নিম্নমানের বাইসাইকেল, ফিরে গেলেন গ্রাম পুলিশ

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২১ । ২২:৩৬ | আপডেট: ০৫ আগস্ট ২১ । ১৩:৩৪

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

ঠিকাদার নিম্নমানের বাইসাইকেল সরবরাহের চেষ্টা করেছিলেন। ছবি: সমকাল

স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে গ্রাম পুলিশের মাঝে বিতরণ করার জন্য বাইসাইকেল কেনা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো এতই নিম্নমানের যে, গাইবান্ধায় গ্রাম পুলিশরা বাইসাইকেল না নিয়েই ফিরে গেলেন। 

অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার নিম্নমানের বাইসাইকেল সরবরাহের চেষ্টা করেছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, নমুনার সঙ্গে মিল না থাকলে ঠিকাদারের কাছ থেকে বাইসাইকেল নেওয়া হবে না।

গাইবান্ধা জেলার সাত উপজেলার ৮১ ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত গ্রাম পুলিশের (দফাদার ও মহল্লাদার) ২০২০-২১ অর্থবছরে পোশাক ও সরঞ্জামাদি বিতরণের জন্য এক কোটি চার লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয় বরাদ্দে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে রংপুর, গাইবান্ধা, খুলনা ও ঢাকার ঠিকাদাররা অংশ নেন। এর মধ্যে গাইবান্ধা শহরের ঠিকাদার নজরুল হকের সিয়াম স্টোর মালপত্র সরবরাহের কার্যাদেশ পায়। 

সিডিউল অনুযায়ী পুরুষদের ৭৯০টি ও মহিলাদের ২০টি ইন্ডিয়ান-বিএসএ/হিরো/দুরন্ত বাংলাদেশি সাইকেল সরবরাহ করার কথা। কিন্তু ঠিকাদার নজরুল হক বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জোড়া দিয়ে নিম্নমানের বাইসাইকেল তৈরি করে হিরো স্টিকার লাগিয়ে তা বিতরণের চেষ্টা করেন। গত ২৯ জুলাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সদর উপজেলার গ্রাম পুলিশের মাঝে বিতরণ করতে গেলে পুলিশরা এসব নিম্নমানের বাইসাইকেল গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বাইসাইকেল বিতরণ স্থগিত করা হয়।

গ্রাম পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সন্তোষ কুমার বলেন, ২৯ জুলাই গ্রাম পুলিশদের বাইসাইকেল দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে বিতরণের জন্য সাজিয়ে রাখা সাইকেলগুলো সিডিউল মোতাবেক 'হিরো' ব্র্যান্ডের না হওয়ায় কেউ সেগুলো নেয়নি। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরে সিডিউল মোতাবেক সাইকেল বুঝিয়ে নেওয়ার পর হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে অভিযুক্ত ঠিকাদার নজরুল হক বলেন, যথানিয়মে দরপত্রে অংশ নিয়ে তিনি বাইসাইকেল সরবরাহের কার্যাদেশ পান। বাইসাইকেলগুলো কোনোভাবেই নিম্নমানের নয়। স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের ইন্ধনে গ্রাম পুলিশরা বাইসাইকেল গ্রহণ করেননি।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রোখছানা বেগম বলেন, বিতরণ করার জন্য নয়, তাদেরকে সাইকেলগুলো দেখানোর জন্য ডাকা হয়েছিল। আমাদের কাছে জমা দেওয়া নমুনার সঙ্গে মিল না থাকলে ঠিকাদারের কাছ থেকে সরবরাহ নেওয়া হবে না।

সিপিবির জেলা সভাপতি মিহির ঘোষ বলেন, গ্রাম পুলিশদের বাইসাইকেল সরবরাহে অনিয়ম ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। দীর্ঘদিন ধরে নজরুল হক একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিম্নমানের জিনিস সরবরাহ করে আসছেন। গ্রাম পুলিশদের বাইসাইকেল সরবরাহে অনিয়মের এখনও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। শিগগিরই এই অনিয়ম তদন্তে কমিটি গঠন ও জড়িতদের শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com