সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক নেতারা

ভয় দেখাতেই ১১ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব তলব

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২১ । ২২:৫৪ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২১ । ২৩:০১

সমকাল প্রতিবেদক

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন সাংবাদিক নেতারা -সমকাল

দেশের সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষ ১১ নেতা বলেছেন, তাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি দেওয়াটা উদ্দেশ্যমূলক। সাংবাদিকদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) দুই অংশ, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ সময় আগামীকাল রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

গত ১২ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে চিঠি দেয়। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজের একাংশের সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, আরেকাংশের সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ডিইউজের একাংশের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, আরেকাংশের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং ডিআরইউর সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়।

এই ১১ জনের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান। তিনি বলেন, দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলব দেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত হতেই পারে। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশায় প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের নামে ঢালাওভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ উদ্দেশ্যমূলক। এই পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দাবি করে মসিউর রহমান খান বলেন, ওই চিঠি গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় সমাজের মানুষের কাছে সাংবাদিক নেতা, সাংবাদিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, এই ১১ নেতার ব্যাংক হিসাবে যদি কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন কিংবা কোনো ধরনের মানি লন্ডারিং কিংবা জঙ্গি অর্থায়নের তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়, তা যেন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। আর যদি কিছুই পাওয়া না যায়, তবে সেটাও যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ব্যাংক হিসাব তলবের কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে। অস্বাভাবিক লেনদেন কিংবা জঙ্গি অর্থায়নে সহায়তার সন্দেহ থাকলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক হিসাব চাওয়া হয়। কিন্তু এই ১১ নেতার বিরুদ্ধে এ রকম কোনো অভিযোগের কারণ নেই। তিনি বলেন, তথ্যমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

মোল্লা জালাল বলেন, চিঠি দেওয়ার পর তথ্য পাওয়ার আগেই ব্যাংক হিসাব তলবের খবর গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে হেয় করতেই এই চিঠি। সাংবাদিকদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেই এই কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এটি উদ্দেশ্যমূলক এবং স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার জন্য হুমকি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com