শাবির ঘটনায় তদন্ত হচ্ছে, পুলিশ দায়ী থাকলে ব্যবস্থা: ডিআইজি হায়দার

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২২ । ২৩:৪৯ | আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২২ । ২৩:৪৯

সমকাল প্রতিবেদক

রাজারবাগ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ডিআইজি মো. হায়দার আলী খান। ছবি: ফোকাস বাংলা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হয়রানি বা হামলার অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি মো. হায়দার আলী খান।

তিনি বলেন, বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তর দেখছে। বিভাগীয় তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সপ্তাহ ২০২২ উপলক্ষে চতুর্থ দিনের অধিবেশন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মো. হায়দার আলী খান এসব কথা বলেন। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাজারবাগ মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙিয়ে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর একটি স্মারকগ্রন্থে লেখার সম্মানী হিসেবে পাওয়া ১০ হাজার টাকা তিনি ছাত্রদের আন্দোলনের ফান্ডে দিচ্ছেন। পারলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করুক। সাংবাদিকদের এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, এটি তদন্তের বিষয়। তদন্তে অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র কিছু নিয়মকানুন আছে। পুলিশ শুধু ল অ্যান্ড অর্ডার ম্যানেজমেন্ট, আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি দেখে। পুলিশ সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত হয় প্রশাসনের আমন্ত্রণে।

'ডোপ টেস্টে' পুলিশের ৩৭ সদস্য চাকরি খুইয়েছেন জানিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি হায়দার আলী খান বলেন, 'বছরখানেক আগে পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট শুরু হয়। এই টেস্টে মাদক সেবনের প্রমাণ মিললে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'

ডিআইজি বলেন, বাংলাদেশে প্রথম পুলিশ বাহিনীতে 'ডোপ টেস্ট' কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখন চাকরির শুরুতে ডোপ টেস্ট করা হয়। পরেও এই টেস্ট অব্যাহত থাকে। তিনি জানান, অনলাইন জিডি আরও সহজতর ও বিস্তৃত করতে চায় পুলিশ। জনগণের আইনি সহায়তা আরও সুগম করার লক্ষ্যে সার্কেল অফিসের কার্যক্রম বেগবান ও পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। ২০৪১ সালের উপযোগী করে হাইওয়ে পুলিশকে গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।

অধিবেশন শেষে বিকেল ৫টায় সংবাদ সম্মেলন ডিআইজি (অপারেশন্স ও মিডিয়া অ্যান্ড প্ল্যানিং) হায়দার আলী খান বলেন, জনবান্ধব ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পুলিশের আধুনিকায়ন প্রয়োজন। পুলিশের সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ডে বিট পুলিশিং কার্যালয় স্থাপন, সাইবার অপরাধ দমনে স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠা, দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার সুবিধার্থে আলাদা মেডিকেল সার্ভিস গঠন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে অধিবেশনে।

বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা জানান, পুলিশের মোট ১৭৮টি ইউনিট রয়েছে। সব ইউনিটের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এসব প্রস্তাবের বেশ কিছু বিষয় নিয়ে গতকালের সভায় আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনা আজও চলবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com