১২ মাস বেতন বকেয়া থাকলে পৌর পরিষদ বাতিল

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২২ । ১৯:৫২ | আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২২ । ২০:০২

সমকাল প্রতিবেদক

মেয়াদ শেষে ভোট না হলে প্রশাসক বসানোর সুযোগ ও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাধিক্রমে ১২ মাস বেতন বকেয়া থাকলে পৌর পরিষদ বাতিল করার প্রস্তাব রেখে জেলা পরিষদ ও পৌরসভা আইন সংশোধনে দুটি বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। 

পৃথকভাবে ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল ২০২২’ এবং ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) -২০২২’ বিল দুটি উত্থাপণ করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

পরে বিল দুটি পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। 

চলতি মাসের মধ্যে দেশের প্রায় সবগুলো জেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হতে চলছে।

বিলে বলা হয়েছে— জেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হলে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনায় সরকার প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারবেন। প্রতি জেলায় ১৫ জন সাধারণ সদস্য এবং ৫ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্যের পরিবর্তে জেলার অন্তর্গত উপজেলার সমানসংখ্যক সদস্য এবং এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষিত সদস্য নিয়ে পরিষদ গঠন হবে। প্রস্তাবিত আইনে উপজেলা পরিষদগুলোর চেয়ারম্যান, নির্বাহী অফিসার ও মেয়র পরিষদের সভায় অংশ নিতে পারবেন। তবে তাদের ভোটাধিকার থাকবে না।

বিদ্যমান আইনে নির্বাচন কমিশনকে ভোটার তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া থাকলেও প্রস্তাবিত আইনে নির্বাচন কমিশনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে জেলা পরিষদের কার্যক্রমে সরকারের পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। জেলা পরিষদকে প্রতি অর্থ বছর শেষে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে সম্পাদিত কার্যাবলীর ওপর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন দাখিল করার কথা বলা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে জেলার আয়তন, জনসংখ্যা ও উপজেলার সংখ্যা ইত্যাদি নির্বিশেষে সকল জেলা পরিষদে সমসংখ্যক মোট ২১ জন সদস্য রয়েছে। কিন্তু বৃহৎ আয়তনের তুলনায় ক্ষুদ্র আয়তনের জেলা পরিষদগুলোর রাজস্ব আয়ের সংস্থান খুবই কম। ফলে ক্ষুদ্র জেলার পরিষদের পক্ষে সদস্যদের সম্মানী পরিশোধ ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহের পর উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ সম্ভব হয় না। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে প্রত্যেক জেলা পরিষদের সদস্য সংখ্যা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান আইনে জেলা পরিষদগুলোর মেয়াদ ৫ বছর শেষ হওয়া সত্ত্বেও নতুন পরিষদের ১ম সভায় মিলিত না হওয়া পর্যন্ত আগের পরিষদ দায়িত্ব পালন করতে পারে। এ শর্তটি সংশোধন করে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে পরবর্তী নতুন পরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক নিয়োগ করা প্রয়োজন।

পৌরসভায় মেয়াদ শেষে বসবে প্রশাসক

পৌর পরিষদের মেয়াদ শেষ হলে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারের প্রশাসক নিয়োগের বিধান এবং কোনো পল্লী এলাকাকে শহর এলাকা ঘোষণায় প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব বাড়িয়ে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) বিল-২০২২ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে বলা আছে, পৌরসভা ঘোষণা করতে হলে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে গড়ে দেড় হাজার হতে হবে। এর কম হলে হবে না। প্রস্তাবিত আইনে, এই সংখ্যা বাড়িয়ে দুই হাজার করা হয়েছে। বিলে পৌরসভার সচিবের পদের নাম বদলে 'পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা' করা হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, পৌরসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন পরিষদ গঠনের আগ পর্যন্ত কাজ চালানোর জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেবে সরকার। সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা সরকার উপযুক্ত মনে করে এমন কোনো ব্যক্তিকে প্রশাসক নিয়োগ দেবে।

বিলে পৌরসভার পরিষদের বাতিল সংক্রান্ত ধারায় নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাধিক্রমে ১২ মাস বেতন বকেয়া থাকলে পরিষদ বাতিল হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নত জীবন ও পর্যাপ্ত নাগরিক সেবার প্রত্যাশায় অধিক সংখ্যাক মানুষ শহরমুখী হচ্ছেন। একইসঙ্গে শহর এলাকার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন নতুন অনেক পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর দেখা যায় যে, পৌরসভার নাগরিক সেবা প্রদান এবং নিজস্ব প্রশাসন পরিচালনার সক্ষমতা থাকে না। সুশাসন নিশ্চিত ও পর্যাপ্ত সেবা প্রদানের শহরগুলোকে বাসযোগ্য করতে শহর গঠনে জনসংখ্যার ঘনত্বের মান পরিবর্তন প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান আইনে পৌরসভাসমূহের মেয়াদ পাঁচ বছর শেষ হওয়া সত্বেও নতুন পরিষদ প্রথম সভায় মিলিত না হওয়া পর্যন্ত, আগের পরিষদ দায়িত্ব পালন করতে পারে। অনেক সময় পৌরসভার মেয়াদ শেষ হলেও বিভিন্ন কারণে রিট মামলা বা অন্য কোনো মামলা করে মেয়াদোত্তীর্ণ পরিষদ অনির্ধারিত সময়ের জন্য পৌর প্রশাসন পরিচালনা করে। ফলে আইনের এ শর্তটি সংশোধনক্রমে মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভার ক্ষেত্রে নতুনপরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক নিয়োগ করা প্রয়োজন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com