পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

হিরুকে আসলে বিষ খাওয়াল কে?

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২২ । ২২:১৩ | আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২২ । ২২:১৩

ফরিদপুর অফিস

হিরু মাতুব্বর

ফরিদপুরের নগরকান্দায় এক কৃষককে ঘাস নিধনের ওষুধ বা বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে, যা মৃত্যুর আগে তিনি নিজেই বলে গেছেন। কিন্তু তার ঘাতক কে? এ নিয়ে তার দুই স্ত্রী পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলছেন।

উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের রাজকান্দা গ্রামের বাসিন্দা হিরু মাতুব্বরের (৫১) মৃত্যুর আগমুহূর্তের কথাসহ একটি ভিডিও সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

তার ভাই সোহরাব মাতুব্বর বলেন, হিরুকে বিষ খাওয়ানো হয়েছে, এটি জানতে পেরে আমরা তাকে পার্শ্ববর্তী শ্রীরামদিয়া গ্রামে তার দ্বিতীয় স্ত্রী রানু বেগমের বাড়িতে রেখে আসি। কারণ হিরু দুই মাস আগে ওই গ্রামের জাফর মাতবরের মেয়ে রানুকে বিয়ে করে সেই বাড়িতেই থাকা শুরু করে। তার প্রথম স্ত্রী হায়াতুন্নেছা ও তিন সন্তান রাজকান্দায় আমাদের বাড়িতে থাকে। কে বা কারা তাকে বিষ খাইয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দুই স্ত্রী পরস্পরকে দোষারোপ করছে।

স্থানীয় সামন মাতুব্বর বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় রাজকান্দায় হিরুকে তার বাড়ির পাশের বাগানে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পাই। এ সময় ডাকাডাকি করলে হিরুর ছেলে হোসাইন মাতুব্বর এগিয়ে আসে। তার কাছে জানতে চাইলে হোসাইন জানান, শ্রীরামদিয়ার পাঁচ-ছয়জন লোক তার বাবাকে ঘাস মারার বিষ খাইয়ে এই বাগানে ফেলে গেছে।’ এ সময় হিরু কয়েকজনের নাম বলেন। কিন্তু তার কথা স্পষ্ট না হওয়ায় নামগুলো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই দৃশ্য মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করে রাখি এবং পরে ফেসবুকে পোস্ট দিই।

স্থানীয়রা জানান, অসুস্থ হিরুকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী রানু। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে হিরুর বিরোধ চলছিল।

হায়াতুন্নেছা বলেন, হিরু দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে আমাদের খোঁজখবর নিতেন না। শনিবার তাকে বিষ খাইয়ে আমাদের বাগানে রেখে গেলে আমরা তাকে ফের তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে রেখে আসি।

এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে রানুকে তার বাড়িতে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনটিও বন্ধ। তবে তার বাবার বাড়ির লোকজনের দাবি, হিরুর প্রথম স্ত্রী হায়াতুন্নেছা ও তার পরিবারের লোকজন এই মৃত্যুর জন্য দায়ী।

ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) সুমিনুর রহমান বলেন, কৃষক হিরুকে আসলে খুন করা হয়েছে না তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তা নিশ্চিত নয়। তার লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় কেউ মামলা না করলেও তদন্ত চলছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com