নির্দিষ্ট রুটে চলে না গাড়ি, বড় ভোগান্তি ১০ নম্বর রুটে

০৫ ডিসেম্বর ২১ । ০০:০০

শামসুল আজম মুন্না, প্রদায়ক

চট্টগ্রাম নগরীর বারিকবিল্ডিং থেকে টেম্পোতে চকবাজার যাবেন একটি বেরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মনির হোসেন। তিনি এই রুটে প্রতিদিনই চলাচল করেন। ভাড়ার প্রসঙ্গ উঠতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, 'টেম্পোগুলো সিএনজিচালিত। তাহলে ৫ টাকার ভাড়া কেন ১০ টাকা নেবে?' নিউমার্কেট থেকে হালিশহরগামী টেম্পোর যাত্রী আনোয়ার বলেন, 'গ্যাসের গাড়িতে বেশি ভাড়া নেওয়ার এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশও জড়িত। নয়তো পুলিশকে অভিযোগ করার পরও কেন কোনো সমাধান পেলাম না?'

১০ নম্বর রুটের বাসে ওঠানামায় ৮ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে যাত্রীদের মাথাব্যথা নেই। কিন্তু সব গাড়িই যখন ওঠানামা ৮ টাকা নিচ্ছে, তখন যাত্রীরা বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ। কারণ কোন বাস ডিজেলে চলে আর কোন বাস গ্যাসে চলে, সেটা বোঝার উপায় নেই। ডিজেলচালিত ও সিএনজিচালিত গাড়ি চিহ্নিত করার জন্য গাড়ির সামনে যথাক্রমে লাল ও সবুজ রঙের স্টিকার লাগানোর নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। যাত্রীদের অভিযোগ, সিএনজিচালিত গাড়িতেও লাল রঙের স্টিকার ব্যবহার করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আবার নির্দিষ্ট রুটে চলে না এসব বাস। এ ব্যাপারে বিআরটিএ বা ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় সন্তুষ্ট নন যাত্রীরা। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হলেও তা ভাড়া নৈরাজ্যে প্রভাব ফেলছে সামান্যই।

এ বিষয়ে নগরীর নয়াবাজার মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ আমজাদ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'অনেকে বাসের স্টিকার তুলে ফেলা হয়েছে। সব গাড়ি চেক করা তো আর আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।'

অন্য একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না কলে বলেন, 'ভাড়া নিয়ে বাড়াবাড়ি বন্ধে যনাবাহন মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে তারা সচেষ্ট। তবে সড়কে বিভিন্ন যানবাহনে সরকারি নিয়ম না মেনে যেমন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়, তেমনি যাত্রীরাও অনেক সময় দুই-এক টাকার জন্য অহেতুক বাড়াবাড়ি করেন। ফলে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে যাত্রীদের একটা অদৃশ্য বিভেদ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়টির সমাধানে দুই পক্ষেরই সহনশীল আচরণ দরকার। পুলিশ সবসময় সেটার জন্য কাজ করছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা মহানগরীর মতো চট্টগ্রামেও চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ১ টাকা ৭০ পয়সার স্থলে ২ টাকা ১৫ পয়সা এবং ১ টাকা ৬০ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৫ পয়সা করা হয়েছে। বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ৭ টাকার স্থলে ১০ টাকা এবং ৫ টাকার স্থলে ৮ টাকা করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ১০ নম্বর রুটের গাড়ি কালুরঘাট থেকে সি বিচ পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও ইপিজেড মোড়ে এসে যাত্রীদের নামিয়ে নতুন করে যাত্রী তোলা হয়। এতে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে এই রুটের যাত্রীদের কয়েক দফায় গাড়ি বদলাতে হচ্ছে, অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে যাত্রীদের সঙ্গে চালক-হেল্পারদের বাগ্‌বিতণ্ডা লেগেই আছে। ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা। অনিয়মের প্রতিবাদ করায় চলন্ত বাস থেকে যাত্রী ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি নগরীর লালখান বাজার ইস্পাহানি মোড়ে হানিফ ও পুরোনো রেলস্টেশন এলাকায় রহমত উল্লাহ নামক দুই যাত্রীকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।\হএ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন বলেন, 'সি বিচগামী ১০ নম্বর (চট্ট মেট্রো জ-১১-১৮৭২) বাস থেকে যাত্রী ফেলে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত চালক আশরাফ ও সহকারী হানিফকে ধরা হয়েছে। স্টেশন রোডের বটতলী এলাকায় স্কুলশিক্ষক রহমত উল্লাহকে ফেলে দেওয়ার ঘটনায়ও জড়িতদের চিহ্নিত এবং বাসটি জব্দ করা হয়েছে।'

যাত্রীদের অভিযোগ, নগরীর ১০ নম্বর রুটে মেট্রো প্রভাতী এবং ১১ নম্বর রুটে সোনার বাংলা বাসের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ যাত্রীরা। এসব গাড়িতে অনুমোদিত সিটের বাইরে অতিরিক্ত সিট সংযোজন করে বাড়ানো হয়েছে আসন সংখ্যা। মেট্রো প্রভাতী বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ নেওয়া হচ্ছে। সিট ক্যাপাসিটির কথা বলেও দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া হয় এবং পিক আওয়ারে আসন সংখ্যার দ্বিগুণ যাত্রী নিতেও দেখা যায়।\হ১০ নম্বর রুটের নিয়মিত যাত্রী শোয়াইবুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, 'আমরা জনগণ আসলে পরিবহন মালিকদের কাছে জিম্মি। তারা যখন খুশি ধর্মঘট ডাকবে, যা খুশি তা ভাড়া নেবে, প্রতিবাদ করলে মার খেতে হবে।'\হযাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, 'সড়কে অরাজকতা ঠেকাতে নৈরাজ্যকারী চালক-হেলপারদের জেল-জরিমানা করতে হবে।'\হসড়কে অনিয়ম ও অরাজকতার বিষয়ে জানতে চাইলে- যাত্রী ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন বাস মালিক সমিতির সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, 'আমরা চাই না নগরবাসী কোনো ভোগান্তিতে পড়ূক। সাধারণ মানুষের স্বার্থে নগরীর বিভিন্ন রুটে নিয়মিত গাড়ি চলছে। কিন্তু চালকের নিয়মবহির্ভূত আচরণের কারণে আমরা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি।'\হযাত্রীদের দাবি, নগরীর ১৩টি রুটের কোনোটিতেই সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে না পুরোপুরি। কিছু পরিবহনে নেই বর্ধিত ভাড়ার তালিকাও। সরকারের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিএনজিচালিত বাসেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com