বিশেষ লেখা

আমাদের শিক্ষক কাজী আনোয়ার হোসেন

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২২ । ০১:৪৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফয়জুল লতিফ চৌধুরী

পঁচাশি বৎসর বয়সে কাজী আনোয়ার হোসেন প্রয়াত হইলেন। ইহা আমার জন্য, আমাদের অনেকের জন্য ব্যক্তিগত বিয়োগ। এই মৃত্যুর কথা লিখিতে গিয়া ডায়েরিতে লেখা জীবনানন্দের কৈশোরের একটি ঘটনার কথা মনে পড়িতেছে। ইংরেজি হইতে অনুবাদ করিয়া উহা উদ্ধারণ করিতেছি :

১৯১০ সালের ২০ নভেম্বর। দিনটি রোববার। জীবনানন্দের বয়স সাড়ে দশ, ব্রজমোহন ইনস্টিটিউটের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। কিন্তু রোগাভোগা ছেলেটির শরীর ভালো ছিল না বলিয়া মা কুসুমকুমারী দেবী তাহাকে ওই দিন স্কুলে যাইতে দেন নাই। জীবনানন্দ বাড়ির আঙিনায় এদিক-সেদিক ঘোরাফিরা করিতেছেন। বাবা হঠাৎ স্কুল হইতে ফিরিয়া আসিয়াছেন। অবেলায় বাবাকে বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করিতে দেখিয়া জীবনানন্দ বিস্মিত হইলেন। দিনটি শনিবার ছিল না; আর ওই দিন আধবেলা ছুটি থাকিবারও কথা নহে। ব্রজমোহন ইনস্টিটিউটের সহকারী প্রধান শিক্ষক সত্যানন্দ দাশ স্কুল হইতে ফিরিয়া তাহার লেখাপড়ার টেবিলে স্তব্ধ হইয়া বসিয়া আছেন। টেবিলের উপর কয়েকখানা বই আর ছাত্রসুলভ কিছু অনুশীলন খাতা ইতস্তত ছড়ানো। জীবনানন্দর মনে হঠাৎ এক অপ্রতিরোধ্য কৌতূহল জাগিয়া উঠিল। বাবার কাছে গিয়া জানিতে চাহিলেন, আজ কেন সকাল সকাল স্কুল হইতে বাড়ি ফিরিয়া আসিয়াছেন।

জীবনানন্দ দাশ লিখিয়াছেন, 'তাহার কাছে আমরা কখনও কোনো তুচ্ছ বিষয় নিয়া উপস্থিত হইতাম না। অনেক সময় প্রশ্ন শুনিয়া উত্তর না দিয়া তিনি চুপ করিয়া থাকিতেন। সেইদিন ব্যতিক্রম হইল।'

বাবা বলিলেন, 'টলস্টয় মারা গিয়াছেন।'

জীবনানন্দ সাহস করিয়া জিজ্ঞাসা করিয়া বসিলেন, 'টলস্টয় কে?'

সত্যানন্দ উত্তর করিলেন, 'তিনি এই বিশ্বের মহত্তম শিক্ষকদের একজন।'

'সারা বিশ্বের, বাবা?'

'হ্যাঁ।'

স্বল্পবাক সত্যানন্দ ইহার অতিরিক্ত আর কিছু বলিলেন না। জীবনানন্দ লিখিয়াছেন, 'দেখিলাম, অনেকক্ষণ বাবা একই স্থানে শূন্যের দিকে চাহিয়া বিষণ্ণ মনে দীর্ঘক্ষণ বসিয়া রহিলেন।'

আজ কাজী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু আমাদের জন্য কোনো লেখকমাত্রের প্রয়াণ নহে, কোনো বিশিষ্ট অনুবাদকের পরলোকগমন নহে, কোনো প্রকাশকের প্রয়াণ মাত্র নহে, ইহা আমাদের অনেকের জন্য প্রধানতম শিক্ষকের দেহাবসান। তাহার গ্রন্থাবলি যেভাবে আমাদের মধ্যে জিজ্ঞাসা উস্কাইয়া দিয়াছে, আর কেহ তা পারে নাই। শিক্ষকের কর্তব্য জ্ঞানবিতরণ। কিন্তু তাহার দায়িত্ব ছাত্রের মনে জানিবার আগ্রহ জাগ্রত করা। এই দ্বিতীয়োক্ত দায়িত্বটি কাজী আনোয়ার হোসেন সারা বাংলাদেশের জন্য পালন করিয়াছেন ইহাতে সন্দেহ নাই। কীভাবে তাহার রচনার সহিত পরিচয় হইল তাহা বলিতেছি।

১৯৬৬ সালের জুলাই মাসের এক শেষ রাতে ঘরের ভিতর নানা শব্দে ঘুম ভাঙিয়া গেল। কয়েক দিন আগে বাবা ঢাকা গিয়াছিলেন- মধ্য রাতের মেইল ট্রেনে প্রত্যাবর্তন করিয়াছেন। বাসায় পৌঁছিতে পৌঁছিতে রাত তিনটা। প্যাস্ট্রি, ড্রাইকেক, আঙুর ইত্যাদির সঙ্গে তেজগাঁও রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মের বুকস্টল হইতে খরিদ করিয়া কয়েকটি বইও তিনি আনিয়াছেন। প্যাকেট হইতে বাহির করিয়া হারিকেনের সলিতা উস্কাইয়া মেঝেতে বসিয়া একটি বই পাঠ করিতে শুরু করিলাম। বইয়ের নাম 'ধ্বংস পাহাড়'। লেখক কাজী আনোয়ার হোসেন। ঘটনা কী?

কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের শেষ পর্বের কাজ জোরেশোরে চলিতেছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান স্বয়ং উদ্বোধন করিতে আসিবেন। উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের মানুষ আব্দুর রহমান (আবদুল) তিন দিন যাবৎ বাঁধ এলাকায় একটি অচেনা স্পিডবোটের আনাগোনায় উৎকণ্ঠিত। সে ঘটনাটা চিফ ইঞ্জিনিয়ার লারসেন সাহেবকে জানাইয়াছে। লারসেন সাহেব ঘটনা তদন্ত করিতে আসিয়াছেন। আমি পড়িতেছি :

"কিছুক্ষণ চেয়ে থাকার পর রিজারভয়েরের মধ্যে দূরে একটা স্পীড-বোট দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠলেন মি. লারসেন। উঁচু একটা টিলার আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেল সেটা। আরও আধঘণ্টা পর আবদুলের কথামতো সত্যিই পানির উপরে ছোট ছোট বুদ্বুদ দেখা গেল। শক্তিশালী টর্চ জ্বেলে দেখা গেল সেই টিলার দিক থেকে বুদ্বুদের একটা রেখা ক্রমেই এগিয়ে আসছে বাঁধের দিকে। গজ পনেরো থাকতে এগোনোটা থেমে গেল, এবার এক জায়গাতেই উঠতে থাকল বুদ্বুদ।

মি. লারসেন উত্তেজিত হয়ে বললেন, 'মাই গড! আশ্চর্য! আবদুল, তুমি ছুটে যাও তো, স্টোর থেকে আমার নাম করে দুটো অ্যাকুয়া-লাঙ (ডুবুরির পোশাক) নিয়ে এসো এক্ষুণি। আর যাওয়ার পথে লোকমানকে বলে যাও আমাদের স্পীড-বোট রেডি করে ঘর থেকে যেন আমার রাইফেলটা নিয়ে আসে। যাও, কুইক।'

দৌড় দিল আবদুল। ঠিক সেই সময়ে দূর থেকে একটা ইঞ্জিন স্টার্ট নেওয়ার শব্দ শোনা গেল। সেই টিলার দিক থেকেই এল শব্দটা। ক্রমে দূরে মিলিয়ে গেল সেই শব্দ, ফিরে চলে গেল স্পীড-বোট।"

এইভাবে রহস্য-কাহিনিতে আমার অভিষেক হইয়াছিল। পৃথিবী রহস্যময়। মানুষের কাণ্ডকারখানাও রহস্যময়। মানুষ অপরাধপ্রবণ। অপরাধ থাকে রহস্যে ঢাকা। রহস্যের পরত ভেদ করিয়া শত্রুকে খুঁজিয়া বাহির করিতে হয়। ইহার জন্য প্রয়োজন হয় শারীরিক সামর্থ্য, তীক্ষষ্টবুদ্ধি, বিচিত্র জ্ঞান ও ক্ষিপ্রতা। থাকিতে হয় কৌতূহল ও জিজ্ঞাসা।

রহস্য-কাহিনির এই শিক্ষা আমাকে দখল করিল। কেবল আমাকে নহে সমসাময়িক হাজার হাজার তরুণ এই শিক্ষায় দীক্ষিত হইল। মাসুদ রানা পড়িতে গিয়া পৃথিবীর কত কিছুর সঙ্গেই না পরিচয় হইয়াছিলাম। স্কুলের গণ্ডি পারবার হইবার আগেই সমুদ্রবিজ্ঞানের সহিত পরিচয় হইয়াছিল। নানা দেশের বিচিত্র পরিবেশের সহিত পরোক্ষে পরিচয় ঘটিয়াছিল।

অল্প কয়েকটি বাক্য চরিত্র সৃষ্টিতে কাজী আনোয়ার হোসেনের জুড়ি নেই। এই সূত্রে মাসুদ রানার সহযোগী গিলটি মিয়ার কথা স্মরণ করিব।

কুয়াশা, মাসুদ রানা, মেজর জেনারেল রাহাত খান, সোহানা ইত্যাদি নায়কোচিত চরিত্র ছাড়াও কাজী আনোয়ার হোসেন আরেকটি অবিস্মরণীয় চরিত্র করিয়াছেন 'গিলটি মিয়া'। গিলটি মিয়ার আবির্ভাব মাসুদ রানা সিরিজের ৮ নম্বর বই 'সাগর সঙ্গম' নামের বইতে। গিলটি মিয়া বাঁটকু টাইপের মানুষ, লম্বায় বড়জোর চার ফুট তিন ইঞ্চি। গায়ে-গতরে নেহায়েতই শুকনা, গায়ের রং মিশমিশে কালো। পায়ের সমস্যার কারণে সে বাম পা টানিয়া টানিয়া হাঁটে। সে চলাফেরা করে একেবারে নিঃশব্দে, বেড়ালের মত। তাহার জন্য মাসুদ রানার মনে সহসা মমতার জন্ম হইল। পরে জানা গেল গিলটি মিয়া পেশায় চোর। তাহার ভাষায়, 'বত্রিশ বচোর এ লাইনে আচি।'

যেভাবে কাজী আনোয়ার হোসেন গিলটি মিয়ার চরিত্রটি অঙ্কন করিয়াছেন তাহা কৌতুকপ্রদ। গিলটি মিয়ার ভাষার মধ্যেই মজা। মাসুদ রানা প্রশ্ন করিলেন, 'তোমার নাম কী?'

'সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ চৌধুরী।'

নাম শুনিয়া মাসুদ রানা অবাক হইয়া বলিলেন, 'বল কী, সৈয়দের ছেলে হয়ে তুমি চুরি কর!' গিলটি মিঞার অকাতর উত্তর, 'আমি সৈয়দের ছেলে না, স্যার। আমার ছেলেপুলে যারা হবে তারা হবে সৈয়দের ছেলে। নামের সামনে পিচনে নিজেই দুটো ছাপ মেরে নিইচি। এ রকম অনেকেই করচে হরহামেশা। একবার চালু হয়ে গেলে আর ঠেকায়? কেউ সন্দো করে না।'

ধরা-পড়া শত্রুর প্রতি গিলটি মিয়ার বিখ্যাত উক্তি, 'নড়েচো কি মরেচো' অবিস্মরণীয়।

২.

তাহার জন্ম ১৯৩৬ সালে। ১৯৫৮ সালে বয়স যখন কেবল বাইশ, কাজী আনোয়ার হোসেন কুয়াশা নামীয় চরিত্র কেন্দ্র করিয়া রহস্য-কাহিনি লিখিতে শুরু করিলেন। একটি ব্রিটিশ রাইফেল কিনিয়া শিকারি হইবেন এই আশায় পাণ্ডুলিপি লইয়া প্রকাশকের দ্বারস্থ হইলেন। প্রকাশক দুই খণ্ড কুয়াশার জন্য কেবল দুই শত টাকা সাধিলেন। দুই শত টাকায় রাইফেল হয় না। পাণ্ডুলিপি লইয়া কাজী আনোয়ার হোসেন বাড়ি ফিরিলেন। পিতা কাজী মোতাহার হোসেন পাণ্ডুলিপি পড়িয়া বলিলেন উপস্থাপনা খুব ভালো না হইলেও কালে তিনি ভালো লিখিবেন। তিনি পুত্রের পাণ্ডুলিপিতে ঘষামাজা করিলেন।

১৯৬৪ সালে কাজী আনোয়ার হোসেন পুস্তক প্রকাশনা ব্যবসায় শুরু করিলেন এবং নিজ প্রকাশনী হইতেই কুয়াশা-১ এবং কুয়াশা-২ প্রকাশ করিবার পর কুয়াশা-৩ এবং কুয়াশা-৪ লিখিয়া ফেলিলেন। বাংলাদেশে পেপারব্যাক বই করিত ঝিনুক প্রকাশনী। এই দফায় তাহার সহিত যুক্ত হইল সেগুনবাগিচা প্রকাশনী। সংক্ষেপে সেবা প্রকাশনী। প্রথমে বিদ্যুৎ মিত্র এই ছদ্মনাম ব্যবহার করিতেন। পরে স্বনামেই লিখিতে শুরু করেন। তাহার গদ্য প্রাঞ্জল। তাহার কাহিনি আকর্ষণীয়। গুপ্তচর মাসুদ রানার কৌতূহল, বুদ্ধিমত্তা, বীরত্ব ও দেশপ্রেম মানুষকে অভিভূত করিল। মাসুদ রানার আত্মবিশ্বাস পাঠকের মনে সঞ্চারিত হইল। প্রতি খণ্ড কুয়াশা ও মাসুদ রানা হাজার হাজার কপি বিক্রয় হইত। তিনি তুলনারহিত পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করিলেন। ষাটের দশকের মধ্যভাগ হইতে প্রায় সাতান্ন বৎসর অতিক্রম হইতে চলিয়াছে। আজও মাসুদ রানা লক্ষ পাঠকের প্রিয় চরিত্র; আজও সেবা প্রকাশনীর নতুন বই বাজারে আসিলে পাঠকরা আগ্রহান্বিত হইয়া পড়েন।

৩.

জাতীয় জাদুঘরে যোগদানের অব্যবহিত পরেই কথ্য-ইতিহাস রচনার কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করিয়া বিভিন্ন বিশিষ্টজনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করিতে শুরু করি। এই সময় কাজী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাহাকে কী-কী বিষয়ে প্রশ্ন করা যাইতে পারে এই ব্যাপারে বাল্যবন্ধু আবু ফয়সাল মুহাম্মদ শাহরিয়ার মোল্লার সহিত কয়েকদিন আলোচনা চলিল। জাদুঘরে একটি অডিও-ভিডিও ইউনিট রহিয়াছে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল আমরা তাহার সেগুনবাগিচার বাসায় যাইব ও তাহার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করিব। জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের পক্ষ হইতে তাহার দপ্তরে প্রায়শ ফোন করা হয়। তিনি অসুস্থ বলিয়া সময় দিতে পারেন না। ইতোমধ্যে বৎসরাধিক কাল গড়াইয়া গিয়াছে। একদিন নিজেই ফোন করিয়া জানিলাম কণ্ঠস্বরের সমস্যার কারণে তিনি সাক্ষাৎকার দিতে অপরাগ। সুস্থ হইলে তাহার পক্ষ হইতেই যোগাযোগ করা হইবে। এইবার আশ্বস্ত বোধ করিলাম।

একদিন প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুলতান সাহেব ওয়াকিটকিতে জানাইলেন কাজী আনোয়ার হোসেন সাহেব আসিয়াছেন। তাহাকে অভ্যর্থনা জানাইতে কামরা হইতে বাহির হইলাম। সালাম বিনিময় হইল। হাত ধরিয়া তাহাকে আনিয়া সোফায় বসাইলাম। তাহার মুখে মৃদু হাসি। সাত বৎসর বয়স হইতে যাহার বই পড়িয়া আসিতেছি তিনি আমার কাছে পৃথিবীর সম্রাট। তাহার শত শত বই পাঠ করিয়া আনন্দিত হইয়াছি। সেই কাজী আনোয়ার হোসেনের পাশে বসিয়া আছি ভাবিয়া অভিভূত হইলাম।

তাহাকে কীভাবে সম্বোধন করি। সাহিত্যের জগতে বয়সের পার্থক্য উপেক্ষা সকলেই কবি-ঔপন্যাসিককে ভাই বলিয়া সম্বোধন করে। কিন্তু 'আনোয়ার ভাই' (কিংবা কাজীদা) কথাটি মুখে সরিল না। আমি অপ্রস্তুতভাবে বলিলাম, 'স্যার, আপনি আসিয়াছেন;- আমার আকৈশোরলালিত একটি সুপ্ত বাসনা আজ পূরণ হইল।'

তিনি দুই খণ্ড মাসুদ রানা আমার জন্য আনিয়াছিলেন। একটির নাম 'ইসটাবুর অভিশাপ'। কাজী আনোয়ার হোসেন স্বয়ং আমার হাতে মাসুদ রানা উপহার দিতেছেন উপলব্ধি করিয়া আকুল হইলাম।

তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, 'স্যার বলিতেছেন কেন।'

আমি কেবল বলিতে পারিলাম, "আপনি আমাদের শিক্ষক। তাই স্যার বলিতেছি। এই দেশে ছাত্ররা শিক্ষকদের 'স্যার' বলিয়াই সম্বোধন করে।"

তিনি মৃদু হাসিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, 'গিলটি মিয়ার খবর কী? সে কি জীবিত?'

এই প্রশ্নেরও উত্তর না দিয়া সুন্দর করিয়া হাসিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন। সেই দিন তাহার সান্নিধ্যে এক অভূতপূর্ব স্নিগ্ধতা অনুভব করিয়াছিলাম যাহা আজও স্মরণ করিতে পারি। সেই দিনটি আমার স্মরণীয়তম দিনগুলির একটি।

এই মহান শিক্ষককে পরমেশ্বর শান্তিতে রাখুন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com