‘দেশে প্রতি ৪ জনে একজন মানসিক রোগে ভুগছেন’

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২১ । ২২:৫২ | আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২১ । ২২:৫২

সমকাল প্রতিবেদক

প্রতীকী ছবি

দেশে প্রতি চারজনে একজন কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছেন। এ হার প্রতি বছরই বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৯২ শতাংশই চিকিৎসার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। আক্রান্তদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যাই বেশি।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে 'স্পেশাল ইনিশিয়েটিভ ফর মেন্টাল হেলথ' শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দেশে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১২ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু-কিশোর কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছেন। বেকারত্ব, হতাশা, অস্থিরতা, ব্যক্তিজীবনের অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, নানামুখী চাপ, অপ্রাপ্তি, লোভ ও বিচারহীনতা তরুণদের মানসিক রোগীতে পরিণত করছে।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশে বছরে গড়ে ১০ হাজার জনেরও বেশি আত্মহত্যা করে। গুরুতর মানসিক রোগীদের মধ্যে ৪২ শতাংশই কোনো না কোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক রোগে ভুগছেন। করোনাকালে মানসিক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। করোনার প্রথম বছরেই সারাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আত্মহত্যা করেছে। তাদের মধ্যে শিক্ষার্থী অনেক।

আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অব অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডারের সভাপতি সায়মা ওয়াজেদ পুতুল একটি ভিডিও বার্তা দেন। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিবন্ধী বা মানসিক সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের স্বল্প সম্পদের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিশ্বের ১০০ কোটি মানুষ মানসিক রোগে ভুগছেন। সারাবিশ্বে মৃত্যুর এক দশমিক তিন শতাংশ আত্মহত্যাজনিত। আর তরুণদের মধ্যে মৃত্যুর দ্বিতীয় কারণ মানসিক সমস্যা।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এএইচএম এনায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, করোনার কারণে দেশের অনেক মানুষ নানা রকম মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। দেশে অনেকেই মানসিক রোগ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান না। দেশের সব জেলাতেই একটি করে আলাদা মানসিক স্বাস্থ্য ইউনিট করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. বর্ধন জং রানা, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডিসি কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com