গে মাত্র চার দিন আগে গঠিত ত্রিশাল উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। ২০১৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এক বছর মেয়াদি জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

জেলা ছাত্রলীগের কাছে ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, ঈশ্বরগঞ্জ, গৌরীপুর ও নান্দাইল উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়ার নির্দেশনা আসে কেন্দ্র থেকে। গত ২৪ মার্চ ত্রিশাল ও গৌরীপুর ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়া হয়। ত্রিশাল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন স্থানীয় সাংসদের ছেলে হাসান মাহমুদ। ২০১২ সালে গঠিত কমিটিতে সভাপতি হয়েছিলেন তিনি। নতুন কমিটি ঘোষণার পর নবনির্বাচিত সভাপতি সাব্বির আহমেদ সানির বয়স নিয়ে প্রশ্ন ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সভাপতির বয়স সংগঠনের বেঁধে দেওয়া বয়সের চেয়ে বেশি ছিল। তবে ত্রিশাল ও জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছিল এমন গুঞ্জন শুরু হয় নেতাকর্মীদের মাঝে। সে সময় বিলুপ্ত জেলা ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি রকিবুল ইসলাম রকিব জানিয়েছিলেন, কমিটি ভাঙার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ তাদের জানা নেই। ত্রিশালের কমিটিতে প্রকৃত ছাত্রলীগ ছিল। কোনো সমস্যা ছিল না। 

গৌরীপুর কমিটির সভাপতির বয়স না থাকলেও কেন্দ্র যেভাবে বলেছে, সেভাবে দেওয়া হয়েছে। অনৈতিক সুবিধা তারা নেননি। তিনি আরও বলেন, কমিটি ভাঙার আগে তাদের মতামতও নেওয়া হয়নি। ছাত্রলীগের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে বিদায়টা সুন্দর হতে পারত।

নবগঠিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আল আমিন সমকালকে বলেন, নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের জায়গা পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়া। তাদের প্রথম কাজ হবে কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ করা। মেয়াদোত্তীর্ণ সব কমিটি নতুন করে সৎ, যোগ্য ও একনিষ্ঠ কর্মীদের নেতৃত্বে গঠন করা হবে। তিনি বলেন, বিগত দিনের যে দোষারোপ রয়েছে তা ঘুচিয়ে যোগ্য ও ভালো সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে জেলা ছাত্রলীগকে ঢেলে সাজানো হবে। আমরা আশ্বস্ত করতে চাই, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কোনো কমিটি গঠন করা হবে না।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com