ছেঁড়া পাঞ্জাবি পরায় ছাত্রকে ৩০ বেত্রাঘাত মাদ্রাসা শিক্ষকের

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২১ । ২১:৩৯ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২১ । ২১:৩৯

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ভ্যানের সঙ্গে লেগে গায়ের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায় ১২ বছরের সাবির মাহমুদের। হেফজর ছাত্র সাবির ওই অবস্থায়ই মাদ্রাসায় পৌঁছায়। গায়ের পাঞ্জাবি ছেঁড়া দেখে হাসাহাসি করতে থাকে তার সহপাঠীরা। এ দেখে শিক্ষক হাফেজ আব্দুল মাজেদ ওই ছাত্রদের কিছু না বললেও সাবিরের সঙ্গে করেন নির্মম আচরণ। শিশুটির শরীরে বেত দিয়ে ৩০টি আঘাত করেন তিনি। এতে ক্ষতবিক্ষত হয় সাবিরের শরীর। 

সোমবার বিকেলে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের গন্ধব্যপাড়া তাহফীজুল উম্মাহ ক্যাডেট মাদ্রাসায় ঘটে অমানবিক এ ঘটনা।

ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল মাজেদ গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত শিক্ষার্থী সাবির মাহমুদকে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সে উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের সলিমনগর ভড়পাড়া গ্রামের শামীম আল মামুনের ছেলে। অভিযুক্ত শিক্ষক মাজেদ নাটোরের সিংড়া উপজেলা সদরের জমশেদ আলীর ছেলে।

আহত সাবির জানায়, সে ১৩ পারা ১১ পৃষ্ঠা কোরআন মুখস্থ করেছে। সোমবার দুপুরে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে উপজেলার সোহাগপাড়া বাজারে ভ্যানের সঙ্গে লেগে তার গায়ের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। মাদ্রাসায় যাওয়ার পর হেফজ বিভাগের শিক্ষক আব্দুল মাজেদ তাকে বেদম বেত্রাঘাত করেন। এ সময় সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

সন্ধ্যায় সাবির বাড়িতে গেলে পাঞ্জাবি খোলার পর পরিবারের লোকজন আঘাতের চিহ্ন দেখে বিষয়টি জানতে পারেন। তার শরীরে ৩০টি বেতের আঘাত ফুটে ওঠে। পরে তার অভিভাকরা মাদ্রাসার পরিচালক মাহবুবুর রহমান সোহেল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমানকে বিষয়টি অবহিত করেন। মাদ্রাসার পরিচালক ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সাবিরের বাবা মির্জাপুর থানায় মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওই মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষকদের ডেকে আনেন। এরপর উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল মাজেদকে মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সাবিরের বাবা শামীম আল মামুন বলেন, সোমবার রাতেই ছেলেকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন।

তাহফীজুল উম্মাহ ক্যাডেট মাদ্রাসার পরিচালক মাহবুবুর রহমান সোহেল জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গিয়াস উদ্দিনের কার্যালয়ে বসা হয়েছিল। তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com