টিসিবি ট্রাকের তেল, ডাল, চিনি গেলো হাসপাতালের বেইজমেন্ট

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২২ । ২১:৪৮ | আপডেট: ২২ মার্চ ২২ । ২৩:৪৪

রাজীব আহাম্মদ

টিসিবির পণ্য নিতে শত শত মানুষের জটলা, গণগণে রোদে পুড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রতীক্ষায় কাটছে তাদের। প্রতিদিনের তেল-নুন-চিনি-আলুর বাজারমূল্যে যখন নাভিশ্বাস, তখন টিসিবির ট্রাকই তাদের আপাত ভরসা। 

অথচ মঙ্গলবার ভরদুপুরে রাজধানীর মগবাজারের ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালের পার্কিংয়ের প্রবেশ মুখে দেখা গেলো, ট্রাক থেকে সয়াবিন তেলের বোতল, ডাল, চিনি, পেয়াজ ও খেজুরের প্যাকেট নামানো হচ্ছে। তা ট্রলিতে করে নেওয়া হচ্ছে হাসপাতালের বেইজমেন্টে।

ক্রেতার লাইন ছাড়া ট্রাক থেকে পণ্য নামানোর ভিডিও ও ছবি ধারণ করতেই বাধার সূত্রপাত। 

ডিলারের ভাই পরিচয়ে একজন এসে জানতে চাইলেন, কেন ছবি তোলা হচ্ছে। তাতে বাধে হট্টগোল। লাইন ছাড়া কেনো পণ্য দেওয়া হচ্ছে- পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর এর জবাবে ডিলার পরিচয় দেওয়া রাফিউজ্জামান রাফি দাবি করলেন, হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের ২৫০ জন নার্স, কর্মচারীদের জন্য এসব পণ্য আনা হয়েছে। কর্মীরা লাইনে দাঁড়ালে করোনা ছড়াতে পারে।

রাফিউজ্জামানে দাবি, সে কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ৫০০ লিটার তেল, ২৫০ কেজি করে চিনি, ডাল, ছোলা ও খেঁজুর বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরে কর্তৃপক্ষ পণ্যগুলো কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করবে। কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোক্তার সরদারের অনুমতিতে পণ্য দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু ভিন্ন বক্তব্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরের। তিনি সমকালকে বলেন, ‘এগুলো ভুল কথা।’ 

টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির সমকালকে বলেছেন, লাইন ছাড়া পণ্য বিক্রির নিয়ম নেই।

কাউন্সিলদের ঠিক করে দেওয়া জায়গায় টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য বিক্রি করা হয়। অন্যত্র কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি হলেও ঢাকা ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় লাইনের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।

মোক্তার সরদার বলেন, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের মগবাজার ওয়ারলেস গেটের সামনে ট্রাক আসার কথা ছিল। কিন্তু পরে জানলাম, সেই ট্রাক নাকি ভুলবশত দক্ষিণ সিটির ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে চলে গেছে। শাহানারা ট্রেডার্সের রাফিউজ্জামান দুপুর ১২টার দিকে ফোন করে জানান, ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালে পণ্য দেওয়া হবে। আমি গিয়ে  কয়েকজন নার্সের হাতে পণ্য তুলে দিয়ে বিক্রির উদ্বোধন করি। এরপর কী হয়েছে তা জানা নেই।

তবে তার অভিযোগ, পণ্য বিক্রিতে সমন্বয়ে সমস্যা রয়েছে। কাউন্সিলরদের আচমকা জানানো হচ্ছে কখন, কোথায় পণ্য দেওয়া হবে। এতে নজরদারিতে সমস্যা হচ্ছে।

টিসিবির মুখপাত্র বলেছেন, কোনো প্রতিষ্ঠান আবেদন করলে, সেই প্রতিষ্ঠানের সামনের রাস্তায় বা কাছকাছি মোড়ে ট্রাক থেকে পণ্য বিক্রি করা হয়। তবে অন্য সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে লাইন ধরে পণ্য কিনতে হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে সব পণ্য দেওয়ার নিয়ম নেই। দিয়ে থাকলে নিয়ম ভাঙা হয়েছে।

স্বল্প বেতনের দরিদ্র কর্মীদের পণ্য দিতে টিসিবিতে আবেদন করেছিলেন বলে জানিয়েছেন ইনসাফ বারাকাহ হাসাপাতালের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেন। কবে কার কাছে আবেদন করেছিলেন? 

এ প্রশ্নে তিনি বলেন, 'এগুলো দেখে বলতে হবে।'

হাসপাতালে যাওয়া ট্রাকটি মেসার্স শাহানারা ট্রেডার্সের। এর মালিক সৈয়দা শাহানার জামান। একসঙ্গে পণ্য দিয়ে অনিয়ম করেননি দাবি করেননি ডিলার পরিচয় দেওয়া রাফিউজ্জামানের। তিনি বলেছেন, চার বছর পণ্য বিক্রি করছেন। কখনো বাড়তি দামে, কালোবাজারে পণ্য বিক্রি করেননি।


© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com