দম্ভ দেখাতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়াল ছাত্রলীগ

শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিকসহ আহত ২০

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২১ । ২২:২৬ | আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২১ । ২২:২৬

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

শ্রীমঙ্গলে নারী চা শ্রমিকদের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে চা বাগান শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সমকাল

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নারী চা শ্রমিকদের ছবি তোলা নিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে চা বাগান শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার দুপুরের এ ঘটনায় ইস্পাহানী জেরিন চা বাগানের ম্যানেজারসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় গ্র্যান্ড মোবিন রিসোর্ট নামে একটি গেস্ট হাউসের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ইব্রাহিম হোসেন, আবিদ হোসেন, মামুন মিয়া, মেহেদী হাসান, রাজ্জাক মিয়া, আনোয়ার হোসেনসহ ২০-২২ জন শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসেন। তারা ওঠেন উপজেলার রাধানগর এলাকার গ্র্যান্ড মোবিন রিসোর্টে। দুপুর ১২টার দিকে তারা রিসোর্টের পাশে ইস্পাহানী চা কোম্পানির জেরিন বাগানে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা চা পাতা সংগ্রহরত নারী শ্রমিকদের ছবি তোলেন। এ সময় শ্রমিকরা বিনা অনুমতিতে কাঁটাতারের বেড়া পেড়িয়ে চা বাগানে প্রবেশ এবং অপ্রস্তুত অবস্থায় তাদের ছবি তুলতে নিষেধ করেন। তাদের নিষেধ সত্ত্বেও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আবারও ছবি তোলার চেষ্টা করলে নারী শ্রমিকরা বাগানের কর্মকর্তাদের খবর দেন। খবর পেয়ে বাগানের ডেপুটি ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী এসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাগান থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। এ কথা বলার পরপরই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মোহাম্মদ আলীকে টেনেহিঁচড়ে রিসোর্টের ভেতর নিয়ে যান। এ ঘটনা দেখে শ্রমিকরা বাগানের 'পাগলা ঘণ্টা' বাজালে বাগানজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকশ চা শ্রমিক মোবিন রিসোর্টে হামলা চালিয়ে দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এতে চা শ্রমিক ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২০-২২ জন আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা জন্য রিসোর্ট থেকে বের করে শ্রীমঙ্গল শহরের দিকে পাঠিয়ে দেয়।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে বাগানের ডেপুটি ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী, কর্মচারী আব্দুল কাদির, চা শ্রমিক সুতি সাংমা, আলো মণি বাড়ই, অনিতা গোয়ালা, ভারতী, অঞ্জলি বাপতি, সন্ধ্যা সংকর, বিশ্ব মণি, পারুল বেগম, মামুন মিয়া, ইন্দ্রজিত দাস ও উত্তম গোয়ালাকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকিরা বাগানের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

গ্র্যান্ড মোবিন রিসোর্টের পরিচালক ইসরাত জাহান মিতু বলেন, চা শ্রমিকদের হামলায় আমাদের ৮-১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া সাড়ে ১৬ হাজার টাকা ভাড়া এবং ১৪ হাজার ৬৪০ টাকার খাবারের বিল বকেয়া রেখে অতিথিরা চলে যান। এ টাকা পাব কিনা, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

জেরিন চা বাগানের জেনালের ম্যানেজার সেলিম রেজা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, যা হওয়ার হয়েছে, এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করতে চাই না।

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (অপারেশন) নয়ন কারকুন বলেন, ছবি তোলা নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে শুনেছি। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com