সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর ছাড়ের আবেদনে বিব্রত হয় এনবিআর: এনবিআর চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২২ । ২০:০৪ | আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২২ । ২০:১৭

সমকাল প্রতিবেদক

বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবসায়ীদের কর ছাড়ের আবেদন করা হচ্ছে জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান কর ছাড়ের আবেদন করলে এনবিআর বিব্রত হয়।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত ৯ শতাংশের মতো। ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অনেক মন্ত্রণালয় থেকেও কর ছাড়ের আবেদন করা হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান কর ছাড়ের আবেদন করলে এনবিআর বিব্রত হয়। কর দেওয়ার সংস্কৃতিতে গতি আনতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাচাঁমালে করছাড় দেওয়া হচ্ছে। এসব ছাড় দেওয়া না হলে কর-জিডিপি অনুপাত ১৬ শতাংশ হত।’

এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক অর্থ পাচার রোধে কাস্টমসহ সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, ‘আমদানি-রপ্তানিতে ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা বিদেশে চলে যায়। নানা মহলে এ নিয়ে সমালোচনা হয়। ব্যবসায়ী বা সরকারি চাকরিজীবীদের কেউ কেউ দুর্নীতি ও কর ফাঁকির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থ পাচার রোধে কাস্টমস কর্মকর্তারা অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।’

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কোনোভাবেই কোনো ব্যবসায়ী যাতে বিদেশে টাকা পাচার না করতে পারেন সে বিষয়ে কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ করতে হবে। তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, ‘মাত্র ৩০ থেকে ৪০ বছরের ব্যবধানে দক্ষিণ কোরিয়া উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছেছে। কীভাবে তা সম্ভব হয়েছে? মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে দেশটিতে বড় ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা ছিল। এই ধরনের অপরাধের জন্য ক্যাপিটাল পানিশমেন্টও দেওয়া হয়েছে সেখানে। দেশটি বৈদেশিক মুদ্রাকে রক্ষা করে ভারি শিল্পের দিকে এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশকেও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে।’

ডিজিটাইজেশন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন কৃষিমন্ত্রী। 

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। ছবি-সংগৃহীত

তার মতে, সিস্টেম ডিজিটাল হলে কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ কমে যায়। কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর ফাঁকির সুযোগ কমাতে হবে। তার মতে, দুটো বিষয়ের প্রতি সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে। সেগুলো হচ্ছে- মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো।

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনও ডিজিটাইজেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য এর কোনও বিকল্প নেই। এছাড়া ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে কোনো নীতিমালা প্রণয়নে অবশ্যই এফবিসিসিআইকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

এনবিআরের সদস্য (শুল্ক্কনীতি) মাসুদ সাদিক অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউসিও) ‘সার্টিফিকেট অব মেরিট’ সম্মাননা দেওয়া হয় ১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তিন প্রতিষ্ঠানকে। প্রতিষ্ঠান তিনটি হল- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), ইকনোমিক রিপোটার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও বেনাপোল কাস্টমস হাউস।


© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com