ভালোবাসা কারে কয় তা জানেন হেগেল

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২২ । ১৩:২৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

মেহেরপুরে নিজ বাড়িতে রহিমা-হেগেল দম্পতি - সমকাল

যশোরের কেশবপুরের ভিনদেশি জামাই ক্রিস্টোফার মার্ক হেগেল ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রকৌশলী বিয়ে করেছেন সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নের মেহেরপুর গ্রামের রহিমা খাতুনকে। বিয়ে করে আর ফেরেননি নিজের দেশে। স্ত্রীর ভালোবাসার টানে পড়ে আছেন আত্মীয়স্বজন থেকে বহু দূরে।

ভালোবেসে এক যুগ আগে ২০১০ সালের ১০ এপ্রিল বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। সম্পূর্ণ ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষ হয়েও দাম্পত্য জীবনে তাদের ভালোবাসায় এতটুকু ছেদ পড়েনি। হাতে হাত রেখে আমৃত্যু একসঙ্গে কাটাতে চান বাকি জীবন। এখনও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব না পেলেও এরই মধ্যে নিজের ধর্ম ত্যাগ করে নাম রেখেছেন আইয়ুব হোসেন। রহিমাকে নিয়ে হেগেল বসবাস করছেন মধুকবির স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের তীরে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেহেরপুর গ্রামে দৃষ্টিনন্দন একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। বাড়ির উঠানে বসে একেবারে বাঙালি ঢঙে গরুর জন্য খাবার প্রস্তুত করছেন হেগেল। পাশেই কাজে ব্যস্ত রহিমা। কিছুটা বাংলা বলতে পারা হেগেল জানান, তার বাড়ি মিশিগানে। রহিমা খাতুনের সঙ্গে ভারতে পরিচয় হয়। পরে প্রেম থেকে পরিণয়। নিজের দেশে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার অনেক আগেই বিচ্ছেদ হয়েছে। সেখানকার ছেলেমেয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেন তিনি।

রহিমা খাতুন বলেন, তিনি ছোটবেলায় বাবা-মায়ের হাত ধরে ভারতে যান। তার বয়স যখন ১৪ বছর তখন তাকে বিয়ে দেওয়া হয়। তিনটি সন্তান হলেও তার ওই স্বামী তাদের রেখে অন্যত্র চলে যায়। তখন জীবিকার সন্ধানে মুম্বাই শহরে গেলে হেগেলের সঙ্গে পরিচয় হয়। বিয়ের পরই হেগেল তাকে নিয়ে যান চীনে। সেখানে পাঁচ বছর থাকার পর হেগেলকে তিনি নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। চার বছর ধরে সেখানেই বসবাস করছেন তারা।

রহিমা আরও বলেন, স্বামীর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা দুই সন্তানকেও মেহেরপুরের বাড়িতে আনতে চান তিনি।

হেগেল বলেন, তিনি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন সম্পর্কে জানেন। তার কবিতা পড়েছেন। মহাকবির জন্মভূমি সাগরদাঁড়ী বেড়াতে গেছেন। আজকের বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে তারা একে-অপরকে বিশেষভাবে সময় দেবেন। গোলাপ ফুল দিয়ে পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানাবেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ খুব ভালো জায়গা। এ গ্রাম তার খুব ভালো লাগে।

রহিমার বড় ছেলের স্ত্রী তামান্না খাতুন বলেন, শ্বশুর আইয়ুব হোসেনের ব্যবহার খুব ভালো। এলাকার মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করে মন জয় করেছেন। তিনি কৃষিকাজসহ প্রায় সব কাজই করতে পারেন। এবার ১৫ কাঠা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন তিনি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com