ডিক্যাব টকে মিয়া সেপ্পো

বাংলাদেশ চাইলে নির্বাচনে সহায়তা দেবে জাতিসংঘ

২০ সেপ্টেম্বর ২১ । ০০:০০

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ চাইলে জাতিসংঘ সহায়তা দেবে। গতকাল রোববার 'ডিক্যাব টকে' অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেছেন।

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন 'ডিক্যাব' এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ডিক্যাব সভাপতি পান্থ রহমানের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক একেএম মইনুদ্দিন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতিসংঘ নীতি ও রীতি অনুযায়ী কোনো দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে না। তবে কোনো দেশের সরকার সহায়তা চাইলে সহায়তা দেয়। আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার সহায়তা চাইলে সহায়তা দেবে জাতিসংঘ।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারা সম্পর্কে উদ্বেগের বিষয়ে জাতিসংঘ সরকারকে শুরুতেই জানিয়েছে। এ আইনের অপপ্রয়োগ রোধেও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ সব সময়ই নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় সমর্থন করে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে অনেকে দীর্ঘমেয়াদি সংকট বলছেন। কিন্তু এ সংকটের সমাধান দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকুক, এটা কারোরই কাম্য নয়। প্রকৃতপক্ষে কোনো সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে সেই সংকটের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে বাংলাদেশ শুধু নয়, অন্যান্য দাতা সংস্থা, বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র এবং জাতিসংঘকেও তৎপরতা চালিয়ে যেতে হবে যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে রোহিঙ্গা সংকট ভুলে যাওয়া ঘটনায় পরিণত না হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে মানবিক সহায়তা ও সম্পদের পর্যাপ্ত জোগানও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকটের ক্ষেত্রেও এটা একটি উদাহরণ।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যেমন বিপন্ন রোহিঙ্গাদের জরুরি মানবিক সহায়তা দিয়েছে, তেমনি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে সংকট সমাধানে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াতেও সক্রিয় রয়েছে। তবে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো একমত না হওয়ার কারণে এ সংকটের কার্যকর সমাধান করা যাচ্ছে না।

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মিয়া সেপ্পো বলেন, সেখানে বাংলাদেশ সরকার বিশাল বিনিয়োগ করেছে। এর লক্ষ্য ছিল ওই এলাকাকে বাসযোগ্য করা। শরণার্থী সুরক্ষা সংস্থা হিসেবে ইউএনএইচসিআরও তা চায়। এখন সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের আলোচনা চলছে। সরকারি উদ্যোগ এবং এনজিওগুলোর সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে জাতিসংঘ।

আরেক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, তিনি মনে করেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের শর্ত হিসেবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের রেখে দেওয়ার বিষয়টিতে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে শরণার্থীদের জন্য তহবিল দেওয়ার ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের একটি বৈশ্বিক নীতি ও কাঠামো আছে। এই নীতিতে সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। বিশ্বব্যাংক সেটিই বলতে চেয়েছে। কিন্তু এর মানে এটা নয়, বিশ্বব্যাংক কিংবা জাতিসংঘ বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি শর্ত হিসেবে দিচ্ছে। বরং এখানে সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নয়, সামাজিক সংহতি বোঝানো হয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব দেশে শরণার্থী আছে সেই সংকট মোকাবিলায় সেই দেশগুলো নিজস্ব নীতি গ্রহণ করে। বিভিন্ন দেশের নীতিতে পার্থক্য থাকে। একইভাবে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের নিজস্ব নীতি রয়েছে। সেই নীতির ভেতরেই বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য তহবিল ব্যবস্থার সংস্থান করে বিশ্বব্যাংক এবং এই অর্থায়নের বড় অংশীদার জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা। বিশ্বব্যাংকের এই অর্থায়ন সংকট মোকাবিলায় সহায়তারই অংশ।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com