সা ক্ষা ৎ কা র

ছোট প্রতিষ্ঠান সহজেই পুঁজি সংগ্রহ করতে পারবে

০৯ অক্টোবর ২১ । ০০:০০

মো. সহিদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অরিজা এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ

সমকাল :গত ৩০ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারে এসএমই খাতের কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে অরিজা এগ্রো। কী পরিপ্রেক্ষিতে আপনার কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলো?

মো. সহিদুল ইসলাম :আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- মূল পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত হওয়া। সে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমাদের কোম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জের এসএমই প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আশা করছি, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কোম্পানিটিকে আমরা মূল বাজারেও নিয়ে যেতে সক্ষম হবো।

সমকাল :এর আগে পুঁজির প্রয়োজনে আপনারা ব্যাংক ঋণ নিয়েছেন। এখন পুঁজিবাজার থেকে মূলধন নিলেন। দুটো দুই ধরনের অর্থায়ন। এক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতা কী?

মো. সহিদুল ইসলাম :একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করতে ঋণ ও পুঁজি দুই ধরনের অর্থায়নই প্রয়োজন। এই দুই ধরনের অর্থায়নের সামঞ্জস্যপূর্ণ ভারসাম্য প্রতিষ্ঠানটির সুষ্ঠু পরিচালনা এবং আয় ও পরিসর বৃদ্ধির অন্যতম নিয়ামক। ঋণের বাধ্যবাধকতা একটু বেশি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা সুদসহ পরিশোধ করতে হয়। এটা একদিক থেকে ভালো যে, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদের ওপর ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি আনার চাপ থাকে। আবার নির্দিষ্ট মেয়াদে পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা চক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না, যা প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা হিসেবে কাজ করে। পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে এ ধরনের সীমাবদ্ধতা কম। অন্যদিকে এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে জবাবদিহিতার বাধ্যবাধকতা আছে। দুই ধরনের অর্থায়নের সুষম মিশ্রণই ব্যবসা পরিচালনার জন্য আদর্শ।

সমকাল :পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ কী?

মো. সহিদুল ইসলাম :সরকার পুঁজিবাজার উন্নয়নে অত্যন্ত উদ্যোগী। সে লক্ষ্য অর্জনে বিএসইসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বর্তমান কমিশন এবং ডিএসই ও সিএসই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাই পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের প্রক্রিয়া আগের চেয়ে সহজ হচ্ছে ধীরে ধীরে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তা আরও কমিয়ে আনতে পারলে পুঁজি সংগ্রহ আরও সহজ হবে বলে মনে করি।

সমকাল :চাহিদা অনুযায়ী তহবিল বা মূলধন পাওয়ার ক্ষেত্রে এসএমই খাতের জন্য পুঁজিবাজার কতটা সহায়ক বলে মনে করছেন?

মো. সহিদুল ইসলাম :যেহেতু মূল পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাধ্যবাধকতা আছে, বিশেষ করে নূ্যনতম পুঁজির প্রয়োজনীয়তা থাকে, তাই ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো এ বাজার থেকে পুঁজি উত্তোলন করতে পারে না। তাদের জন্য প্রয়োজন আরও সহজ শর্তে পুঁজি উত্তোলনের সুযোগ করে দেয় এমন একটা বাজার। এক্ষেত্রে এসএমই এক্সচেঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই এক্সচেঞ্জ থেকে উত্তোলনের ক্ষেত্রে নূ্যনতম প্রাথমিক পুঁজি বা মুনাফা করার প্রয়োজন নেই। তাই ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই এখান থেকে মূলধন উত্তোলন করতে পারবে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপগুলোও তাদের প্রয়োজনীয় পুঁজি সংগ্রহ করতে পারবে। আমাদের প্রতিবেশী ভারতে এসএমই এক্সচেঞ্জ আছে। চীনও এসএমই এক্সচেঞ্জ চালু করবে সামনে। যুক্তরাষ্ট্রে স্মল ক্যাপিটাল এক্সচেঞ্জ আছে। তাই আমাদের সামনে অনুসরণ করার মতো অনেক মডেল বিদ্যমান।

সমকাল :দেশের এসএমই খাত পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্তির জন্য কতটা এগিয়েছে?

সহিদুল ইসলাম :দেশের এসএমই খাত এখনও অনেকটাই অগোছালো। বেশিরভাগই ব্যক্তিমালিকানাধীন, মানে লিমিটেড কোম্পানি না। ফলে তাদের বেশিরভাগেরই অডিট ঠিকমতো হয় না। তাই সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি অনেকটাই অনুপস্থিত। ফলে এখনই অনেক কোম্পানির পক্ষে এই এক্সচেঞ্জে লিস্টেড হওয়া সম্ভব না। কিন্তু এই এক্সচেঞ্জ চালু হওয়ার কারণে পুঁজি উত্তোলনে আগ্রহী এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সেভাবে গুছিয়ে নেবে বলে আশা করছি।

সমকাল :এসএমই খাতের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আপনার

পরামর্শ কী?

মো. সহিদুল ইসলাম :স্টক এক্সচেঞ্জের এসএমই প্ল্যাটফর্মে যারা তালিকাভুক্ত হতে চায়, তাদের প্রাইভেট বা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে ইনকরপোরেশন করানো উচিত। অ্যাকাউন্টস সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা প্রয়োজন। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাজারে আসার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শেখ আবদুল্লাহ

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com