ভূগর্ভ খালি করছে ওয়াসা

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ২২ মার্চ ২২ । ০২:১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

অমিতোষ পাল, ঢাকা; আবদুল্লাহ আল মামুন চট্টগ্রাম ও সৌরভ হাবিব, রাজশাহী

'ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা'- এমন উদ্দীপক স্লোগানে ২০১০ সালে সংস্থাটি নিয়েছিল নয়া এক কর্মসূচি, লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালের মধ্যে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা ৭০ থেকে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা। উৎপাদিত ৩০ শতাংশ পানির জোগান আসার কথা ছিল গভীর নলকূপ থেকে। বাকি ৭০ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ উৎসের পানি (সারফেস ওয়াটার) শোধন করে সরবরাহের ওয়াদা করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১২ বছরেও তারা কথা রাখতে পারেনি। ঢাকা ওয়াসা হাঁটছে উল্টো পথেই। একের পর এক গভীর নলকূপ বসিয়ে বাড়িয়েছে ভূগর্ভস্থ থেকে পানির উৎপাদন। ফলে রাজধানীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতিবছর তিন মিটার করে নিচে নামছে। এতে ভূগর্ভে তৈরি হচ্ছে বিশাল শূন্যতা। এ কারণে আকস্মিক দেবে যেতে পারে ঢাকা নগর। অসংখ্য বহুতল ভবন ও জনবহুল হওয়ায় ঢাকা নগরের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি মারাত্মক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা ওয়াসার ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার উৎপাদিত পানির ৭১ শতাংশ আসছে গভীর নলকূপ থেকে। বাকি ২৯ শতাংশ আসছে ভূ-উপরিস্থ থেকে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ওয়াটার রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা আলী বলেন, গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি তোলার ফলে ভূগর্ভের পানির স্তর নিচে নেমে যায়। এতে ভূগর্ভে শূন্যস্থান তৈরি হয়। তখন পরিবেশের জন্য দুটি ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি হয়। একটি ভূমিকম্প, অন্যটি ভূমিধস। এই পরিস্থিতি হলে ঢাকায় কী অবস্থা তৈরি হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।

ঢাকা ওয়াসার বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিবছরই রাজধানীতে গভীর নলকূপের সংখ্যা বাড়ছে। ২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার গভীর নলকূপ ছিল ৫১৯টি। ২০২১ সালের জুনে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৩৪টিতে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিভিন্ন বাসা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হয়েছে আরও দুই শতাধিক গভীর নলকূপ। এসব ব্যক্তিগত গভীর নলকূপ থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৯ কোটি লিটার পানি তোলা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে নগর পরিকল্পনাবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, 'ঢাকা শহরে গভীর নলকূপ স্থাপনের শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল ঢাকার আশপাশে অনেক নদী আছে। গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি তুললেও শীতলক্ষ্যা-বুড়িগঙ্গার পানি তলদেশ দিয়ে রাজধানীর ভূগর্ভের পানির শূন্যতা পূরণ করবে। আদতে দেখা গেছে, বুড়িগঙ্গা-শীতলক্ষ্যা সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জেও পানির স্তর নেমে গেছে। এর মানে রাজধানীর ভূগর্ভের পানির শূন্যতা পূরণ হচ্ছে না। এটা খুবই উদ্বেগের। এর ফলে একসঙ্গে পুরো ঢাকা দেবে না গেলেও কিছু পকেট এলাকা দেবে যেতে পারে। এ রকম নজির বিশ্বের অনেক দেশেই আছে। পাশাপাশি ভূগর্ভে পানির শূন্যতা তৈরি হওয়ায় লবণাক্ততা ভর করবে, যেটা উপকূলীয় এলাকায় শুরু হয়েছে।' তিনি বলেন, 'ভূ-উপরিস্থ পানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর যে লক্ষ্য ঢাকা ওয়াসা ঠিক করেছিল, তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি- এটা ওয়াসার বড় ব্যর্থতা। ফলে ঢাকা নগরের ইকো সিস্টেম কলাপস করে গেছে। এটা ঢাকার জন্য আরও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। এখনই সরকারের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।'

বাড়ছে গভীর নলকূপ :ওয়াসা প্রতিবছরই গভীর নলকূপের সংখ্যা ২০ থেকে ৩০টি করে বাড়িয়েছে। ২০০৯ সালে ছিল ৫১৯টি। ২০১০ সালে হয় ৫৬০টি, ২০১১ সালে ৫৯৯টি, ২০১২ সালে ৬১৫টি। এভাবে ২০১৬ সালে হয় ৭৬০টি, ২০১৭ সালে ৭৯৫টি, ২০১৯ সালে ৮৮৭টি আর ২০২১ সালে গিয়ে দাঁড়ায় ৯৩৪টিতে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা ওয়াসার এক কর্মকর্তা বলেন, গভীর নলকূপ বসানোর সুবিধা অনেক। নলকূপের জন্য জায়গা দেয় এলাকাবাসী। এরপর একটি নলকূপ বসিয়ে বিদ্যুতের সংযোগ দিলেই সুপেয় পানি ওঠে। তখন ওয়াসা বিল আদায় শুরু করে। অথচ ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহ করতে হলে প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। পানি শোধন করতেও লাগে প্রচুর টাকা। তার পরও ওয়াসা ভূ-উপরিস্থ পানি শোধন করে সরবরাহের কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে।

পদ্মা-মেঘনার পানি ঢাকায় সরবরাহ প্রকল্পের সফলতা নিয়ে শঙ্কা :পদ্মার মাওয়ার জশলদিয়া পয়েন্ট থেকে পানি এনে পাইপলাইনে রাজধানীতে সরবরাহের জন্য পদ্মা-জশলদিয়া প্রকল্প নিয়েছিল ঢাকা ওয়াসা। লক্ষ্য ছিল, প্রতিদিন এ প্রকল্প থেকে ৪৫ কোটি লিটার পানি রাজধানীতে সরবরাহ করা যাবে। তিন হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর সেখান থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৫ কোটি লিটার। এ ছাড়া আট হাজার ১৪৭ কোটি টাকা খরচায় বর্তমানে চলছে মেঘনা থেকে পানি আনার আরেকটি প্রকল্প। পাশাপাশি ৫২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চলছে গভীর নলকূপ স্থাপনের একটি প্রকল্প।

জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫০ কোটি লিটার পানি রাজধানীতে সরবরাহ করছে ঢাকা ওয়াসা। এর মধ্যে ১৮০ কোটি লিটার পানিই পাওয়া যাচ্ছে গভীর নলকূপ থেকে। বাকি ৭০ কোটি লিটার পানি আসছে পদ্মা-জশলদিয়া, সায়েদাবাদ ফেস-১ ও ২, চাঁদনীঘাটসহ মোট চারটি পানি শোধনাগার থেকে।

পানির খনিতে পানি নেই :?ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দিয়েছিলেন, 'ভূগর্ভস্থ পানি তোলার জন্য সাভারের ভাকুর্তায় একটি পানির খনি পাওয়া গেছে। হিমালয় থেকে একটি চ্যানেল হয়ে ভাকুর্তায় এসে পানি জমা হচ্ছে। গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেই খনি থেকে প্রতিদিন ১৫ কোটি লিটার পানি তোলা হবে। পানি তুললেও সেখানে কখনও শূন্যতা তৈরি হবে না। হিমালয়ের পানি চ্যানেল দিয়ে এসে শূন্যস্থান ভরাট করবে।'

এর পরই ৫৭৩ কোটি টাকায় 'তেঁতুলঝোড়া-ভাকুর্তা ওয়েল্ডফিল্ড' প্রকল্প হাতে নেয় ঢাকা ওয়াসা। সেখানে ৪৬টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। ১৫টি নলকূপ চালুর পর ওই এলাকায় পানির জন্য হাহাকার ওঠে। আশপাশের বাসিন্দাদের নলকূপ থেকে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যায়। পরে বাকি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও সেগুলো আর চালু করেনি ওয়াসা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা ওয়াসার আরেক কর্মকর্তা বলেন, 'ভূগর্ভের পানির স্তর যে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে ভাকুর্তা প্রকল্পটি চাক্ষুষ উদাহরণ। এর পরও ভূগর্ভের পানির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাকা ওয়াসা।'

ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান বিদেশে অবস্থান করায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ঢাকা ওয়াসার প্রধান জনতথ্য কর্মকর্তা তারেক মোস্তফা জানান, সম্প্রতি ওয়াসা হিসাব করে দেখেছে, ঢাকা ওয়াসা দৈনিক ২৭০ থেকে ২৭৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করতে সক্ষম। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশ পানি আসে গভীর নলকূপ থেকে। বাকি ৩৪ শতাংশ আসে ভূ-উপরিস্থ পানি শোধন করে। অবশ্য এটা 'ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা'র লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম বলেও স্বীকার করেন তিনি।

এ ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এটিএম আতাউর রহমান বলেন, 'ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে আমি উদ্যোগ নিয়েছিলাম। পরে ওয়াসা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি।'

তিনি জানান, ভূগর্ভে পানির তিনটি স্তর থাকে। এভাবে গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি তুললে এক সময় পানির স্তর শূন্য হয়ে যাবে। তখন গভীর নলকূপগুলোতে আর পানি উঠবে না। বর্তমানেও ঢাকা ওয়াসার এ রকম কিছু নলকূপ আছে যেগুলোতে পানি ওঠে না। আগে যেখানে ২৫০ ফুট গভীরেই পানির স্তর মিলত, এখন সেটা ৭০০ ফুট গভীর গিয়ে পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় ঢাকায় পুরোপুরি ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে মানুষের চাহিদা মেটাতে হলে শুধু ঢাকা ওয়াসার একার পক্ষে তা সম্ভব হবে না। সিটি করপোরেশনসহ সরকারের সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

চট্টগ্রামে পানির জন্য ১০ লাখ মানুষের হাহাকার :চট্টগ্রাম নগরের অন্তত ১০ লাখ মানুষ ওয়াসার সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত। এই হিসাবে নগরের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ মানুষকে বিকল্প উপায়ে পানি সংকট নিরসন করতে হচ্ছে। এসব এলাকায় ওয়াসার পানি নিয়ে চলছে বাণিজ্যও। চট্টগ্রাম ওয়াসার দাবি, নগরে দৈনিক পানির চাহিদা ৪২ কোটি লিটার। তারা চাহিদার চেয়ে আট কোটি লিটার বেশি পানি উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করেছে। ওয়াসার এই দাবির সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। এদিকে ওয়াসার সরবরাহ করা পানির মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পানির মান পরীক্ষা করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

চট্টগ্রাম ওয়াসার আগের তিন প্রকল্প ও ৩২টি গভীর নলকূপ মিলিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫.৭০ কোটি লিটার। গত ১৬ মার্চ উদ্বোধন হওয়া শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার প্রকল্প ফেইজ-২-এর সক্ষমতা ১৪ কোটি ৩০ লাখ লিটার। সব মিলিয়ে মোট সক্ষমতা দাঁড়াচ্ছে ৫০ কোটি লিটারে।

ওয়াসার হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ওয়াসার শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার ফেইজ-১ থেকে দৈনিক ১৪ কোটি ৩০ লাখ লিটার, মোহরা পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার, শেখ রাসেল পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার এবং ৩২টি গভীর নলকূপ থেকে তিন কোটি ৪০ লাখ লিটার পানি পাওয়া যায়।

এতদিন ওয়াসার কর্মকর্তারা দাবি করে আসছিলেন, চট্টগ্রাম নগরে দৈনিক পানির চাহিদা ৫০ কোটি লিটার। চট্টগ্রাম ওয়াসার ওয়েবসাইটেও তা উল্লেখ আছে। এখন তাদের দাবি, চট্টগ্রাম নগরে দৈনিক পানির চাহিদা ৪২ কোটি লিটার। তারা চাহিদার চেয়ে আট কোটি লিটার বেশি পানি উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছে।

উৎপাদন সক্ষমতা থাকার পরও পুরো নগরে পানি দিতে না পারার বিষয়টি স্বীকার করে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আহমেদ বলেন, 'উঁচু এলাকা, পর্যাপ্ত পাইপ লাইন না থাকা ও দ্রুত নগরায়ণের কারণে নগরের সব জায়গায় পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।'

রাজশাহী ওয়াসা ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে প্রতিদিন তুলছে ৯৫ হাজার ঘনমিটার পানি : পদ্মার পানি শোধনের মাধ্যমে রাজশাহী নগরে সরবরাহ করার উদ্যোগটি চার বছরেও পায়নি আলোর খোঁজ। প্রকল্প বাস্তবায়নে এখনও হয়নি চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক চুক্তি। এদিকে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে প্রতিদিন ৯৫ হাজার ঘনমিটার পানি তুলছে রাজশাহী ওয়াসা। তবে এই পানি মোটেও নিরাপদ নয়। অতিমাত্রার ধাতব পদার্থসহ এই পানিতে রয়েছে ডায়রিয়ার জীবাণু ফেকাল কোলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া।

রাজশাহী ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নগরীতে দৈনিক পানির চাহিদা ১১ লাখ ১৩ হাজার ২৯০ ঘনমিটার। এর বিপরীতে ওয়াসা ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে ১০৮টি গভীর নলকূপ দিয়ে দৈনিক তুলছে ৯৫ হাজার ঘনমিটার পানি। শুধু বর্ষা-পরবর্তী চার মাস (আগস্ট-নভেম্বর) পদ্মা থেকে দৈনিক ৬ থেকে ৯ মিলিয়ন লিটার পানি পাওয়া যায়। এ ছাড়া পুরো মৌসুমজুড়েই নির্ভর করতে হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর।

ভূ-উপরিস্থ পানি সবচেয়ে নিরাপদ হলেও ওয়াসা তা জোগান না দিয়ে উল্টো তিনগুণ বাড়িয়েছে পানির দাম। যদিও ওয়াসা বলছে, তিনগুণ দাম বাড়ার পরও দেশের সব ওয়াসা, এমনকি নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার চেয়েও রাজশাহী ওয়াসার পানির দাম কম। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সেবার মান বাড়াতেই পানির দাম বাড়ানো হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানায়, ভূ-গর্ভস্থ পানি ছাড়া রাজশাহীতে এখনও বিকল্প কোনো পানির উৎস নেই। এ কারণে অতিমাত্রায় ধাতব পদার্থ পাওয়া গেলেও পানি তোলা হচ্ছে ওই ভূ-গর্ভস্থ উৎস থেকেই। ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়াসহ পরিবেশের জন্যও হুমকি দেখা দিয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান বলেন, 'প্রতিদিন মাত্রাতিরিক্ত পানি তোলার ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। তবে কয়েক বছর বেশি বৃষ্টি হওয়ায় রিচার্জও হচ্ছে। নিরাপদ খাবার পানির চাহিদা মেটাতে হলে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার ছাড়া বিকল্প নেই। এ কারণেই ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারে জোর দেওয়া উচিত।'

এ ব্যাপারে রাজশাহী ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ বলেন, 'সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে চীনের সঙ্গে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সমঝোতা সই, সম্ভাব্যতা যাচাই ও বাণিজ্যিক চুক্তি হয়েছে। শুধু বাকি ঋণ চুক্তি। আগামী তিন মাসের মধ্যে ঋণ চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পরই কাজ শুরু হবে।' এর মাধ্যমে চার বছরের মধ্যে নগরবাসীকে পদ্মার সুপেয় পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন এই প্রকৌশলী।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com