আমিরাতে সড়কে প্রাণ গেল অন্তঃসত্ত্বা মুর্শিদা ও ছোট্ট মাইথার

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২২ । ১৯:২৫ | আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২২ । ১৯:২৫

কামরুল হাসান জনি, ইউএই থেকে

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি- সমকাল

পরপর চার কন্যা সন্তান। একটি ছেলে সন্তানের প্রত্যাশায় প্রহর গুণছিলেন কক্সবাজার জেলার সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী মুর্শিদা বেগম ও হামিদ নুর হোছাইন দম্পতি। কদিন পরই ছেলে সন্তান পৃথিবীর মুখ দেখার কথা। আনন্দে ভাসছিলেন তারা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডেলিভারির তারিখ ছিল আগামী ২৩ জানুয়ারি। কিন্তু এর আগেই তছনছ হয়ে গেল পুরো পরিবার। নবজাতকের মুখ দেখার আগেই পৃথিবীর মায়া ছাড়লেন মুর্শিদা বেগম (৩৫)। জরুরিভিত্তিতে তার অস্ত্রপাচার করা হলেও বাঁচানো যায়নি তাদের। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ শহরে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কেড়ে নিয়েছে মুর্শিদা বেগম, নবজাতক শিশু ও তার ১০ বছর বয়সী কন্যা সন্তান মাইথা হামিদের প্রাণ। একই দুর্ঘটনায় স্বামী হামিদ নুর হোছাইন ও তাদের বাকি আরও তিন মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছে।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় নিহত নবজাতক ও মা-মেয়েকে বুধবার রাতে দেশটির আজমান শহরের একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হামিদ নুর হোছাইন ও এক কন্যা রওদা হামিদ (৫) শারজাহ আল কাসেমি হাসপাতালে এবং বাকি দুই কন্যা হাফসা হামিদ (৯) ও রেনাদ হামিদ (৩) রাস আল খাইমার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত গাড়ি চালককে আটক করেছে পুলিশ।

নিহতের আত্মীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার রাতে হামিদ নুর হোছাইন তার চার মেয়ে ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীসহ গাড়ি নিয়ে বাসা থেকে বের হন। যাত্রাপথে গাড়ি শারজাহ কাদেসিয়া সিগনালে দাঁড়ায়। এ সময় দ্রুতগামী একটি গাড়ি পেছন থেকে ধাক্কা দেয় তাদের। তাদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অন্য গাড়ির ওপর দুমড়েমুচড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় বড় মেয়ে মাইথা হামিদ। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে স্থানান্তর করে। হাসপাতালে জরুরিভিত্তিতে অন্তঃসত্ত্বা মুর্শিদার অস্ত্রপাচার করলেও বাঁচানো যায়নি মা ও নবজাতক সন্তানকে।

আরব আমিরাতে টেকনাফ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, ১৯৬৬ সাল থেকেই হামিদ নুর হোছাইন পরিবার নিয়ে থাকেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ শহরে। তার পৈত্রিক নিবাস কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায়। মুর্শিদা বেগমের পৈত্রিক নিবাস কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায়। মুর্শিদা-হামিদ দম্পতির জন্ম, বেড়ে ওঠা ও বৈবাহিক সম্পর্ক তৈরি হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতেই। একইভাবে তাদের সন্তানদেরও জন্ম-বেড়ে ওঠা সেখানে। তবে এবার ভাগ্য ইতি টেনেছে তাদের। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বেড়ে ওঠা শহরেই রচিত হলো মা-মেয়ে ও নবজাতকের সমাধি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com