নিয়োগ জালিয়াতি: জীবন বীমার এমডির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২২ । ২০:৩২ | আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২২ । ২৩:০৪

সমকাল প্রতিবেদক

জীবন বীমা করপোরেশনের তিনটি পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্রেই উত্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতেই এটি করা হয়েছিল। পরে পছন্দের প্রার্থীদের কাছে ওইসব প্রশ্নপত্র সরবরাহও করা হয়েছিল। নিয়োগ পরীক্ষায় এই অভিনব জালিয়াতির অভিযোগে করপোরেশনের বর্তমান এমডি মো. জহুরুল হকসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূর আলম সিদ্দিকী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা (নং ১৫) করেন। মামলার অপর আসামী হলেন, করপোরেশনের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম।

এজাহারে বলা হয়, আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে করপোরেশনের উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও অফিস সহায়ক পদে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশে পরীক্ষার আগে থেকেই তাদের কাছে প্রশ্নের উত্তর লেখা সম্বলিত প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। এ লক্ষ্যে তারা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রশ্ন ও প্রশ্নের উত্তরের ধারাবাহিক ক্রমবিন্যাস পরিবর্তন করে সুকৌশলে নিজেদের সুবিধামত বিন্যস্ত করে।

মামলা করার কথা নিশ্চিত করে এর এজাহার সম্পর্কে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, জীবন বীমা করপোরেশনের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি ও অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেদের মতো করে প্রশ্নপত্র পরিবর্তনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। মামলা পরবর্তী তদন্তে এই অনিয়ম, দুর্নীতির সঙ্গে আরও কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি অন্য প্রতিষ্ঠানের নিয়োগেও দুদকের নজর থাকবে।

এজাহারে বলা হয়, এই নিয়োগ পরীক্ষা জালিয়াতিতে এমডি মো. জহুরুল হক ও কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম সরাসরি জড়িত ছিলেন। তারা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন কমিটি কর্তৃক সরবরাহ করা প্রশ্নপত্র ও উত্তর নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী বিন্যস্ত করেন। এজাহারে প্রশ্নের উত্তর জানিয়ে দেওয়ার পদ্ধতির বিবরণও উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, জীবন বীমা করপোরেশনের তিনটি পদের পছন্দের প্রার্থীদের প্রশ্ন ও উত্তর জানিয়ে দেয়ার মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়া হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এমডি মো. জহুরুল হক ও মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম সরকারি কর্মকর্তা হয়েও পদগুলোর নিয়োগ পরীক্ষার এমসিকিউ প্রশ্নপত্র প্রণয়নের ক্ষেত্রে অভিনব পন্থায় উত্তর জানিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com