দোহারে যৌতুকের দাবিতে শিক্ষিকার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২২ । ১৪:৩১ | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২২ । ১৪:৩১

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি

গ্রেপ্তার বাহারুল ইসলাম হিরু

ঢাকার দোহারের লটাখোলা এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে যৌতুকের দাবিতে শিক্ষক স্ত্রীকে মারধর করে মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দোহার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হলে ওই স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার নাম বাহারুল ইসলাম ওরফে হিরু।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০ বছর আগে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ চৌকিঘাটা এলাকার মো. জালাল উদ্দিনের মেয়ে নুপুর সুলতানার সঙ্গে ঢাকার দোহার উপজেলার লটাখোলা এলাকার গুঞ্জর আলীর ছেলে হিরুর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১৪ বছরের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। নুপুর নবাবগঞ্জ উপজেলার কালুয়াহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

বিয়ের পর থেকে নানাভাবে কয়েকদফায় মেয়েটিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুকসহ কয়েকদফায় এখন পর্যন্ত ১৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়। ধার বাবদ নেওয়া অর্থ দিচ্ছি দিচ্ছি বলে আর দিচ্ছেন না স্বামী। বরং পুনরায় টাকার দাবিতে নুপুরকে চাপ দিচ্ছিল। এ ছাড়া বিভিন্নভাবে ওই শিক্ষিকাকে পরকীয়ার কথা বলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল। 

গত মঙ্গলবার রাতে নুপুর বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি আসলে একই অজুহাতে তাকে মারধর করে ঘরে থাকা কেঁচি দিয়ে মাথার সব চুল কেটে দেন স্বামী। এক পর্যায়ে তিনি ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে তার বাবাকে জানালে তিনি তাকে নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দোহার থানায় নিয়ে যান। পরে বুধবার রাতে ওই শিক্ষিকা বাদী হয়ে দোহার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে বুধবার রাতেই স্বামী হিরুকে দোহার থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে পাঠায়। 

দোহার থানা (ওসি, তদন্ত) এসএম কামরুজ্জামান সমকালকে জানান, এটা একটা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এ ঘটনায় ওই শিক্ষিকার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা নিয়েছি এবং তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com