এস কে সুর, শাহ আলমকে তলব করবে দুদক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২১ । ০০:০০ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২১ । ০২:৩৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

হকিকত জাহান হকি

অর্থ লোপাটের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর এবং বর্তমান নির্বাহী পরিচালক শাহ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় কমিশন থেকে তাদের কাছে তলবি নোটিশ পাঠানো হবে। দুদক সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, ফাস ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। কমিশনের এ-সংক্রান্ত অনুসন্ধান দল এরই মধ্যে অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছে।

দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের তদারকিতে উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি অনুসন্ধান দলের সদস্যরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই সব নিরীক্ষা প্রতিবেদন খতিয়ে দেখছেন। প্রতিবেদনে ফাস ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ঋণের নামে ঢালাওভাবে অর্থ আত্মসাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের ওই দুই কর্মকর্তার সংশ্নিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

কোনো রকম জামানত ছাড়া, প্রতিষ্ঠানের বিধিবিধান লঙ্ঘন করে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, পিপলস লিজিং, ফাস ফাইন্যান্সের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে পি কে হালদার চক্র। সম্প্রতি দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক এমডি রাশেদুল হক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, পি কে হালদারের ক্ষমতার উৎস ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর ও নির্বাহী পরিচালক শাহ আলম। পি কে হালদার বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সুবিধা ও মূল্যবান উপঢৌকন দিয়ে খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের ওই দুই কর্মকর্তাকে বসে রেখে দুর্নীতির মাধ্যমে অবাধে অর্থ লোপাট করেছেন।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পি কে হালদার তার বিশ্বস্ত সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেছেন কমবেশি ২০টি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান। ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে ওই সব অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকার ঋণ। অস্তিত্বহীন ওই সব প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া অর্থ জমা হয়েছে পি কে হালদারসহ তার ঘনিষ্ঠজনের ব্যাংক হিসাবে।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, পি কে হালদারের দুর্নীতির সময়কালে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের দায়িত্ব শাহ আলমের হাতে ছিল। এই যোগসূত্র থেকে পি কে হালদার ও শাহ আলমের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও উচ্চ পর্যায়ে যেতে পেরেছিলেন পি কে হালদার।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক এমডি রাশেদুল হক চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনেক তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি দুদকের মামলায় রিমান্ড শেষে গত ২ ফেব্রুয়ারি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে শাহ আলমের নাম এলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। শুধু তাকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে সরিয়ে অন্য বিভাগের দায়িত্ব দেয়।

ওই সময় এস কে সুর ও শাহ আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির রেকর্ডভিত্তিক কোনো তথ্যপ্রমাণ না থাকায় দুদক তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি বলে জানান এক কর্মকর্তা। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান দুই কর্মকর্তার দুর্নীতির বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। তাই দুদক তাদের তলব করছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com