তৈমূর আমার ক্যান্ডিডেট ছিলেন না: শামীম ওসমান

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২২ । ২০:০৬ | আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২২ । ২০:০৬

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনে জয়ী কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে কর্মী সমাবেশ করেছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার নম পার্কে আয়োজিত এই কর্মী সমাবেশে শামীম ওসমানই একমাত্র বক্তা ছিলেন। তিনি কর্মীদের নানা বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। এসময় সামনের দিনগুলো কঠিন আখ্যা দিয়ে আলোচিত ত্বকী হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন শামীম ওসমান। পাশাপাশি পরাজিত মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার সম্পর্কেও কথা বলেন তিনি। 

শামীম ওসমান বলেন, গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে একটা ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে তিনি অনেক কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। সামনে আমাদের চরম কঠিন পরীক্ষা পার করতে হবে। আমাদের দায়িত্ব এই মেসেজটা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।

শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জে একটা নির্বাচন হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটির নির্বাচন এলেই খেলা শুরু হয়ে যায়। ২০১১ ও ২০১৬ তে এবং এবার কী করেছি, তা আমি জানি। বলব না, কারণ দলকে ভালোবাসি। রাজনীতিতে আঘাত পেয়েছি, কিন্তু কষ্ট পাইনি। আমার বাবা-মা, ভাইয়ের কবর নিয়ে যা হয়েছে, তা কোনো সন্তান মানতে পারে না। নেত্রী আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি সব বিষয় হজম করি, আমি নীলকণ্ঠী’। আমাকে আঘাত করে কথা বললেও আমি কিছু বলি না। কারণ আমি আমার নেত্রীর মতো হতে চাইছি।

>> প্রধানমন্ত্রী আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন ‘অল থ্যাঙ্কস টু ইউ’: শামীম ওসমান

সদ্যসমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, আমি সেদিন (১০ জানুয়ারি) প্রেস কনফারেন্স না করলে সমস্যা হত। একটা পক্ষ মাঠে নেমেছিল, কারা এরা। কেউ কেউ লিখেছিল, তৈমূর আলম খন্দকার আমার ক্যান্ডিডেট। দল আমাকে দিয়ে তৈমূর ভাইকে কিছু প্রমাণ করার জন্য দাঁড় করিয়েছে। দলের কেউ আমাকে এমন নির্দেশনা দেয়নি। তিনি আমার ক্যান্ডিডেট ছিলেন না। এত নিচু লেভেলের চিন্তা আমার নেত্রীর নেই। রাজনীতিতে কিছু নোংরামি আছে।

তিনি বলেন, সামনে বড় আঘাত আসছে দেশের ওপরে। তবে যত আঘাত আসছে, প্রধানমন্ত্রী নিজের ওপর নিচ্ছেন। হয়ত আগামী এক-দুই মাসে একটা আঘাত করার চেষ্টা হবে। তবে শেখ হাসিনার ওপর কোনো আঘাত এলে বসে থাকব না। এ জন্য কর্মীদের তিনি প্রস্তুত হতে বলেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ত্বকী হত্যা প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, কিশোর ত্বকী হত্যার ঘটনায় অনেকে আমার ও আমার পরিবারকে দায়ী করে। হয়ত কিছুদিনের মধ্যে সাত থেকে আটজন ফুটপাতে দাঁড়াবেন, দুই তিনজন শ্রোতা থাকবেন, সেখান থেকে ত্বকী হত্যার জন্য আমাকে ও আমার পরিবারকে দায়ী করে বক্তব্য দেওয়া হবে।

শামীম ওসমান বলেন, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে চাই অবিলম্বে ত্বকী হত্যার বিচার করা হোক। প্রয়োজনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করা হোক। আমি দাবি তুললাম। কারণ এ হত্যার কথা বলে আমার পরিবারের বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অনেকে সস্তা কথা বলে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে চায়। পাশাপাশি শহরের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই। আমরা নারায়ণগঞ্জে কারও পায়ে ভর দিয়ে রাজনীতি করি না। আমাদের নেতা একজনই, শেখ হাসিনা। বাকি আর কাউকে নেতা হিসেবে গোনায় ধরি না।

কর্মীসভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি চন্দন শীল, সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফ উল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু প্রমুখ।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com