নববর্ষ ১৪২৯

বাংলা বর্ষপঞ্জি: সম্প্রীতির অনুসন্ধান

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২২ । ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাইমন জাকারিয়া

ইতিহাসের পথ পরিক্রমায় বাংলায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধর্মমতের শাসকগোষ্ঠী শাসন করেছে। প্রতিটি গোষ্ঠীর শাসনামলে বাংলার জনসমাজে গৃহীত হয়েছে নতুন নতুন শব্দভান্ডার, সংস্কৃতি, ধর্মমত, দর্শন প্রভৃতি। এতে করে এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যিক সংস্কৃতির অনুসন্ধান পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বাংলার নিজস্ব লোকায়ত সংস্কৃতি, দর্শন, ভাষা প্রভৃতির অস্তিত্ব শাসকগোষ্ঠীর শাসন-শোষণের পর কোনো ক্ষেত্রে নবায়িত হয়েছে মিশ্র-সংস্কৃতি ও সভ্যতার আধারে। কখনোবা বাঙালি নিজস্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্য রক্ষার তাগিদে কিছুটা নমনীয় হয়ে অন্য সংস্কৃতির কিছু বৈশিষ্ট্য নিজস্ব নিয়মে আত্তীকরণ করেছে। এ ছাড়া সময় ও মানুষের চাহিদা অনুযায়ী ঐতিহ্যিক ধারার বাইরে বাংলায় নতুন দর্শন, মতাদর্শ ও ধর্মমত সৃষ্ট হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাউল, বৈষ্ণব, মতুয়া, ব্রাহ্মসমাজ প্রভৃতি মতাদর্শ ও ধর্মমতের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।

বাংলা বর্ষপঞ্জি তথা পঞ্জিকা বহুমাত্রিক বাংলাদেশের পরিচয়কে আশ্চর্যভাবে আজও ধারণ করে আছে। সাম্প্রতিক কালের বাংলাদেশের লোকায়ত পরিমণ্ডলের মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, বৈষ্ণব, বাউল, মতুয়াসহ প্রায় সব ধর্মমত ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে কৃত্যাচার পালনের জন্য অনিবার্যভাবে বর্ষপঞ্জি ব্যবহার প্রত্যক্ষ করা যায়। এমনকি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাহ-অনুষ্ঠানের দিন ধার্যকরণে বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করা হয়। এ ছাড়া গৃহনির্মাণ থেকে শুরু করে কোনো শুভ কাজ শুরুর লক্ষ্যে বর্ষপঞ্জি বা পঞ্জিকা দেখে শুভাশুভ নির্ধারণ করা হয়। এই প্রয়োজনীয়তার কথা চিন্তা করে অতীতকাল থেকে শুরু করে বর্তমানকাল পর্যন্ত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উপযোগী করে বিভিন্ন ধরনের বর্ষপঞ্জি প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

আদিতে গ্রামের মানুষ তাদের ঐতিহ্যিক জীবনের অন্যতম অংশ কৃষি ব্যবস্থার ঋতুভিত্তিক প্রথা অনুসরণের জন্যই প্রধানত বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করতেন। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় নিরক্ষর কৃষকের মুখপত্র হিসেবে গ্রামের কিছু শিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত বা স্বশিক্ষিত মানুষ বর্ষপঞ্জি দেখে ঋতু ও কৃষি ব্যবস্থার মধ্যে কোন সময় কোন ফসল উৎপাদনের জন্য শুভ বা অশুভ, তা শনাক্ত করতেন। এর পাশাপাশি ঐতিহ্যিক জীবনের অন্যান্য অংশের মধ্যে জন্ম, বিবাহ এবং নানা ধরনের উৎসব, পার্বণ, কৃত্য ইত্যাদি নির্ধারণে বর্ষপঞ্জি বা পঞ্জিকাকে অবলম্বন করতেন এবং এখনও করেন। অবশ্য রাজপ্রশাসন পঞ্জিকাকে ব্যবহার করেছে কৃষকদের কাছ থেকে কর আদায়ের জন্য। পঞ্জিকা তথা বর্ষপঞ্জি বিষয়ক গবেষণায় এই বিষয়টি তাই যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে বিবেচিত ও আলোচিত। সে আলোচনার নিচে অনেকটা অনালোচিত রয়ে গেছে জনগণের মাঝে পঞ্জিকার গ্রহণযোগ্যতার সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ভূ-প্রাকৃতিক ও উৎপাদনশীলতা নীতিনির্ধারণের বিষয়টি। এখন সময় এসেছে নৃতাত্ত্বিক, সমাজতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পঞ্জিকার বিভিন্ন ধরনের ক্রিয়াশীলতা নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করার।

একটি কথা বলে রাখা ভালো, মুদ্রণ ব্যবস্থার প্রসারে মুদ্রিত পঞ্জিকার যে প্রচলনের কথা আমাদের জানা আছে, তার আগে হস্তলিখিত পঞ্জিকার প্রচলন ছিল। এখনও বাংলাদেশের অনেক গ্রন্থাগারের হস্তলিখিত পুথি সংগ্রহশালায় অনেক ধরনের হস্তলিখিত পঞ্জিকার সন্ধান পাওয়া যায়, যার আকৃতি ও অলঙ্করণ অনেক ক্ষেত্রে চিত্তাকর্ষক ও নন্দনবোধসম্পন্ন। কিন্তু আমাদের দেশে পঞ্জিকার এই ঐতিহ্য নিয়ে তেমন কোনো গবেষণার উদ্যোগ চোখে পড়ে না। এর প্রধান কারণ পঞ্জিকার সমাজতাত্ত্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে উদাসীনতা। দ্বিতীয় কারণ হস্তলিখিত লিপির পাঠ বিষয়ে অদক্ষতা এবং তৃতীয় কারণ হস্তলিখিত বিচিত্র পুথি গবেষণায় সমাজের নীতিনির্ধারকদের সৃষ্ট জটিলতা ও কুটিল মানসিকতা। আমাদের ধারণা, এসব অন্তরায় অতিক্রম করে বাংলা পঞ্জিকার ঐতিহ্য সম্পর্কিত গবেষণাকর্ম দুরূহ হয়ে আছে। তথাপি পঞ্জিকার সামাজিক গুরুত্বের কথা অস্বীকারের কোনো উপায় নেই।

প্রতি বছর বৈশাখ আসার আগেই গর্ভধারিণী মা আমার কাছে পঞ্জিকা উপহার চান এবং এই ঘটনাটি প্রায় দেড় যুগের বেশি সময় ধরে ঘটছে। এর আগে আমি আমার পিতাকে বছর শুরুর আগেই বাংলা পঞ্জিকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখেছি। ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে আমার বাবার তিরোধানের আগ পর্যন্ত বাবাকে বাড়িতে প্রতি বছর বাংলা নববর্ষ আসার আগেই বাংলা পঞ্জিকা নিয়ে আসতে দেখেছি।

আমার পিতা সাধারণত মোহাম্মদী পঞ্জিকা ব্যবহার করতেন। কখনও কখনও লোকনাথ পঞ্জিকা ব্যবহার করতে দেখেছি।


প্রথম থেকেই পারিবারিক ঐতিহ্যের সূত্রে পিতা-মাতাকে যে পঞ্জিকা ব্যবহার করতে দেখেছি, তাতে আশ্চর্যভাবে সব ধর্মের নানা ধরনের তিথি, পার্বণ, প্রার্থনা, উপাসনার দিনক্ষণের তারিখ-বার, সময় ইত্যাদি যেমন প্রত্যক্ষ করেছি, তেমনি সব ধর্মের বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিত্বের জীবনী পরিচয়, অবদান ইত্যাদির পাশাপাশি নানান ধর্মের উৎসব-পার্বণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও তার কার্যকরণ পাঠ করেছি। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, পঞ্জিকার ভেতর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলিম, বৈষ্ণব, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদিবাসীদের কোনো উৎসব সম্পর্কেও অনেকটা আবেগহীনভাবে যেসব বর্ণনা পাঠ করা যায়, তার মাধ্যমে একজন সহনশীল ও উদার মনের মানুষ হতে গ্রামের সাধারণকে অনেকটাই ইন্ধন জোগায় বৈ কি। দুঃখের বিষয়, পঞ্জিকার উৎপত্তির ইতিহাসের তথ্য-প্রামাণ্যের কোনো আলোচনাতে এই বিষয়টি তেমনভাবে উল্লিখিত হতে দেখা যায় না।

সম্প্রতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলা জন্মের তারিখ সম্পর্কে একটি গ্রন্থ প্রণয়ন করতে গিয়ে আজ থেকে শতাধিক বছর আগে মুদ্রিত কিছু পঞ্জিকা প্রত্যক্ষ করেছি। এক্ষেত্রে ১৩২৬ বঙ্গাব্দের (১৯১৯-১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের) গুপ্তপ্রেশ পঞ্জিকা এবং ১৩৫৪ বঙ্গাব্দের (১৯৪৭-১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের) গুপ্তপ্রেশ ডাইরেক্টরী পঞ্জিকাতে সম্প্রদায় ভেদবুদ্ধির ঊর্ধ্বে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসব-পার্বণ উদযাপনের সচিত্র তারিখ ও তথ্য প্রত্যক্ষ করি। শুধু তাই নয়, ১৩২৬ বঙ্গাব্দের গুপ্তপ্রেশ পঞ্জিকার ৯৮ পৃষ্ঠায় "বাঙ্গালা, ইংরাজি ও মুসলমানীয় বার ও মাসের নাম" এবং "নানাদেশীয় বৎসর ও দিন নিদর্শন" অংশে সম্প্রদায় সম্প্রীতির প্রকাশ স্পষ্ট রয়েছে। একই বর্ণনা ১৩৫৪ বঙ্গাব্দের গুপ্তপ্রেশ ডাইরেক্টরী পঞ্জিকাতেও লভ্য। এছাড়া, এই দুটি পঞ্জিকার বিভিন্ন অংশে সমান গুরুত্ব দিয়ে সনাতন ধর্মীয় পূজা-পার্বণের সচিত্র তথ্য যেমন উপস্থাপন করা হয়েছে তেমনি ইসলাম ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের কৃত্যমূলক উৎসবের সচিত্র তথ্য প্রদান করা হয়েছে। সনাতনধর্মী পূর্জা-পার্বণ ও উৎসবের ছবির মধ্যে দুর্গাপূজা, চড়কপূজা, গণেশপূজা, শিবরাত্রি, কার্তিকপূজা প্রভৃতির সচিত্র তথ্য রয়েছে। অন্যদিকে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মহররম উদ্‌যাপনের সচিত্র তথ্য এবং খ্রিষ্টানদের বড়দিনের সচিত্র তথ্য রয়েছে। উল্লেখ্য, উৎসব উদযাপনের চিত্রের জন্য অনেক সময় পূর্ণ পৃষ্ঠা ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে ছবির নিচে বাংলা তারিখ নির্দেশ করা হয়েছে।

দুই

সাম্প্রতিক বাংলাদেশে লোকনাথ পঞ্জিকা ও মোহাম্মদী পঞ্জিকার প্রচলনই বেশি। লক্ষ্য করার বিষয়, দুই ধরনের পঞ্জিকাতেই প্রায় সব ধর্মের উৎসব-পার্বণের বিবরণ লিপিবদ্ধ থাকে। তাই এসব পঞ্জিকার গ্রহণযোগ্যতাও সর্বজনীন।

বাংলা বর্ষপঞ্জির সাথে যেহেতু বাংলা বর্ষ তথা বঙ্গাব্দের সংযোগ রয়েছে, সেহেতু বঙ্গাব্দের প্রচলন সম্পর্কে কিছু কথা না বললে হয়তো এ আলোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাই বঙ্গাব্দ সম্পর্কে কিছু কথা বলা যাক। বঙ্গাব্দের সূচনা সম্পর্কে প্রধানত দুটি মত চালু রয়েছে। প্রথমটি হলো, অনেক গবেষকের ধারণা, প্রাচীন বাংলায় (গৌড়) রাজা শশাঙ্ক (রাজত্বকাল আনুমানিক ৫৯০-৬২৫ খ্রিষ্টাব্দ) বঙ্গাব্দ চালু করেছিলেন। শশাঙ্ক মূলত সপ্তম শতাব্দীর প্রারম্ভে বঙ্গদেশের রাজচক্রবর্তী রাজা ছিলেন। আধুনিক বঙ্গ, বিহার ও ওড়িশার অধিকাংশ এলাকা তাঁর সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অনুমান করা হয়, জুলীয় বর্ষপঞ্জির বৃহস্পতিবার ১৮ মার্চ ৫৯৪ এবং গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি বা পঞ্জিকার শনিবার ২০ মার্চ ৫৯৪ বঙ্গাব্দের সূচনা হয়েছিল। আর দ্বিতীয় মত অনুসারে, ভারতে ইসলামী শাসনামলে হিজরি পঞ্জিকা অনুসারেই সব কাজকর্ম পরিচালিত হতো। মূল হিজরি পঞ্জিকা চান্দ্র মাসের ওপর নির্ভরশীল। চান্দ্র বৎসর সৌর বৎসরের চেয়ে ১১/১২ দিন কম হয়। কারণ সৌর বৎসর ৩৬৫ দিন, আর চান্দ্র বৎসর ৩৫৪ দিন। এ কারণে চান্দ্র বৎসরে ঋতুগুলি ঠিক থাকে না। আর চাষাবাদ ও এ জাতীয় অনেক কাজ ঋতুনির্ভর। এজন্য ভারতের মোগল সম্রাট আকবরের সময়ে প্রচলিত হিজরি চান্দ্র পঞ্জিকাকে সৌর পঞ্জিকায় রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্রাট আকবর ইরান থেকে আসা বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিদ আমির ফতুল্লাহ শিরাজীকে হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জি বা পঞ্জিকাকে সৌর বর্ষপঞ্জিতে রূপান্তরিত করার দায়িত্ব প্রদান করেন। ফতুল্লাহ শিরাজীর সুপারিশে পারস্যে প্রচলিত সৌর বর্ষপঞ্জির অনুকরণে ৯৯২ হিজরি অনুযায়ী ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবর হিজরি সৌর বর্ষপঞ্জি বা পঞ্জিকার প্রচলন করেন। তবে তিনি ২৯ বছর আগে তার সিংহাসনে আরোহণের বছর থেকে এ পঞ্জিকা প্রচলনের নির্দেশ দেন। এ জন্য ৯৬৩ হিজরি থেকে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু হয়। ৯৬৩ হিজরির মুহররম মাস ছিল বাংলা বৈশাখ মাস। এ জন্য বৈশাখ মাসকেই বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং ১ বৈশাখকে নববর্ষ ধরা হয়। কিন্তু এতে সমস্যা কাটেনি। এরপর বেশ কয়েকবার তাই বাংলা পঞ্জিকার সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৫২-৫৪ খ্রিষ্টাব্দে ভারত সরকারের উদ্যোগে জ্যোতির্পদার্থবিদ মেঘনাদ সাহা এবং ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে ডক্টর মুহম্মদ শহীদল্লাহ্‌ বাংলা পঞ্জিকা সংস্কারের কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশে ইংরেজি পঞ্জিকার সাথে সমন্বয় করে বাংলা পঞ্জিকা তৈরি করা হয়, যা বর্তমানে চলমান।

বাংলা বর্ষপঞ্জির বর্তমান চলমানতার মধ্যে প্রায় সময় গ্রামীণ ও শহরের মানুষের কৃত্য, উৎসব পালনে কিছু বৈসাদৃশ্য দেখা যায়। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ- এখন পর্যন্ত গ্রামীণ কৃষিজীবী ও নানা পেশাজীবী উৎপাদনশীল মানুষ পুরোনো বা সনাতন পঞ্জিকা অনুসারেই তাদের কৃত্যানুষ্ঠান উদ্‌যাপন করে থাকেন। যে কারণে ঢাকা ও বাংলাদেশের অন্যান্য শহরে যেদিন মহাসমারোহে নববর্ষ তথা পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপন চলে, সেদিন গ্রামের মানুষ বর্ষবিদায়ের কৃত্যানুষ্ঠান তথা চৈত্রসংক্রান্তি উদ্‌যাপন করেন। অর্থাৎ গ্রামীণ মানুষের জীবনে বৈশাখ আসে আরও একদিন পরে। বর্ষ উদ্‌যাপনে গ্রাম ও শহরের এই বিভেদ ঘোচানো তখনই সম্ভব হবে যখন শহরের মানুষ গ্রামকেই অনুসরণ করবে। সে জন্য নিশ্চিতভাবেই ইংরেজি ক্যালেন্ডারের সাথে নয়, পুরোনো বাংলা বর্ষপঞ্জির সাথেই নতুনের সমন্বয় সাধন করার দরকার হবে।

বাংলাদেশে প্রচলিত ও প্রকাশিত অধিকাংশ বাংলা বর্ষপঞ্জি তথা পঞ্জিকার পৃষ্ঠায় সম্প্রদায়-সম্প্রীতির সন্ধান পাওয়া যায়। এই চিত্র দৃষ্টে নিশ্চিতভাবে সংস্কৃতিমানদের চোখে-মনে সাম্প্রতিককালের উগ্রধর্মী মৌলবাদের বিপরীতে নতুন আশা সঞ্চার করতে পারে। কেননা, বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসরণে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যকে উদারভাবে গ্রহণ ও চর্চার মাধ্যমে এদেশে সম্প্রদায়-সম্প্রীতির পুনর্জাগরণ সম্ভব।

লেখক
গবেষক
প্রাবন্ধিক

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com