লকডাউন আর ঈদের ছুটিতে বেড়েছে ডেঙ্গু: তাজুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২১ । ১৬:৩০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২১ । ১৬:৩২

সমকাল প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন লকডাউন ও ঈদের ছুটির সময় রাজধানীবাসী ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়ায়  গত বছরের তুলনায় এবছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘জলবায়ুর প্রভাব থাকলেও সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে লকডাউন এবং ঈদের ছুটি। এ সময় অনেকেই বাসা বাড়ি ছেড়ে নিজ এলাকায় যাওয়ায় এবং নির্মাণ শ্রমিকরা ছুটিতে থাকায় এডিস মশার প্রভাব কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। মে-জুন থেকে আরম্ভ করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত এডিস মশার প্রকোপ বেশি থাকে সময়। কারণ এসময় থেমে থেমে বৃষ্টি হয়।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘ইইউ সাপোর্ট টু হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন টু দ্য পুওর ইন আরবান বাংলাদেশ’ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব .কথা বলেন।

এসময় তাজুল ইসলাম বলেন, নগরবাসীর সচেতনতা, জলবায়ু পরিবর্তন, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্মক কার্যক্রমের ফলে আগামী এক মাসের মধ্যেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। 

চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক হাজারের বেশি রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ রোগী কেবল রাজধানীতেই রয়েছেন। এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫৯ জন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। সকাল-বিকেল নিয়মিত স্প্রে করা হচ্ছে। কিভাবে এডিস মশার প্রজনন ধ্বংস করা যাবে সেসব বিষয়ে মানুষকে ভিন্নভাবে সচেতন করা হয়েছে। আমি আশা করি,মাসখানের মধ্যেই এডিস মশা একটি সহনশীল জায়গায় চলে আসবে।’

তিনি জানান, ‘ডেঙ্গু একটি গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ। শুধু বাংলাদেশই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে না, এশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশেই এই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা করছে। ডেঙ্গু মোকাবেলায় যে সকল দেশ সফলতা পেয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা এবং আমাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।’

মো. তাজুল ইসলাম জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে প্রতি বছর দশ কোটি থেকে ৪০ কোটি পর্যন্ত মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয় এবং সাত লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। 

তার দাবি, ২০১৯ সালে আমাদের দেশে মারাত্মক আকার ধারন করলেও ২০২০ সালে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে  ‘সক্ষম হয়েছিল’ তার মন্ত্রণালয়।

এর আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন,‘পৌরসভাগুলোকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে সরকার। ইতিমধ্যে কিছু পৌরসভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু জনবল সংকট রয়েছে। আগামী ২ বছরের মধ্যে পৌরসভাগুলি তাদের সঙ্কট কাটিয়ে সক্ষমতা অর্জন করবে।’ 

গ্রামীণ এলাকার তুলনায় নগর এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা কিছুটা ভালো হলেও তা ‘সন্তোষজনক অবস্থায় নেই’  বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘পৌরসভাগুলোতে স্বাস্থ্য সেবায় পর্যাপ্ত জনবল নেই । এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে করে তারা নিজেরা নাগরিক সেবা প্রদান করতে পারে।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মরণ কুমার চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মোঃ আলী নূর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মেজবাহ উদ্দিন, প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী এবং বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধি মি. মারিজিও চিয়ান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

‘ইইউ সাপোর্ট টু হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন টু দ্য পুওর ইন আরবান বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক সরাসরি নির্বাচিত এনজিওর মাধ্যমে চারটি সিটি করপোরেশন, দশটি পৌরসভা এলাকায় ৫ লাখ ৩হাজার ৬২৭টি পরিবারকে বিনামূল্যে ভাউচার কার্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। 

এছাড়া দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পৌরসভার ৩ হাজার ৬১৮ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং পৌরসভা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১ হাজার ৮০১ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।


© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com