আইনশৃঙ্খলা

দস্যুমুক্ত সুন্দরবন: শান্তি-সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২২ । ০২:৫১ | প্রিন্ট সংস্করণ

মোহাম্মদ মোসতাক আহমেদ

অপার ঐশ্বর্যের অপূর্ব লীলাভূমি সুন্দরবন। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজখ্যাত এই ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট আমাদের গর্বের প্রতীক। সুন্দরবনের বিশ্ববিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণসহ এই সুন্দরবনের সম্পদ প্রাচুর্য এবং জীববৈচিত্র্য আমাদের বিশ্বের দরবারে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে। ফলে দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক ও দর্শনার্থী সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আগমন করে থাকেন। সুন্দরবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন। এ বনের বৃক্ষকূলের মধ্যে অন্যতম হলো সুন্দরী বৃক্ষ। এ বনে প্রচুর সুন্দরী বৃক্ষ জন্মে বলেই এ বনকে সুন্দরবন নামকরণ করা হয়েছে। সুন্দরবন পৃথিবীর অন্যতম বৈচিত্র্যপূর্ণ বন। যার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর সুন্দরবনকে 'বিশ্ব ঐতিহ্য' হিসেবে ঘোষণা করে।

বিচিত্র সব প্রাণীর বাস সুন্দরবনে। সুন্দরবনে প্রায় ১২০ প্রজাতির মাছ, ২৭০ প্রজাতির পাখি, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ এবং আট প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে। সুন্দরবনের স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার পৃথিবী বিখ্যাত, যার একমাত্র আবাসস্থল এই সুন্দরবন। সুন্দরবনে পর্যটকদের আরেকটি অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে মায়াবী চিত্রল হরিণ। বন বিভাগের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বন্যপ্রাণী রক্ষায় যথাযথ তৎপর থাকলেও কিছু অসাধু চোরা শিকারি চক্র বিভিন্ন কৌশলে এসব বন্যপ্রাণী শিকার করে পাচার করছে। এ ছাড়া সুন্দরবনে রয়েছে বানর, বন বিড়াল, লিওপার্ড, শজারু, বন মহিষ, উদ, কুমির, সাপ, টিকটিকি এবং বন্য শূকরসহ অনেক বিচিত্র প্রাণী। বর্তমান সরকার সুন্দরবনের এই অমূল্য প্রাণিসম্পদকে রক্ষার্থে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য সফল অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে। ২০১৫ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং সচেতনতা সৃষ্টির কাজে বিশেষ অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক র‌্যাব ফোর্সেসকে 'বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন ২০১৫' দেওয়া হয়।

সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য এক বিরাট আয়ের উৎস। এই বনের আশপাশ ঘিরে ৪৫০টির মতো নদী ও খাল জালের মতো বিস্তৃত রয়েছে। এসব নদী ও খাল থেকে বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ি, সাদা মাছ, কাঁকড়া আহরণ করে তা স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে হাজার হাজার জেলে পরিবার তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। সুন্দরবনের মধুর খ্যাতি বিশ্বজোড়া। প্রতিবছর এ বন থেকে ১৫ থেকে ১৬ হাজার মণ মধু আহরিত হয়ে থাকে। সুন্দরবনের মধুর ওপর নির্ভর করে প্রায় ১০ হাজার মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। সুন্দরবনের বনজ সম্পদকে কেন্দ্র করে কয়েকটি শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। সুন্দরবনের গোলপাতা শুকিয়ে ঘরের চাল ও বেড়া তৈরিতে ব্যবহূত হয়। প্রতিবছর হাজার হাজার দেশি ও বিদেশি দর্শনার্থী, পর্যটক, পর্যবেক্ষক, জাহাজ, বণিক আসছে সুন্দরবনের এই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। আর এভাবেই সুন্দরবন দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে স্বীয় মহিমায় আত্মপ্রকাশ করছে।

জলদস্যু ও বনদস্যুদের অভয়ারণ্য ছিল সুন্দরবন। জেলে, বাওয়ালী, মৌয়াল এমনকি বনরক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও দস্যুরা ছিল 'মূর্তিমান আতঙ্ক'। সুন্দরবনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বিভিন্ন পেশাজীবী সম্প্রদায়ের মানুষ ও উপকূলীয় অধিবাসীদের জন্য সব থেকে বড় আতঙ্কের বিষয় ছিল বনদস্যুদের উৎপাত, ডাকাতি ও অপহরণ। এ উৎপাত ঠেকাতে ২০১২ সালে র‌্যাব ফোর্সেসের মহাপরিচালককে প্রধান করে সুন্দরবনের দস্যু দমনের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠিত হয়। টাস্কফোর্স গঠনের ফলে বেগবান হয় সুন্দরবনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান। র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২২৩টি অভিযানে অন্তত ১৩৫ জন সন্দেহভাজন জলদস্যু ও বনদস্যু নিহত হয়েছে, গ্রেপ্তার হয়েছে পাঁচ শতাধিক দস্যু। লিড এজেন্সি হিসেবে র‌্যাবের ক্রমাগত সাঁড়াশি অভিযানে জলদস্যু বা বনদস্যু বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়ে। দিশেহারা হয়ে দস্যুরা ফেরারি জীবনের অবসান ঘটিয়ে আত্মসমর্পণের পথ খুঁজতে থাকে। র‌্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও বন বিভাগের সক্রিয় প্রচেষ্টায় অবশেষে ২০১৬ সালের ৩১ মে মাস্টার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সুন্দরবনের দস্যুমুক্তকরণ কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরে সর্বমোট ৩২টি বাহিনীর ৩২৪ জন দস্যু আত্মসমর্পণ করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪২৬টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ২২ হাজার ৫০৪ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।


২০১৮ সালের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, 'সুন্দরবনকে আমি দস্যুমুক্ত ঘোষণা করছি।' দস্যুমুক্ত সুন্দরবন অর্জন ছিল একটি যুগান্তকারী অধ্যায়। মূলত র‌্যাবের বলিষ্ঠ অভিযানে দস্যু আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছিল। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার মাধ্যমে এর প্রায় ৪০০ বছরের দস্যুতার অবসান ঘটে। সুন্দরবনে এখন আর কোনো আতঙ্ক নেই। সুন্দরবনে অপহরণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, হত্যা, ডাকাতি এখন শুধুই অতীত। জেলেদের কষ্টার্জিত ভাগও কাউকে দিতে হচ্ছে না। দস্যুমুক্ত সুন্দরবনে এখন মৌয়াল, বাওয়াল, জেলে, বনরক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সুন্দরবনের সব বন্যপ্রাণী নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। নির্ভয়ে-নিবিঘ্নে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক, পর্যবেক্ষক আসছে সুন্দরবনের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এভাবেই সুন্দরবন দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

আত্মসমর্পণকৃত দস্যুদের সমাজের মূল শ্রোতধারায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের তাৎক্ষণিক এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেন। এ সময় র‌্যাবের পক্ষ থেকে প্রত্যেক আত্মসমর্পণকৃত দস্যুকে অর্থ সাহায্য, শীতবস্ত্র ও মোবাইল ফোন প্রদান করা হয়। ওই দস্যু আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'তারা যে যে কাজ করে খেতে চান নিজের গ্রামে বসে, সেই কাজ করার মতো উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। ফলে অনেকেই এখন সেই জঙ্গলের দস্যুতা, ওই অস্বাভাবিক জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন, নিজের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন।'

আত্মসমর্পণকৃত দস্যুদের দরিদ্রতা লাঘব, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই অভিপ্রায়কে বাস্তবায়িত করতে ২০২১ সালের ১ নভেম্বর র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক আত্মসমর্পণকৃত ১০২টি দস্যু পরিবারকে নির্মিত ঘর, ৯০টি পরিবারকে নির্মিত মুদি দোকান, ১১৪টি পরিবারকে বাছুরসহ গাভি, আটটি পরিবারকে ইঞ্জিনসহ নৌকা এবং ১২টি পরিবারকে জাল এবং নৌকা প্রদানসহ সর্বমোট ৩২৬টি পরিবারকে পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করা হয়। সামাজিকভাবে যেন কোনো দস্যু হেয়প্রতিপন্ন ও লাঞ্ছনার শিকার না হতে হয় সেজন্য আত্মসমর্পণ করা দস্যুদের সার্বিক আইনি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়াও বিভিন্ন উৎসব, ঈদ, পূজা ও করোনাকালীন সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও আন্তঃসম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে র‌্যাব ফোর্সেস। সরকার গৃহীত এমন দূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে প্রতিটি আত্মসমর্পণকারী দস্যু পরিবার।

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন এখন জলদস্যু ও বনদস্যুমুক্ত। যার ফলে সুন্দরবন উপকূলের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিশেষ করে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী মানুষের মনে এখন শান্তির সুবাতাস বইছে। বন বিভাগসহ বন-সংশ্নিষ্ট সবাই আতঙ্কমুক্ত হয়েছে। সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হওয়ায় অনেক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়েছে। দস্যুমুক্ত সুন্দরবনে এখন মৌয়াল, বাওয়াল, জেলে, বনরক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সুন্দরবনের সব বন্যপ্রাণী নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ইদানীং সুন্দরবনে বাঘ, হরিণ ও পশুপাখি বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় লোকজনসহ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মান বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হওয়ায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা পেয়েছে।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র‌্যাব সুন্দরবনের জলদস্যু, বনদস্যু ও পাচারকারী দমনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার ঘোষণাকে কার্যকরী রূপদান করতে সুন্দরবনে র‌্যাব ফলপ্রসূ আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনায় আরও তৎপর ভূমিকা পালন করে আসছে। সুন্দরবন এলাকায় জলদস্যু, বনদস্যু ও পাচারকারীর অপতৎপরতা রোধকল্পে এবং ওই এলাকায় র‌্যাবের উপস্থিতি নিশ্চিতকল্পে নিয়মিত হেলিকপ্টার পর্যবেক্ষণ অপারেশন পরিচালনা করা হচ্ছে। সুন্দরবনের দুবলারচর এলাকায় র‌্যাবের একটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। আরও দুটি ক্যাম্প স্থাপনের জন্য প্রস্তাবনা প্রদান করা হয়েছে। র‌্যাব সুন্দরবনে টহল কার্যক্রমের মাধ্যমে মৌয়াল, বাওয়াল, জেলে ও পর্যটকদের প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা প্রদান করছে। তা ছাড়া দস্যুমুক্ত সুন্দরবন বাস্তবায়নের জন্য সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারিসহ নিয়মিত টহল ও আভিযানিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

প্রকৃতির অপরূপ রূপের অপার লীলাভূমি এই সুন্দরবন। সৌন্দর্য, বনজসম্পদ, কর্মসংস্থান, প্রাণী ও উদ্ভিদ বিচিত্রতা, বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের জোগান, বিপুল পরিমাণে প্রাকৃতিক অক্সিজেনের জোগান দিয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা, বিভিন্ন প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে রক্ষা পেতে সুন্দরবনের ভূমিকা অপরিসীম। এই প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবনকে টিকিয়ে রাখতে দস্যুমুক্ত সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নেই। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টাই পারে একমাত্র সরকার কর্তৃক ঘোষিত সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে।

লে. কর্নেল মোহাম্মদ মোসতাক আহমেদ, বিএসপি, পিএসসি: অধিনায়ক র‌্যাব-৬

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com