নিম্নমুখী ধারায় শেয়ারবাজার

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২১ । ১৩:৩২ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২১ । ১৩:৩২

সমকাল প্রতিবেদক

দেশের শেয়ারবাজারের লেনদেন ও শেয়ারদর গত বৃহস্পতিবারের মত আজ রোববারও নিম্নমুখী ধারায়। দুপুর ১টায় প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ১৫৭ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড যখন দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল, তার বিপরীতে ১৮৬ শেয়ার ও ফান্ড দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছিল ৩২ শেয়ার।

বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমার প্রভাব বাজার মূল্য সূচকেও দেখা গেছে। ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ১৪.৯৯ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৮৩৬.৩২ পয়েন্টে অবস্থান করতে গেছে। 

যদিও লেনদেনের শুরুতে বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধির ওপর ভর করে সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর মাত্র ৬ মিনিটে ডিএসইএক্স সূচক গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ৬৮৭৫.৯৬ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠেছিল।

পরের ১৯ মিনিটে সূচকটি ৩২ পয়েন্ট হারিয়ে সোজা ৬ হাজার ৮৩৮ পয়েন্টে নামে। এর পর দুপুর ১টা পর্যন্ত অন্তত দুই দফায় সূচকের উত্থান ও পতন দেখা গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, একদিনে রাতারাতি অনেক শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি, অন্য দিকে শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর অনিয়ম তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপের ফল হতে পারে শেয়ারবাজারের এ নি¤œমুখী ধারার কারণ।

বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, কৌশলী বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ গত কয়েকদিন সতর্কভাবে শেয়ার কেনাবেচা করছেন। তাদের শেয়ার কেনার পরিমাণ কমেছে। তবে অন্য একটি পক্ষ বৃহৎ মূলধনী কোম্পানির শেয়ার কিনে সূচকটি ঊর্ধ্বমুখী রাখতে চেষ্টা করছে।

আজকের লেনদেনের তিন ঘণ্টা শেষে যেসব খাতের সিংহভাগ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল, সেগুলো হলো- বীমা, চামড়া ও চামড়জাত পণ্য এবং পাট খাত।

বিপরীতে যেসব খাতের সিংহভাগ শেয়ার দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল, সেগুলো হলো- ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, টেলিযোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। 

বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়নসহ অন্য সব খাতে ছিল মিশ্রধারা।

৮ থেকে পৌনে ১০ শতাংশ দর বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল দুলামিয়া কটন, মুন্নু ফেব্রিক্স এবং রহিমা ফুড। এর মধ্যে প্রথম ও তৃতীয়টির উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বহু বছর বন্ধ আছে।

দুপুর ১টায় ১৩টি শেয়ার গতকালের তুলনায় ৫ শতাংশ দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। বাকি দশ শেয়ার হলো- দেশবন্ধু পলিমার, বিডি অটোকার, নর্দার্ন জুট, আজিজ পাইপস, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, আল-হাজ্ব টেক্সটাইল, শাহজিবাজার পাওয়ার এবং জিকিউ বলপেন।

বিপরীতে ৮ শতাংশ দর হারিয়ে দরপতনের শীর্ষে ছিল সাউথবাংলা ব্যাংক। 

৫ শতাংশের ওপর দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল মিথুন নিটিং এবং সিএনএ টেক্সটাইল। তালিকাভুক্তির ১২তম কার্যদিবসে শেয়ারটি এখন ২২ টাকা ৬০ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছে। অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দরে আইপিওতে শেয়ার বিক্রি করা এ কোম্পানির শেয়ারদর গত বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ২৮ টাকায় কেনাবেচা হয়েছিল।

দুপুর ১টা পর্যন্ত ডিএসইতে ১ হাজার ১৪২ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল।

এর মধ্যে একক কোম্পানি হিসেবে ৫১.২১ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। ৪৫.৩৫ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে সাইফ পাওয়ার।

১৭৩ কোটি টাকার বা ১৪.৪৭ শতাংশ লেনদেন নিয়ে খাতওয়ারি লেনদেনের শীর্ষে ছিল বস্ত্র খাত। ১৬৬ কোটি টাকার বা ১৩.৯২ শতাংশ লেনদেন নিয়ে এর পরের অবস্থানে ছিল বীমা খাত।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com