শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে বিশেষজ্ঞদের মত

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২২ । ১৮:৪৬ | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২২ । ১৮:৪৬

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

সেমিনারে অতিথিরা

দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ায় ঘাটতি এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি মেধার বিকাশ এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব  দিতে হবে।

বুধবার সকালে রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ ইন্টারন্যাশনাল’ আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ অতিমারীকালীন শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি: চরাঞ্চলে ফ্রেন্ডশিপ শিক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তারা এ কথা বলেন। 

কভিড-১৯ মহামারিকালে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ঘাটতি এবং চরাঞ্চলে ফ্রেন্ডশিপ শিক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতা নিয়ে গবেষণা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট। সেই গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রাপ্ত ফল এবং সুপারিশ এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। গবেষণার বিস্তারিত দিক তুলে ধরেন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এসএম হাফিজুর রহমান এবং সহযোগী অধ্যাপক শাহ শামিম আহমেদ।

প্রায় একমাস ধরে চরাঞ্চলে বসবাসকারী প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রত্যেক স্তরে ৫০ জন করে অন্যান্য সবমিলে মোট এক হাজার ৩৪৬ জন শিক্ষার্থীর ওপর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কারিকুলামের ওপর ভিত্তি করে প্রশ্নোত্তর আকারে জরিপ পদ্ধতিতে এ গবেষণা চালানো হয়। এতে প্রতিটি চরে সরাসরি ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ওয়ান প্লাস ওয়ান।

মহামারিকালে লকডাউনে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত রাখতে বিকল্প উপায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করে সরকার। এতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাধ্যমিক এবং প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি এবং বাংলা, ইংরেজি এবং গণিতে দক্ষতা, আর্থসামাজিক অবস্থা, মানসিক স্বাস্থ্য, করোনাকালে অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণার ফল তুলে ধরা হয়। এছাড়া করোনা মহামারির সময় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণের জন্য বিশেষ প্যাকেজের সুপারিশ করা হয় গবেষণায়। এজন্য বিশেষ কারিকুলাম তৈরির পরামর্শও দেওয়া হয়।

গবেষণায় অতিমারিকালে শিক্ষার্থীদের বাবা মায়ের মানসিক এবং আর্থিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে উল্লেখ করে মানসিক স্বাস্থ্য এবং মনস্তাত্ত্বিক উন্নতির জন্য পিতা-মাতাদের ‘গুড প্যারেন্টিং’ শেখানো এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে যথাযথ কাউন্সেলিং এবং নির্দেশনা সেবা চালুর সুপারিশ করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. একিউএম শফিউল আজম, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ড. একেএম রিয়াজুল হাসান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক ড. উত্তম কুমার দাস এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এটুআই পলিসি স্পেশালিস্ট আফযাল হোসেন সারোয়ার। স্বাগত বক্তব্য দেন ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক রুনা খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, করোনা মহামারিতে বিদ্যালয়ে পাঠদান এবং ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার সঙ্গে সংযুক্ত রাখা ছিল খুবই কঠিন। তবুও সরকার এবং উন্নয়ন সহযোগীদের প্রচেষ্টায় বিকল্প উপায়ে কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে।

করোনাকালে বিকল্প পদ্ধতিতে পাঠদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘসময় দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এমন দুর্দিনে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত প্রায় চার কোটি ছাত্রছাত্রীর লেখাপড়া চালিয়ে নিতে অনলাইন ক্লাস, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ জাতীয় গণমাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের ক্লাস সম্প্রচারের মাধ্যমে বিকল্প পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়েছে।

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বালম্বীকারণ এবং স্থানীয় জনগণের ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করে ফ্রেন্ডশিপ। ২০০২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতি বছর ৬০ লাখ মানুষকে সহযোগিতা করে এসেছে সংস্থাটি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com