লঞ্চ থেকে মরদেহ উদ্ধার

স্ত্রীকে কেবিনে হত্যা করে ক্যান্টিনে আয়েশে খেয়ে নেন মাসুদ

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২১ । ২০:৩১ | আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২১ । ২৩:৫০

সমকাল প্রতিবেদক

লঞ্চের কেবিন থেকে মরদেহ উদ্ধার

২০১৯ সালে ধর্ষণের মামলায় পড়ে বাধ্য হয়েই শারমিন আক্তারকে (২৭) বিয়ে করেছিলেন মাসুদ হাওলাদার। কিন্তু মনের ভেতর রেখে দিয়েছিলেন প্রতিশোধের ক্রোধ। শেষ পর্যন্ত সেই স্ত্রীকে গ্রামের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে লঞ্চের কেবিনে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যান তিনি।

গত ১০ ডিসেম্বর বরিশালগামী এমভি কুয়াকাটা-২ লঞ্চের লস্করের কেবিন থেকে শারমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সোমবার কক্সবাজার থেকে র‌্যাবের একটি দল মাসুদকে গ্রেপ্তার করে। এরপরই বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের পেছনের চাঞ্চল্যকর কাহিনী।

র‌্যাব জানায়, মাসুদ ২০১২ সাল থেকে আশুলিয়ার একটি কোম্পানির পিকআপ চালকের হেলপার হিসেবে কর্মরত। শারমিন তৈরি পোশাক কারখানার কর্মী ছিলেন। ২০১৯ সালের শুরুতে তাদের পরিচয় হয়। এরপর বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় মাসুদের নামে ধর্ষণ মামলা করেন শারমিন। মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য দুই পরিবারের সম্মতিতে ওই বছরের ১৭ নভেম্বর তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পরও কর্মসূত্রে তারা দুইজন পৃথকভাবে থাকছিলেন। মাসুদ বিয়ে করলেও তা মেনে নিতে না পারায় প্রায়ই ঝগড়া হতো। তাকে ডিভোর্স দেওয়ার চেষ্টা করলেও পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর থাকায় তাও সম্ভব হচ্ছিল না। এজন্যই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মাসুদ। সে অনুযায়ী তাকে গ্রামের বাড়ি বরিশালে নেওয়ার কথা বলে লঞ্চের কেবিনে হত্যা করেন।

সোমবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে মাসুদকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন কর্মকর্তারা। সেখানে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, শারমিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ জন্য লঞ্চে ইঞ্জিন রুমের পাশে লস্করের কেবিন ভাড়া করেন মাসুদ, যাতে হত্যার সময় চিৎকার দিলেও কেউ বুঝতে না পারেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি কেবিন তালাবন্ধ করে ক্যান্টিনে গিয়ে আয়েশে খাওয়া-দাওয়া শেষ করেন। লঞ্চটি বরিশাল শহরের ঘাটে গেলে মাসুদ স্বাভাবিকভাবে লঞ্চ থেকে বের হয়ে যান। এরপর তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে কক্সবাজারে আত্মগোপনে চলে যান।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, শারমিনের মরদেহ উদ্ধারের পর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ জন্য ঘটনার পরপরই খুনিকে গ্রেপ্তারে র‌্যাব-৮ এর একটি দল ছায়াতদন্ত শুরু করে। র‌্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা টিমের সহায়তায় রহস্য উদ্ঘাটন করে খুনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মাসুদের বরাতে র‌্যাব জানায়, ঘটনার কয়েকদিন আগে শারমিন সর্দি এবং কাশিতে আক্রান্ত হন। তখন কাশির সিরাপের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তাকে মারার পরিকল্পনা করেন তিনি। সে অনুযায়ী গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে লঞ্চে তুলে নেন। লঞ্চ ছাড়ার পর আগে থেকেই কিনে রাখা বিষ ও চেতনানাশক মিশ্রিত কাশির সিরাপ খেতে দেওয়া হয় শারমিনকে। এতে কয়েক দফা বমি করে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে নিজের জামা দিয়ে গলায় শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে বরিশাল ঘাটে লঞ্চ থেকে নেমে পালিয়ে যান মাসুদ।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com