উন্নয়নশীল দেশগুলোকেও টিকা উৎপাদনের সুযোগ দেওয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২১ । ০১:১৮ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২১ । ০১:৪৮

অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কার্যকরভাবে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস টিকা দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষেধকটিকে ‘বৈশ্বিক জনস্বার্থ সামগ্রী’ হিসেবে ঘোষণা করা দরকার। একইসঙ্গে তিনি টিকার সার্বজনীন অধিকার নিশ্চিত করতে সক্ষমতা রয়েছে এমন উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোকেও টিকা উৎপাদনের সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন।

বুধবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত কভিড-১৯ সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান। ‘হোয়াইট হাউস গ্লোবাল কভিড-১৯ সামিট: এন্ডিং দ্য প্যানডেমিক অ্যান্ড বিল্ডিং ব্যাক বেটার হেলথ সিকিউরিটি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে পূর্বে ধারণকৃত বক্তব্যে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। খবর বাসসের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ভার্চুয়ালি শীর্ষ এ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সম্মেলনে ভাষণে জো বাইডেন কভিড-১৯ মহামারি অবসানে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার জন্য রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ব্যবসায়ী এবং বেসরকারি নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জার্মান চ্যান্সলর এঞ্জেলা মার্কেল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো, আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসা এবং জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সরকার কভিড-১৯ মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তিন ধাপ পন্থা অবলম্বন করেছে। প্রথমত, জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা, যন্ত্রপাতি, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ এবং সম্পদ বরাদ্দ করা হয়েছে। এ পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে, আমাদের নাগরিকদের, বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা সুরক্ষায় সহায়তা প্রদান করা এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ পুনরুদ্ধার করা।

তিনি বলেন, আমরা প্রথমে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং সামাজিক সুরক্ষা নেট কর্মসূচির ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নীতির দিকে মনোনিবেশ করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয়ত. সরকার টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করছে, যেখানে উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আর তৃতীয়ত,  জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং কম কার্বণ নিঃসরণের দিকে মনোনিবেশ করা হচ্ছে।

কভিড-১৯ মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারি উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ১৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ বরাদ্দ করেছি। দরিদ্র, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীসহ ৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন সুবিধাভোগীদের ১৬৬ মিলিয়ন ডলার বিতরণ করেছি।

তিনি এও বলেন, বাংলাদেশে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৫ মিলিয়নের বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২২ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে আমাদের জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ লোককে টিকা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা প্রতি মাসে ২০ মিলিয়ন মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com