নীলিমা ইব্রাহিম জন্মশতবার্ষিকী

নারী জাগরণের পথিকৃৎ

প্রেরণাময়ী মহীয়সী

১০ অক্টোবর ২১ । ০০:০০

আনোয়ারা সৈয়দ হক

বাংলার নারী অগ্রযাত্রা ও ক্ষমতায়নে অন্যতম পথিকৃৎ নীলিমা ইব্রাহিম। তিনি একাধারে ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক এবং সমাজকর্মী। মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসন এবং তাদের মর্মস্পর্শী বেদনা ও সংগ্রামের প্রকাশে তার অবদান স্মরণীয়। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছেন মহীয়সী এই নারী। ১১ অক্টোবর তার জন্মশতবার্ষিকী; তাকে নিয়ে এই আয়োজন...

নীলিমা ইব্রাহিম বাংলার নারী জাগরণের পথিকৃতদের মধ্যে একজন। নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে আজন্ম নারীর আত্মোন্নয়নে কাজ করেছেন।

তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক। তিনি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন জনগণের শিক্ষক। তিনি যা বলে গিয়েছেন, যা লিখে গিয়েছেন তার কর্মের সঠিক মূল্যায়ন হয়তো হয়নি কিন্তু আগামীতে হবে সে আশা করি।

বাংলার নারী জাগরণের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম ড. নীলিমা ইব্রাহিম। যিনি আজন্ম নারীর আত্মোন্নয়নের জন্য কাজ করে গিয়েছেন। সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন।

তার কর্মের ব্যাপ্তি বিশাল। পার্থিব জীবনের যেদিকে দৃষ্টিপাত করা যায়, সেদিকেই তিনি উজ্জ্বল তারার মতো দেদীপ্যমান। শিক্ষায়, সাহিত্যে, সমাজসেবায়, অর্থনীতি চিন্তায়, রাজনীতির বাস্তবতায় এবং নারীর সঠিক পরিচয় নির্ণয়ে তার আছে নিরলস সাধনা।

তার সবচেয়ে বড় কাজ ছিল বীরাঙ্গনাদের নিয়ে তার লেখা বই। যেখানে তিনি সর্বপ্রথম বীরাঙ্গনাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশের মানুষের মনে ঘণ্টা বাজালেন অর্থাৎ সচেতন করলেন বীরাঙ্গনাদের নিয়ে। সমাজে থেকেও নিভৃতে দুর্দশার মধ্য দিয়ে কীভাবে বীরাঙ্গনারা বসবাস করছেন, তা তিনিই প্রথম আমাদের জানালেন। এ ছাড়া তিনি বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেসা নিয়ে অনেক কথা আমাদের জানিয়েছেন। ফজিলাতুন নেসার যে সংগ্রাম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ও পরিবারকে নিয়ে তা নীলিমা ইব্রাহিমের কাছেই বিস্তারিত আমরা জেনেছিলাম।

নীলিমা ইব্রাহিমকে গুটি কয়েক শব্দ দিয়ে বিশেষায়ন করা সম্ভব নয়। কারণ তিনি একাধারে ছিলেন, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সমাজকর্মী, লেখিকা ও নারী জাগরণের অগ্রদূত। মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসনে নীলিমা ইব্রাহিম যে অসামান্য অবদান রেখেছে, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার সাহিত্য ও জীবনকর্মের সঠিক মূল্যায়ন প্রয়োজন। আমি বলব বাংলাদেশ যতদিন থাকবে নীলিমা ইব্রাহিম আপাকে ততদিনই মানুষ মনে রাখবে। বাংলা বহু মহীয়সীর দেখা পেয়েছে, কিন্তু আমাদের আধুনিক সময়ে সমাজ ও জাতীয় জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য নীলিমা ইব্রাহিম একজন তুলনারহিত নারী। আমাদের জন্যে সর্বদাই তিনি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন। তার সাহিত্যও অনুকরণীয়। পুরুষের পাশাপাশি নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার দৃষ্টিভঙ্গির কথাই যেন তার গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয় ছিল। সমাজে অসম বিকাশের জন্য নারী মুক্তির ক্ষেত্রে যে অচলায়তনের সৃষ্টি হয়েছে, তা ভেঙে নারী-পুরুষের সুস্থ-স্বাভাবিক ও আত্মসম্মানসম্পন্ন জীবনলাভই তার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। বাঙালি ও বাংলাদেশের সামাজিক অগ্রযাত্রায় পুরোটা জীবন ধরে ভূমিকা পালন করে গেছেন মহীয়সী এই নারী।

লেখক:কথাসাহিত্যিক

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com