'ওরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে আমার ভবিষ্যৎ শেষ করে দিয়েছে'

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২১ । ২২:১১ | আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২১ । ২২:১১

সমকাল প্রতিবেদক

সেদিনের ঘটনায় নিহত ছয় ছাত্র। ছবি: সংগৃহীত

২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবে বরাতের রাতে সাত বন্ধু ঘুরতে গিয়েছিলেন ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামে। রাত সোয়া ১টার দিকে কিছু দুর্বৃত্ত ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে ছয়জনকে। বেঁচে যান একজন। নিহতরা হলেন- ইব্রাহিম খলিল, কামরুজ্জামান, তৌহিদুর রহমান পলাশ, শামস রহিম, টিপু সুলতান ও সিতাব জাবির।

এ ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করা হয় বৃহস্পতিবার। রায়ে মামলায় প্রধান আসামিসহ ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

রায় ঘোষণার পর নিহত ইব্রাহিম খলিলের বাবা আবু তাহের সমকালের কাছে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, 'যেসব আসামির ফাঁসির রায় হয়েছে, তাদের দ্রুত ফাঁসিতে ঝুলানোর দাবি জানাচ্ছি।'

তিনি বলেন, 'বড় ছেলে (ইব্রাহিম খলিল) ছিল আমার ভবিষ্যৎ। তাকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখতাম। তখন আমি কল্যাণপুরে ফুটপাতে ফল বিক্রি করতাম। নিজে ফল বিক্রি করলেও ছেলেকে পড়ালেখা করিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু ওরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে আমার ভবিষ্যৎকে শেষ করে দিয়েছে।'

ছেলের স্মৃতিচারণ করে তাহের বলেন, 'ছেলে বলত-বাবা তোমাকে বেশিদিন কষ্ট করতে হবে না। পড়ালেখা শেষ করে চাকরি করে সংসারের হাল ধরবো। ছেলে বেঁচে থাকলে আমাকে কী অসুস্থ শরীরেও কাজ করতে হত।' কথাগুলো বলতেই কেঁদে ওঠেন তিনি। শারীরিকভাবে তিনি খুবই অসুস্থ। এখন শ্যমলীর একটি ফলের দোকানের কর্মচারী। অসুস্থতার কারণে প্রতিদিন কাজে যেতে পারেন না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবু তাহের জানান, ইব্রাহিম তখন বাংলা কলেজের অনার্স পড়ুয়া ছিলেন। দুই ছেলের মধ্যে ইব্রাহিম ছিল বড়। তাদের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর। সেখানে কোনো জমি-জায়গা বা বাড়ি নেই। ঢাকাতেই থাকেন, ভাড়া বাসায়। তিনি ঘর-বাড়ি করার চিন্তা করেননি কখনও, শুধু ভেবেছিলেন দুই ছেলেকে পড়ালেখা করিয়ে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলতে। ছোটো ছেলে ইউসুফ আলী সুমন মাস্টার্স শেষ করেছেন। বছর তিন আগে ইব্রাহিমের মা বিউটি বেগম মারা গেছেন। ছেলে খুন হওয়ার পর থেকেই অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছেলের শোক ভুলতে পারেননি বিউটি। ছেলের খুনিদের বিচার হলো সেটিও দেখে যেতে পারেননি না তার স্ত্রী।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com