গ্রামবাসীর অভিযোগ

জামিনে মুক্তি পেয়েই ভয় দেখাচ্ছে ওরা

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২২ । ২৩:০৫ | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২২ । ২৩:০৮

খুলনা ব্যুরো

সংবাদ সম্মেলন

খুলনার মশিয়ালীতে তিন খুনের ঘটনায় মামলার আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকাবাসী ও বাদীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাইরের লোক এনে এলাকায় মহড়াও দিচ্ছে তারা। এমনকি জামিনে বেরিয়ে এলাকার আড়াই শতাধিক মানুষের নামে তারা উল্টো মামলাও করেছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে আরও মামলা দেওয়ার। এসব কারণে গ্রামবাসী এখন আতঙ্কের মধ্যে আছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বাদীকে হত্যার হুমকি ও মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন এলাকাবাসী। যে স্থানে গ্রামবাসীকে গুলি করা হয়েছিল, সেখানেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। 

এলাকাবাসী স্থানটির নাম দিয়েছে মশিয়ালী শহীদ স্মৃতি চত্বর। ঘটনার পর গঠন করা হয় মশিয়ালী সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি। এই কমিটিই এ সংবাদ সম্মেলন করে।

২০২০ সালের ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে মশিয়ালী গ্রামের পূর্বপাড়ার সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি ছোড়ে এলাকার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা শেখ জাকারিয়া, তার মেজ ভাই শেখ মিল্টন ও ছোট ভাই শেখ জাফরিন হাসান। এতে ঘটনাস্থলেই আলিম জুট মিলের শ্রমিক নজরুল ইসলাম (৬০) ও দিনমজুর গোলাম রসুল (৩০) মারা যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান কলেজছাত্র সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায় গুলি লেগেছিল অন্তত আরও ১০ জনের। ঘটনার পর সাইফুলের বাবা সাইদুল শেখ বাদী হয়ে জাকারিয়া, মিল্টন, জাফরিনসহ ২২ জনের নামে মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নজরুল ইসলামের ভাতিজা মো. মাসুম বিল্লাহ। তিনি বলেন, ঘটনার পর এলাকাবাসীর একতাবদ্ধতা ও পুলিশ প্রশাসনের আন্তরিকতায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঠাণ্ডা মাথার এসব খুনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে এলাকাবাসী। নিহতের স্বজন ও এলাকার সর্বস্তরের মানুষের দাবি, খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

তিনি বলেন, ঘটনার পর রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি। থামেনি নিহতের স্বজনের কান্না। সন্ত্রসীদের হামলায় গুরুতর আহতরা এখনও যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। ঠিক তখনই জাফরিন, জাকারিয়া, মিল্টনসহ অন্য আসামিরা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছেন। জাফরিন ও জাকারিয়া এলাকার আড়াই শতাধিক মানুষের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করেছেন। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও অনেককে। নতুন করে মামলা দিয়ে এলাকাবাসীকে গ্রামছাড়া করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আটরা গিলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মনিরুল ইসলাম, মশিয়ালী সন্ত্রাস নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক ইউপি সদস্য বক্তিয়ার পারভেজ, সদস্য সচিব আব্দুস সালাম গাজী, মুনতাজ গাজী, সংরক্ষিত ইউপি সদস্য রাজিয়া বেগম প্রমুখ।

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন কেএমপির গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক মো. এনামুল হক। এখন তিনি লবণচরা থানার ওসি। জানতে চাইলে এনামুল হক বলেন, মামলাটিতে মোট ১১ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল। ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছিল। গত বছর আদালতে ২২ জনের নামেই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com