মেট্রোরেলের উড়ালপথের পুরোটাই এখন দৃশ্যমান

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২২ । ১২:৫০ | আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২২ । ২৩:৩৩

সমকাল প্রতিবেদক

ছবি সমকাল

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নির্মাণাধীন মেট্রোরেলের (এমআরটি-৬) পুরো উড়ালপথ (ভায়াডাক্ট) দৃশ্যমান হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ৫৮২ এবং ৫৮৩ নম্বর পিয়ারের (খুঁটি) মধ্যে ভায়াডাক্টের শেষ অংশ বসানো হয়। 

এর মাধ্যমে দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথের কাজ শেষ হয়েছে।

মেট্রোরেলের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএনএ ছিদ্দিক সমকালকে বলেন, পুরো ভায়াডাক্টের কাজ শেষ। এর মানে নীচে আর কোনো কাজ নেই। এখন থেকে মেট্রোরেলের উড়াল পথের ওপরে কাজ চলবে। উড়াল পথের ওপর এখন রেললাইন এবং বিদ্যুতের লাইন স্থাপন করা হবে। এসব কাজ ওপরে হবে। তাই নির্মাণ দুর্ভোগ হবে না। 

ভায়াডাক্টের কাজ শেষ হলেও মেট্রোরেলপথ নির্মাণ করতে সড়কে যেসব ব্যারিয়ার বসানো হয়েছে, সেগুলো এখনই সরছে না। এসব ব্যারিয়ারের কারণে সড়ক সরু হয়ে গেছে। গত চার বছর ধরে সরু সড়কে গাড়ি চলাচলের জায়গা কমায় যানজট হচ্ছে। চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। 

এমএনএ ছিদ্দিক সমকালকে আরও বলেন, আগামী এপ্রিলের মধ্যে দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও অংশের ভায়াডাক্টের নীচের ব্যারিয়ার সরিয়ে নেওয়া হবে। এর পর সড়ক সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশে ভায়াডাক্টের নীচের ব্যারিয়ার সরানো হবে।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, আগামী ১৬ ডিসেম্বর দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও অংশে ট্রেন চলবে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মতিঝিল পর্যন্ত উড়ালপথের ওপর ট্রেন চলবে। বৃহস্পতিবার মেট্রোরেলের ১০ম ট্রেন সেটটি দিয়াবাড়ির ডিপোতে এসে পৌঁছেছে। 

এমআরটি-৬ রেলপথে মোট ২৪ সেট ট্রেন চলবে। প্রতিটি ট্রেনে ছয়টি করে বগি থাকবে। সামনের ও পেছনের দুই বগিতে বিদ্যুতচালিত ইঞ্জিন থাকবে। মাঝের চার বগির পুরোটা ব্যবহৃত হবে যাত্রী পরিবহনে। ১০ সেট ট্রেন দিয়ে দিয়াবাড়ি-আগারগাঁও অংশ চালু হবে আগে। প্রতিদিন আট সেট ট্রেন চলবে। বাকি দুই সেট থাকবে রিজার্ভে। এসব ট্রেনের পারফরমেন্স টেস্ট চলছে। 

উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দেশের প্রথম মেট্রোরেল ব্যবস্থা এমআরটি-৬ লাইনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। প্রকল্প পরিরকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শেষ হবে। কাজ শেষ হলে ১৬টি স্টেশনের মেট্রোরেল ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী বহন করতে পারবে। এতে ৪০ মিনিটেই উত্তরা থেকে মতিঝিল পৌঁছানো যাবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মেট্রোরেল পথ মতিঝিল থেকে কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত এক দশমিক ১৬ কিলোমিটার বর্ধিত করা হবে। এ জন্য প্রকল্প ব্যয় ১১ হাজার ৪৮৭ কোটি এবং মেয়াদ এক বছর বাড়াতে প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রস্তাব সরকারের অনুমোদ পেলে প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। 

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  বলেন, কমলাপুর পর্যন্ত লাইন বর্ধিত করা এবং মেট্রোরেলকে আরও বেশি যাত্রীবান্ধব করতে ব্যয় বাড়বে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের সার্বিক গড় অগ্রগতি এখন প্রায় ৯০ শতাংশ। আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের সার্বিক গড় অগ্রগতি ৭৩ শতাংশ। 

মেট্রোরেলের স্টেশনগুলোর নীচে প্রশস্ত ফুটপাত নির্মাণ করবে ডিএমটিসিএল। প্রকল্প শুরুর সময় তা নকশায় ছিল না। এমএএন ছিদ্দিক বলেন, মেট্রোরেল এর আগে দেশে হয়নি। তাই তখন বোঝা যায়নি স্টেশনে যাত্রী উঠানামায় কতটা প্রশস্ত ফুটপাত দরকার। এখন স্টেশন আকার পাওয়ায় বোঝা যাচ্ছে। স্টেশনের পাশে জমি বেসরকারি মালিকানাধীন। এগুলো অধিগ্রহণে ব্যয় বাড়বে। এ ছাড়া প্রকল্পে আর কেনো ব্যয় বাড়ছে না। 

তিনি আরও জানান, কমলাপুর পর্যন্ত লাইন বর্ধিত করা, যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ট্রান্সপোর্ট ওরিয়েন্ট ডেভলপমেন্ট (টিওডি) মূল পরিকল্পনায় ছিল না। টিওডির মাধ্যমে স্টেশন এলাকায় বাস স্ট্যান্ড, ট্যাক্সি স্ট্যান্ড, বাণিজ্যিক স্থাপনা, অফিস, হোটেল, শপিং মল নির্মাণ করা হবে। যাতে যাত্রী স্টেশনের কাছেই তার প্রয়োজনীয় সব কাজ করতে পারে। কমলাপুর পর্যন্ত লাইন বর্ধিত করতে এক হাজার ৮৭ কোটি টাকা লাগতে পারে। টিওডি ও ফুটপাথের জন্য জমি অধিগ্রহণে পাঁচ হাজার ৩৭০ কোটি ব্যয় বাড়তে পারে।  এই দুই কাজের জন্য সাত হাজার কোটি টাকার মতো প্রয়োজন। এ ছাড়াও ভ্যাট ও কর বেড়েছে। কাজ শুরুর সময় ডলারের দর ছিল ৭০ টাকা। তা এখন ৮৮ টাকা। ঠিকাদারকে ডলারে বিল দিতে হয়। সে কারণেও ব্যয় বাড়াতে হচ্ছে। 

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com