মুরাদ হাসানকে নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২১ । ১৮:৩৫ | আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২১ । ১৯:৫১

সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিবারকে নিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই বক্তব্যকে ‘অশালীন মন্তব্য’ আখ্যা দিয়ে মুরাদ হাসানের বিষয়ে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে স্পষ্ট প্রশ্ন করতে চাই প্রধানমন্ত্রীকে, এই কথা সত্য কি মিথ্যা আপনাকে জানাতে হবে, কারণ, আপনি প্রধানমন্ত্রী। এই দেশের মানুষের নিরাপত্তা এবং তার নিজের মর্যাদাকে রক্ষা করা এবং একই সঙ্গে এই ভয়াবহ উক্তি যদি দেশের একজন মন্ত্রী করতে পারে, আপনার সরকারের অবস্থান কী—আমরা জানতে চাই। এটার উত্তর দিতে হবে। কারণ, এতে আপনাকে জড়িয়ে কথা বলা হয়েছে।

মুরাদ হাসানের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘স্যোশাল মিডিয়ায় জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত জঘন্য, নিকৃষ্ট কথাবার্তা বলছেন একজন ভুঁইফোড় ডাক্তার। তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে আমরা তীব্রভাবে শুধু প্রতিবাদ নয়, আমাদের ঘৃণা প্রকাশ করছি, ধিক্কার জানাচ্ছি।’

সোমবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

১৯৮২ সালে বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে বসা এরশাদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন। বিএনপি এই দিনকে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।

এ দিবসের আলোচনার একপর্যায়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেন, প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান একসময় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রদল শাখার প্রচার সম্পাদক ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘শুনেছি সে নাকি একসময় ছাত্রদল করত। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্রচার সম্পাদক ছিল। পরবর্তীকালে সে ছাত্রলীগে যোগ দিয়েছে। ওই প্রতিমন্ত্রী বলেছেন-আমি যা কিছু করছি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই করছি এবং তা তিনি সব কিছু জানেন। এখন প্রধানমন্ত্রীকেই এই কথা সত্য কী মিথ্যা তা জানাতে হবে।’

এসময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুব দলের আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহিন দাঁড়িয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে দ্বিমত জানিয়ে বলেন, মুরাদ ছাত্রদল করে নাই। এসময় মহাসচিবের সঙ্গে বির্তকে জড়িয়ে পড়েন এই তরুণ যুবদল নেতা।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস মুরাদ হাসানের সমালোচনা করে বলেন, ‘সরকারের অধঃপতন যখন হয় এভাবেই হয়। ফুটপাত থেকে ধরে এনে মন্ত্রী বানিয়েছে। এখন নতুনএকটা জুটছে। সে এখন বিএনপির বিরুদ্ধে, খালেদা জিয়া বিরুদ্ধে যিনি মুমূর্ষু রোগী, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন.... তার বিরুদ্ধে অশ্রাব্য কটুক্তি করছে। সেই নেত্রীর পরিবার সম্পর্কে, তারেক রহমানের পরিবার সম্পর্কে অশ্রাব্য কটুক্তি করছে। এগুলো সহ্য করা যায় না, এগুলো আমরা সহ্য করব না।’ 

গুরুতর অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যখন সমস্ত দেশ, জাতি, মানুষ খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো দরকার বলে দাবি করছে তখন এই সরকার তাকে যেতে দিচ্ছে না। সরকার বিভিন্ন রকম কথা বলছেন। আইনের কথা বলছেন। আইন বাধা নয়, বাধা হচ্ছে সরকার।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকারকে বলতে চাই, এতো মারপ্যাঁচ না করে সোজাসোজি বলেন, খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেবেন কি দেবেন না। আমরা সাফ সাফ কথা জানতে চাই, এখনই জানতে চাই। আপনাদের এতো কথা শুনতে চাই না।’

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। এই সরকারের সঙ্গে গণতন্ত্রের কোনো সম্পর্ক নাই। তারা গণতন্ত্রবিরোধী সরকার। তারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়েছে বলে আজকে বিভিন্নভাবে জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে ফেরানোর জন্য বিভ্রান্ত করছে।’

স্বৈরাচার পতনের এই দিনের পরিপ্রেক্ষিত মনে করিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নব্বইয়ের আন্দোলন সফল হয়েছিল তখনই, যখন গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিগুলো এক হয়েছিল। আজকেও ঠিক একইভাবে সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে, দেশপ্রেমিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে আমাদেরকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এর মধ্য দিয়ে এই ভয়াবহ সরকারের পতন ঘটাতে হবে। এর কোনো বিকল্প নাই।’

ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মিলনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় নব্বইযের সাবেক ছাত্র নেতার মধ্যে ড. আসাদুজ্জামান রিপন, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নাজিম উদ্দিন আলম, জহির উদ্দিন স্বপন, মোস্লাফিজুর রহমান বাবুল, সাইফুদ্দিন মনি, খন্দকার লুৎফুর রহমান, আসাদুর রহমান খান, কামরুজ্জামান রতন, এবিএম মোশাররফ হোসেন, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্র দলের ফজলুর রহমান খোকন বক্তব্য রাখেন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com