গ্যাস সংকটে সক্ষমতার অর্ধেক উৎপাদন বন্ধ

বিটিএমএর সংবাদ সম্মেলনে আরও এলএনজি আমদানির দাবি

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২১ । ০০:০০ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২১ । ০১:৫৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

কয়েক দিন ধরে বস্ত্র খাতের কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিক কম। এ কারণে বস্ত্রকলগুলো সক্ষমতার অর্ধেক পণ্যও উৎপাদন করতে পারছে না। অথচ হাতে এখন পর্যাপ্ত রপ্তানি আদেশের চাপ। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে হারাতে হবে বস্ত্র ও পোশাকের বাজার।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র শিল্পকারখানায় গ্যাস সংকটের চিত্র এবং বাজার হারানোর শঙ্কার কথা তুলে ধরেন বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতারা। এই সংকট সমাধানে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

রাজধানীর হোটেল লেকশোরে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার টার্মিনাল করেছে। এর পরও সমাধান না হলে বস্ত্র খাতে বিপর্যয় নেমে আসবে। তিনি বলেন, 'শিল্প শ্রমিক ও দেশের স্বার্থে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে আমরা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস চাই, প্রণোদনা চাই না।'

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের মধ্যে নিটওয়্যারের ৯০ শতাংশ আর ওভেন পোশাকের ৪০ শতাংশ স্থানীয় টেক্সটাইল মিলগুলো সরবরাহ করছে। এ ছাড়া স্থানীয় বস্ত্র খাতের পুরো চাহিদাও মেটাতে সক্ষম টেক্সটাইল মিলগুলো। স্থানীয় এই বস্ত্রের বাজার ৮০০ কোটি ডলার।

গ্যাসের সংকট তুলে ধরে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ থাকার কথা প্রতি বর্গইঞ্চিতে (পিএসআই) ১৫ পাউন্ড। কিন্তু কোনো কোনো কারখানায় এই চাপ মাত্র এক দশমিক পাঁচ পিএসআই। কোনো কোনো কারখানায় শূন্য। বড় বিনিয়োগের ১৩টি কারখানার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কারখানার গ্যাসের চাপ সর্বনিম্ন দেড় পিএসআই পর্যন্ত। একদিকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে ইলেকট্রনিক গ্যাস ভলিয়ম কারেক্টর (ইভিসি) মিটার না থাকায় গ্যাস ব্যবহার না করেও অতিরিক্ত বিল দিতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের।

গ্যাস সংকটগ্রস্ত কয়েকটি এলাকার নাম উল্লেখ করে মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, ধামরাই, সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে অবস্থিত টেক্সটাইল মিলগুলোয় গ্যাসের চাপ সবচেয়ে কম। এ কারণে স্থানীয় মিলগুলো বেশি সংকটে আছে। কোটি কোটি টাকার মেশিনারিজ বিনষ্ট হচ্ছে। বস্ত্রকলগুলো ক্যাপটিভ জেনারেশনের বিদ্যুতের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সেখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কম্পিউটারাইজড মেশিনারিজ ব্যবহার হয়। ফলে গ্যাসের অব্যাহত সরবরাহ না থাকায় স্পেয়ার পার্টসের ক্ষতি হচ্ছে।

জাতীয় অর্থনীতিতে বস্ত্র খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুততম সময়ে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিটিএমএ সভাপতি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি মো. ফজলুল হক, পরিচালক ইশতেহাক আহমেদ, প্রকৌশলী রাজিব হায়দার প্রমুখ।



© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com