বরগুনায় কিশোরী ধর্ষণ মামলায় বাবা-ছেলে কারাগারে

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২২ । ১৮:৫৫ | আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২২ । ১৮:৫৫

বরগুনা প্রতিনিধি

গ্রেপ্তার বাবা (বায়ে) ও ছেলে।

বরগুনায় সাবেক এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। পরে পুলিশ ওই বাবা-ছেলেকে রোববার রাতে গ্রেপ্তার করে। আর সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠায়। 

মামলার আসামিরা হলেন- বরগুনা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের নুরুল ইসলাম (৫০) ও তার ছেলে আরিফ হোসেন (২৩)। নুরুল ইসলাম বরগুনা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা নেই, তার মা শহরে ঘুরে ঘুরে সবজি বিক্রি করেন। এজন্য সারাক্ষণ একাই বাসায় থাকতো ওই কিশোরী। এরপর প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের ছোট মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হলে তাদের বাসায় আসা যাওয়া করত ওই কিশোরী। তাদের বাসার টুকটাক কাজও করত।

একদিন ওই কিশোরী নুরুল ইসলামের বাসায় গেলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন নুরুল ইসলাম। বিষয়টি যাতে জানাজানি না হয় এজন্য তাকে ভয় দেখানো হয়। এর কয়েকদিন পরে নুরুল ইসলামের ছেলে আরিফ হোসেন ওই ঘটনাটা নিয়ে কিশোরীকে ব্ল্যাকমেইল করে কয়েকবার ধর্ষণ করেন। এরপর কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করলে তিনি বরগুনা সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি আমলে নিয়ে একটি দল পাঠিয়ে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় প্রথমে নুরুল ইসলামকে থানায় ধরে আনেন। এর আধা ঘণ্টা পরে তার ছেলে আরিফকেও ধরে আনা হয়।

ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, ‘কাজের প্রয়োজনে আমাকে সারাক্ষণ বাইরে থাকতে হয়। একারণে আমার মেয়ে প্রায় সময়ই নুরুল ইসলামের ছোট মেয়ের সঙ্গে তাদের বাসায় থাকত। মেয়েকে দিয়ে তারা কাজও করাত। কিন্তু তারা যে আমার মেয়ের এতো বড় সর্বনাশ করবে কখনোই ভাবিনি। বুঝতে পারলে আমি মেয়েকে ওদের সঙ্গে মিশতে দিতাম না। নুরুল ইসলাম আমার থেকেও বয়সে অনেক বড়। সে আমার ছোট মেয়েটার দিকে কু-নজর দিতে পারে না। আমার মেয়ের এ অবস্থা যে করছে আমি তার কঠিন বিচার চাই।

ভুক্তভোগী কিশোরী বলেন,  ‘নুর ইসলামকে আমি খালু ডাকতাম। তার মেয়ে আমার বান্ধবী ছিল। তিনি আমাকে ভয় দেখিয়ে এসব করছে। তিনি বারবার বলতেন “তুই যদি এসব না করস তাহলে তোদের এলাকা ছাড়া করবো”।  পরে একদিন তার ছেলে  আরিফ বলে “তুই যা করছস তা কিন্তু আমি জানি।” এসব বলে সে আমাকে ধর্ষণ করে।এরকম আরও দুইদিন ধর্ষণ করে।’

এ বিষয়ে বরগুনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম তারিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতেই থানায় ধরে আনা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পরে সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। 

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com