২৪ দিন পর তামাবিল দিয়ে ডিজিটালি আমদানি-রফতানি শুরু

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২২ । ২০:২৬ | আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২২ । ২০:২৬

গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি

ছবি: সমকাল

ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে নয়, অবশেষে ডিজিটাল পদ্ধতিতেই (অটোএসএমএস) পরীক্ষামূলকভাবে মঙ্গলবার থেকে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। যদিও এ অটো এসএমএস বা ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর প্রতিবাদে গত ৭ জানুয়ারি থেকে টানা ২৪ দিন ধরে এ বন্দরের ব্যবসায়ীরা আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিলেন।

সোমবার বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে তামাবিল স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী নেতারা পরীক্ষামূলকভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমদানি রপ্তানি শুরু করতে সম্মত হন। মঙ্গলবার ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমদানি রপ্তানি শুরুর প্রথম দিন বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভারতীয় শতাধিক ট্রাক পাথর নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। যা ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে আমদানির চেয়ে কয়েকগুণ কম।

তামাবিল স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সোমবার বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে ঢাকায় বৈঠক হয় তাদের। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অটোএসএমএস বা ডিজিটিাল পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলকভাবে আমদানি রফতানি চালু করতে সম্মত হন তারা। এ পদ্ধতিতে আমদানি রফতানির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ট্রাফিক) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তামাবিল স্থলবন্দরে অবস্থান করছে। 

এ বিষয়ে তামাবিল স্থলবন্দরের পাথর, চুনা পাথর ও কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন ছেদু জানান, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরীক্ষামূলকভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমদানি রফতানি কার্যক্রম চালু করা হলেও এ পদ্ধতিতে ধীরগতি ও ডাউকির সঙ্গে পণ্য পরিমাপের ক্ষেত্রে ওজনে তারতম্যের কারণে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হবে। আমরাও চাই ডিজিটালাইজেশন হোক। তবে, ডাউকি স্থলবন্দরের কাজ শেষ হওয়ার পর একসঙ্গে দুই দেশে তা চালু হলে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না আর সরকারও সঠিক রাজস্ব পাবে।

তামাবিল স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, শুধু বন্দর ট্যারিফ বাবদ প্রতিদিন সরকারের ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা ও রাজস্ব বাবদ আরও প্রায় ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। গত ২৪ দিন ধরে আমদানি রফতানি বন্ধ থাকায় সরকার প্রায় ১০-১২ কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।

তামাবিল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, বন্দর সচল থাকলেও ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা আমদানি রফতানি বন্ধ রেখেছিল। আজ থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতেই আমদানি রফতানি শুরু করেছেন তারা। আর এ পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করতে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ট্রাফিক) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তামাবিল স্থলবন্দরে অবস্থান করছে। ওনারা ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমদানি রফতানির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।

আমদানি বন্ধের আগে মেঘালয় ও শিলং থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে ছয়শ থেকে সাতশ ট্রাক তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতো। ভারতের ডাউকি স্থলবন্দরে ফিতা দিয়ে মেপে ওইসব পণ্য তামাবিল বন্দরে প্রবেশের পর একই পদ্ধতিতে মাপা হতো। ২০২১ সালে তামাবিল স্থলবন্দরে অটোএসএমএস পদ্ধতি চালুর উদ্যোগের পর ৭ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করা হয়। আর নতুন পদ্ধতি চালুর প্রতিবাদে ওইদিন থেকেই আমদানি রফতানি কার্যক্রম বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা।


© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com