পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২২ । ০৯:০৭ | আপডেট: ১১ এপ্রিল ২২ । ০৯:০৭

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এটি ক্রমেই শঙ্কা বাড়াচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বাজার তদারকি ও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে খাদ্য সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল রাখতে গিয়ে সাধারণ মানুষ আর পেরে উঠছে না। তাই বাজার ব্যবস্থাপনা ও তদারকিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। বন্ধ করতে হবে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও পরিবহনে চাঁদাবাজি। ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রি বাড়াতে হবে।

গতকাল রোববার 'খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ' নেটওয়ার্কের উদ্যোগে আয়োজিত 'নগর-গ্রামের দারিদ্র্য পরিস্থিতি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি' শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। ওয়েবিনারে সভাপতির বক্তব্যে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, করোনায় দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তাদের জন্য আরেকটি সমস্যা। দেশের এত বড় বাজার শুধু আইন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে 'ন্যায্যতার' মূল্যবোধ দিয়ে গড়ে তুলতে না পারলে কোনোকিছুই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। বাজার অর্থনীতিতে কতটুকু নিয়ন্ত্রণ থাকবে, তা নির্ধারণ করতে হবে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার লক্ষণগুলো দেখা যাচ্ছে। দেশে প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বাজার ব্যবস্থাপনায় সুসংঘবদ্ধ সাপ্লাই চেইন তৈরি করতে হবে, যার স্ব্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকতে হবে। প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে শক্তিশালী করতে হবে।

সানেমের গবেষণা পরিচালক ড. সায়েমা হক বিদিশা বলেন, মূল্যস্ম্ফীতির প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তথ্যের অসংগতি দূর করা সম্ভব না হলে সঠিক নীতি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। দরিদ্র মানুষ তাদের আয়ের ৬২ শতাংশ ব্যয় করে খাদ্য কেনার জন্য। তাই ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির মানুষের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জেনে, তার সঙ্গে প্রকৃত তথ্যের সামঞ্জস্য রেখে মূল্যস্ম্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তিনি বলেন, বাজার ব্যবস্থা তদারকিতে ফাঁক রয়ে গেছে। ন্যায্যমূল্যের দোকানের ব্যবস্থা করা হলে মধ্যবিত্তরা কিছুটা স্বস্তি পাবে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, মূল্যবৃদ্ধির জন্য খাদ্যপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে রাস্তার চাঁদাবাজি একটি বড় সমস্যা। পণ্য যতবার হাতবদল হয়, ততবারই দাম বাড়ে।

আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী। এতে তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিতে শহর ও গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।

বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খোরশেদ আলম খান বলেন, পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মজুতদার ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com