গ্রেপ্তার জঙ্গি নেতাদের ছিনিয়ে আনতে আইইডি তৈরি করতেন তারা

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২১ । ১৭:৫৯ | আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২১ । ১৭:৫৯

রংপুর অফিস

ছবি: পুলিশের সৌজন্যে

দেশের উত্তরাঞ্চলে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হওয়া শীর্ষ নেতাদের ছিনিয়ে আনতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে জেএমবি। আদালতপাড়া, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দপ্তরগুলোতে শক্তিশালী ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসসহ (আইইডি) বিস্ফোরক হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল এ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের। এর মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে মুক্ত করা হতো জেএমবির শীর্ষ নেতাদের। শনিবার নীলফামারী সদর উপজেলার মাঝাপাড়া গ্রাম থেকে জেএমবির উত্তরাঞ্চলের সামরিক শাখার প্রধান আহিদুল ইসলাম ওরফে আহিদ ওরফে পলাশসহ তার চার সহযোগিকে গ্রেপ্তারের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছে র‌্যাব।

শনিবার বিকেলে রংপুর নগরীর আলমনগরে র‌্যাব-১৩ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং-এর পরিচালক খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের জানান, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ছদ্মবেশে সহজে বিভিন্ন পেশায় জড়িত হওয়া যায়। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইপিজেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জেএমবির সদস্যরা ঢুকে পড়ে এবং সদস্য সংগ্রহ করে। এরপর তাদের জঙ্গি কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এভাবেই বাড়াতে থাকে তাদের সদস্য সংখ্যা। সেই সঙ্গে অর্থ সংগ্রহসহ অনলাইনের মাধ্যমে বিস্ফোরক তৈরির নানা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছিলো।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মাঝাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে একটি বাড়ি থেকে উত্তরাঞ্চলের সামরিক শাখার প্রধান নীলফামারী জেলার উত্তর মুশরত কুখাপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে আহিদুল ইসলাম ওরফে আহিদ ওরফে পলাশসহ (২৬) তার ৪ সহযোগিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলেন, পশ্চিম কুচিয়ামোড় পাঠানপাড়া গ্রামের ওয়াজ্জুউদ্দিন মাসুদের ছেলে ওয়াহেদ আলী ওরফে আব্দুর রহমান (৩০), দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামের তছলিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে ডা. সুজা (২৬), উত্তর মুশরত কুখাপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম ওরফে জাহিদ ওরফে জোবায়ের (২৭) এবং সোনারাই কাচারীপাড়া গ্রামের রজব আলীর ছেলে নুর আমিন ওরফে সবুজ (২৮)। এর মধ্যে আহিদুল দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন ও খেলনা প্রস্তুতকারক একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। সে ২০১৫ সালে জেএমবির রংপুর আঞ্চলিক নেতার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেয় এবং সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। গ্রেপ্তার হওয়া ডা. সুজা গ্রাম্য ডাক্তার, জোবায়ের একটি খেলনা প্রস্তুতকারী কোম্পানির সুপারভাইজার, ওয়াহেদ আলী একটি কোম্পানির শ্রমিক এবং নূর আমিন বেসরকারি চাকরিজীবি। র‌্যাব এই অভিযানে বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্য, একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, ৫ রাউন্ড গুলি ও বিস্ফোরক তৈরির অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা র‌্যাবকে জানিয়েছে, সামরিক শাখার সদস্য ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরি, আইইডি তৈরির প্রশিক্ষণ, অনুশীলন এবং নাশকতামূলক হামলার প্রস্তুতি গ্রহণ করছিল। বিগত ২ থেকে ৩ মাস আগে আহিদুলের বাড়িতে আইইডি তৈরির সময় গভীর রাতে তা বিস্ফোরিত হয়। এতে আহিদুলের বাড়িতে আগুন লেগে যায়। এ ছাড়া জেএমবির সামরিক শাখার সদস্যরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন ওয়েবপেইজ দেখে কিভাবে বোমা তৈরি করতে হয় এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেয়। কারাগারে থাকা জেএমবি’র শীর্ষ নেতাদের যখন আদালতে নেয়া হবে তখন এসব বিস্ফোরক ব্যবহার করে হামলা চালিয়ে তাদের মুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল গ্রেপ্তারদের। তারা অনলাইনে রংপুর অঞ্চলের আমিনের নির্দেশে বেশ কিছুদিন ধরে জঙ্গি শরীফ এর বাড়িতে আইইডি তৈরি করতেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, রংপুর র‌্যাব-১৩ এর কমান্ডার রেজা আহমেদ ফেরদৌসসহ র‌্যাবের অন্যান্য সদস্যরা।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com