স্কুলপথ নিরাপদ হোক

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২২ । ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজন ভট্টাচার্য

মার্চের শেষ সপ্তাহে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মাহারা হতে হলো রাজধানীর তিন শিশুকে। স্কুলে যাওয়ার পথে বাসচাপায় দুর্ঘটনার পর চোখের সামনে মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু দেখতে হয়েছে মারিয়াম রুহি ও দুই বোন হুমায়রা ইয়াসমিন ওহী-রাহিয়া ইয়াসমিন রাহীকে। ৩১ মার্চ সমকালের শেষ পাতায় তিন শিশুর আকুতি ও বেদনা প্রকাশ পেয়েছে।

একজন শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের ওপর কতটুকু বিরূপ প্রভাব পড়ে, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। তেমনি প্রভাব পড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। অন্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে যায়। চোখের সামনে যদি কোনো অবুঝ সন্তানকে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মা অথবা বাবার করুণ মৃত্যু দেখতে হয়, তার অবস্থা কী হতে পারে?

তাই সমস্যা সমাধানে স্কুলভিত্তিক বাস সার্ভিস চালু করা যেতে পারে। এ কাজটি সফলতার সঙ্গে করা সম্ভব হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন। এতে নগরীতে যানজটও কমবে। যেখানে বাস চলাচলের সুযোগ নেই সেখানে মিনিবাস বা মাইক্রোবাসে শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করা যেতে পারে।

রাজধানীর মিরপুর-১৪ নম্বরের বিএন স্কুল। ওই প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে হুমায়রা ইয়াসমিন ওহী। তার বোন রাহিয়া ইয়াসমিন রাহী পড়ে ক্লাস ওয়ানে। গত ২৩ মার্চ বুধবার সন্তানদের স্কুলে দিয়ে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তাদের মা সাবিনা ইয়াসমিন। ছোট্ট দুই সন্তান ঘিরে কত স্বপ্ন ছিল সংগ্রামী মায়ের! তিনি কাছের মানুষদের সব সময় বলতেন, দেখবেন, ওরা একদিন অফিসার হবে।

ভাসানটেক এলাকায় ট্রাস্ট পরিবহনের একটি বাসের চাপায় আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবিনা। তাদের বাবা কাজের প্রয়োজনে ঢাকার বাইরে থাকেন। তাই সন্তানদের মানুষ করার মূল কারিগর ছিলেন মা। মায়ের মৃত্যুতে দুই বোন এখন গ্রামের বাড়িতে। তারা আবারও ঢাকায় ফিরে স্কুলে যেতে পারবে কি? স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে না পারার অনিশ্চয়তাও রয়েছে।

পরপর দুটি দুর্ঘটনা তিনটি শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তেমনি তাদের মনোজগতে পড়েছে বিরূপ প্রভাব। মা ছাড়া তাদের জীবন কীভাবে চলবে? তাই সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর হওয়ার সময় এখনই। আমলাতন্ত্রের জঠর থেকে বেরিয়ে জনবল নিয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে যেন বিআরটিএ ও পুলিশ সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর করতে পারে, সেদিকে যেতে হবে। সবাইকে আইন মেনে পথ চলতে বাধ্য করার বিকল্প নেই। সড়কে ফেরাতে হবে শৃঙ্খলা। রুখতে হবে সড়কে মৃত্যু। অন্যথায় রাস্তায় যে কারও প্রাণ যে কোনো সময় যেতে পারে। এতিম হতে পারে এই তিন শিশুর মতোই আরও অনেক শিশু। সেই সঙ্গে স্কুলভিত্তিক বাস সার্ভিস চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর করা জরুরি।

সাংবাদিক
rajan0192@gmail.com

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com