‘কোর্ট হিল’ না ‘পরীর পাহাড়’?

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২১ । ১৮:৩৬ | আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২১ । ১৮:৪৯

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের আদালত ভবন এলাকার নাম ‘কোর্ট হিল’ না ‘পরীর পাহাড়’ হবে তা নির্ধারণ করতে এবার আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতি ও জেলা প্রশাসক। 

আদালত ভবনকে ‘পরীর পাহাড়’ হিসেবে উল্লেখ করে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান সম্প্রতি চিঠি চালাচালি করায় তা বন্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন আইনজীবী সমিতি। রোববার চট্টগ্রাম সদর প্রথম সিনিয়র সহকারী জজ ইসরাত জাহান নাসরিনের আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। 

শুনানি শেষে আদালত আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান, জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজমুল হাসান, সহকারী কমিশনার ভুমি বাকলিয়া আতিকুর রহমানসহ চার জনকে আগামী তিন দিনের মধ্যে ‘পরীর পাহাড়’ লেখার উপর নিষেধাজ্ঞা কেন দেওয়া হবে না তার ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মামলার বাদী অ্যাডভোকেট এএইচএম জিয়াউদ্দিন সমকালকে বলেন, ‘ব্রিটিশ আমল থেকে চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকাকে কোর্ট হিল হিসেবে চট্টগ্রামবাসীর কাছে পরিচিত। এখানে সরকারি ডাকঘর, সোনালী ব্যাংকও কোর্ট হিল শাখা হিসেবে সরকার স্বীকৃত। আদালত ভবনের নামফলকে পরীর পাহাড় নাম নেই। সরকারি সব নথিতে কোর্ট হিল লেখা থাকলেও বর্তমান জেলা প্রশাসক যোগদানের পর থেকেই কোর্ট হিলের পরিবর্তে পরীর পাহাড় নাম প্রতিষ্ঠা করতে জেলা প্রশাসক উঠেপড়ে লেখেছেন। তাই আমরা কোর্ট হিলকে পরীর পাহাড় লেখার উপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান বলেন, ‘বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আমরা কোনো বক্তব্য দিবো না। তবে আদালত থেকে নোটিশ পেলে তার আলোকে আমাদের বক্তব্য আমরা আদালতে দাখিল করব।’

প্রায় ১২ একর পাহাড়বেষ্টিত ২৫০ বছরের পুরনো আদালত ভবন এলাকায় জেলা ও মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবন, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। 

এখানে ১৩৫টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের তালিকায় পাঁচটি আইনজীবী ভবন অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে থাকলেও ভবনগুলো চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(সিডিএ) অনুমোদন নিয়ে তৈরি করা হয়। 

এই আইনজীবী ভবনগুলো তৈরি করতে অর্থায়নও করেছে সরকার। ভবনগুলো উদ্বোধনও করেছেন সরকারের মন্ত্রীরা। তাই এ পাহাড়ে থাকা পাঁচ আইনজীবী ভবন ও দুটি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া ভবন তৈরির খাস জায়গা কার কর্তৃত্ব থাকবে তা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে চট্টগ্রামের ডিসি ও আইনজীবী সমিতি। 

যদিও এর মধ্যে ‘পরীর পাহাড়ে’ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দিয়েছেন মর্মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেন। 

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com