অর্ধশত অস্ত্রধারী, কাউকেই ধরতে পারেনি পুলিশ

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২২ । ০১:৪২ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশেষ প্রতিনিধি, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে ফিরে

ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে অর্ধশত অস্ত্রধারী প্রকাশ্যে গুলি চালালেও কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার করা যায়নি কোনো অস্ত্র। নির্বাচনী সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ ও রামদার কোপে মারা গেছে দু'জন। হাসপাতালে কাতরাচ্ছে গুলিবিদ্ধ আরও ১০ ব্যক্তি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায়ও সাতকানিয়ায় গোলাগুলি হয়েছে। নবনির্বাচিত এক মেম্বার ও তার অনুসারীরা এবার গুলি করেছে চেয়ারম্যানের গাড়িতে। এমন অস্ত্রের মহড়ার পরও কাউকে ধরতে না পারায় পুলিশের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক বলেন, 'আমাদের একাধিক দল অভিযান অব্যাহত রেখেছে। অনেককেই আমরা নজরদারিতে রেখেছি। যে কোনো সময় অস্ত্রধারীদের ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য তথ্য দেওয়া যাবে।'

এত অস্ত্র গেল কোথায়- এমন প্রশ্নের জবাবে সাতকানিয়া থানার ওসি আবদুল জলিল বলেন, 'অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার করতে পারলে হদিস পেতাম অস্ত্রেরও। জানতে পারতাম অস্ত্রের জোগানদাতার নামও। এ নিয়ে কাজ করছে আমাদের একাধিক দল। মঙ্গলবারের ঘটনায় আমরা অভিযুক্ত এক ইউপি সদস্যকে আটক করেছি। আবার নির্বাচনী সহিসংসতার ঘটনায় জসিম নামে একজনকে আটক করেছি। নিশ্চিত হয়ে আমরা গ্রেপ্তার করব সব অভিযুক্তকে।'

অস্ত্রবাজদের পরিচয় :গত সোমবার ঘটনার দিন সাতকানিয়ার খাগরিয়া, নলুয়া, বাজালিয়া, সোনাকানিয়া, কাঞ্চনাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে অস্ত্র হাতে নামে সন্ত্রাসীরা। তাদের মধ্যে খাগরিয়ায় গোলাগুলিতে জড়ায় ৯ জন। তাদের মধ্যে মো. নাসির উদ্দিন, মো. শাখাওয়াত হোসেন, কামরুল আলম আজাদ ওরফে সুমন, মো. এজাহার, মোহাম্মদ নিশান, মোহাম্মদ শওকত ও মো. রাকিব নৌকার প্রার্থী আকতার হোসেনের অনুসারী এবং মো. আবছার ও মো. কায়েস স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিনের অনুসারী।

মো. নাসির উদ্দিন খাগরিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদখালী গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী আকতার হোসেনের মালিকানাধীন পাইওনিয়ার ট্রেডিং করপোরেশন নামে সিঅ্যান্ডএফ অফিসের কাস্টমস সরকার পদে কর্মরত রয়েছেন। তাকে একনলা বন্দুক নিয়ে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। কামরুল আলম আজাদ ওরফে সুমন নলুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কোরবান আলীর ছেলে। বর্তমানে খাগরিয়াতে বাস করেন। তিনিও ভোটের দিন একনলা বন্দুক হাতে গুলি ছুড়েছেন। মো. শাখাওয়াত হোসেন নতুন চরখাগরিয়া এলাকার মফজল আহমদের ছেলে। মো. এজাহার দোহাজারী পৌরসভার আজমপাড়ার তমিজ উদ্দীনের ছেলে। মোহাম্মদ নিশান খাগরিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড মাইজপাড়ার মোহাম্মদ টিপুর ছেলে। সে ছাত্রলীগ কর্মী। মো. শওকত নতুন চরখাগরিয়া গ্রামের মৃত মফজল আহমদের ছেলে এবং মো. সাকিব জোরারকুল এলাকার বাসিন্দা। স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দীনের দুই অনুসারী মো. কায়েস এবং মো. আবছারের বাড়ি খাগরিয়ার আমিরখীল এলাকায়। এলাকাবাসীর অনেকেই বলেন, ভোটের দিন দুই প্রার্থীই এলাকায় বিপুল সংখ্যক বহিরাগত ভাড়ায় নিয়ে এসেছিলেন।

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা :নির্বাচনের পরদিন গত মঙ্গলবার রাতে সাতকানিয়ার কাঞ্চনায় চেয়ারম্যান মো. রমজান আলীর ওপর হামলার ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনার দিন এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ সালাম, নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য ফরহাদ ও ২৫-৩০ জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী আমার গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।

সাতকানিয়া থানার ওসি আবদুল জলিল জানান, ওই ঘটনায় ফরহাদ নামে নবনির্বাচিত একজন ইউপি সদস্যকে আটক করা হয়েছে। কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি।

শিশু মৃত্যুর ঘটনায় মামলা :নির্বাচনী সহিংসতায় শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় মামলা হয়েছে। বুধবার সাতকানিয়া থানায় শিশু তাসিবের বাবা জসিম উদ্দিন মামলাটি করেন। মামলায় ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নির্বাচনের দিন সহিংসতার ঘটনা ঘটা উপজেলার বাজালিয়া, খাগরিয়া, নলুয়াসহ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com