কালের যাত্রা ২০২২

দৈনন্দিন জীবন হবে সহজ সুন্দর

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২২ । ১০:০৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাসিমা ইসলাম

২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ফোর্বস 'থার্টি আন্ডার থার্টি ২০২২'-এর তালিকা প্রকাশ করে। ফোর্বস মূলত প্রতিবছর ২০ ক্যাটাগরিতে ৩০ জন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করে। তারই একটি ক্যাটাগরি বিজ্ঞান। সেই ক্যাটাগরিতে ২০২২ সালের জন্য যে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে উঠে এসেছে আমার নাম। খুবই ভালো লেগেছে। আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করেছি। এই স্বীকৃতি আমাকে আরও কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। এই অর্জন বাংলাদেশের তরুণদের, বিশেষ করে নারীদের আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে। আমি যে ডিভাইসের উন্নয়নে কাজ করছি, তা সৌরশক্তি এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করেই চার্জ দেওয়া যাবে। এ ছাড়া এসব ডিভাইস হবে শব্দভেদী। এসব ডিভাইস পথচারীদের নিরাপত্তা দিতে সহায়তা করবে। শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে যানবাহন থেকে পথচারীদের নিরাপদ রাখবে। আমার ইন্টারডিসিপ্লিনারি গবেষণার বিষয়বস্তু বহুমুখী। এর মধ্যে আছে- মেশিন লার্নিং, মোবাইল কম্পিউটিং, অ্যাম্বেডেড সিস্টেমস ও ইউনিকুইটাস কম্পিউটিং। আইওটি ডিভাইসগুলো প্রচলিত ডিভাইসের চেয়ে খানিকটা আলাদা। এগুলো ওয়্যারলেস সিগন্যাল ও সংযোগের মাধ্যমে কাজ করে থাকে। রিমোট সেনসিং, উপস্থিতি শনাক্তকরণ, কোনো বস্তু কিংবা অবস্তুগত সত্তার ব্যাপারে ব্যবহারকারীকে অবহিতকরণই মূলত আইওটি ডিভাইসগুলোর কাজ। আসলে সামনের দিনগুলো হবে আরও প্রযুক্তিনির্ভর। এ ক্ষেত্রে আমরা সায়েন্সে চোখ রাখলে দেখি, সায়েন্সের ভবিষ্যদ্বাণী হচ্ছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে আমাদের আশপাশে প্রায় এক ট্রিলিয়ন যন্ত্র থাকবে, যেগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে থাকবে। এই যন্ত্রগুলো হচ্ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহূত জিনিস। এটি আমাদের একটি কলম হতে পারে, হাতের ঘড়ি হতে পারে কিংবা এটা আমার বাসার দরজাও হতে পারে। দৈনন্দিন জীবনে আমরা যা ব্যবহার করি, সেগুলোর মধ্যে আমরা কম্পিউটিংকে যুক্ত করতে চাই। জীবনের যাত্রাকে গতিশীল-মসৃণ এবং আরও ভালো করার জন্য আমরা এটি যুক্ত করতে চাই। আমাদের এটি আরও সাহায্য করতে পারবে।

আমরা এ ধরনের যন্ত্রকে বলি ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি। বেশির ভাগ যন্ত্র ব্যাটারিচালিত। এক ট্রিলিয়ন যন্ত্র, যেগুলো ব্যাটারিচালিত; এই ব্যাটারিগুলোকে যদি আমাদের মেইনটেইন করতে হয়, যেমন চার্জ করা লাগবে বা পরিবর্তন করা লাগবে, তাহলে আমরা হিসাব করে দেখেছি, পুরো বিশ্বে প্রতিদিন ২৭৩ মিলিয়ন ব্যাটারি পরিবর্তন করতে হবে। ব্যবহারের পর আমরা এই ব্যাটারি কোথায় ফেলে দিচ্ছি- যা আমাদের পরিবেশের জন্য খারাপ হবে। তা ছাড়া রিসাইক্লিং করাও সম্ভব নয়, যেহেতু এটি ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, ব্যাটারি রিসাইক্লিং থেকে প্রচুর আগুন ধরে যায়। সে জন্য চিন্তা করলাম, ব্যাটারি থেকে কীভাবে এবং কতটা দূরে সরে আসা সম্ভব। এমন কিছু চাইছি, যাতে করে সৌরশক্তি বা ওয়াই-ফাই থেকে অথবা আমরা যে হাঁটাচলা করি, সে সময় আমরা যে শক্তি তৈরি করে থাকি, এগুলোকে আমরা কীভাবে ব্যবহার করতে পারি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের যন্ত্রগুলো চার্জ করার জন্য। সে যাক, ২০২১ সাল যেমন কাজের ব্যস্ততায় কেটেছে, তেমনি সাফল্যও পেয়েছি। এখন চোখ নতুন বছরে। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের ওয়েস্টার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছি। মূলত কম্পিউটার ও তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগে যোগ দেব আমি। এটিও এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। পুরস্কার বা সম্মাননা কাজের প্রতি দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়। সেই দায়িত্ববোধটাও মাথায় থাকবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে ভালোভাবে এগিয়ে যেতে চাই; নতুন বছরে এটাই প্রত্যাশা।


লেখক

ফোর্বস থার্টি আন্ডার থার্টি ২০২২ মনোনীত

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com