চট্টগ্রামে ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কাজে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২২ । ১৬:৪০ | আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২২ । ১৬:৪০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে পৌনে ৪ হাজার কোটি টাকার ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কার্যক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছেন আদালত। রোববার চট্টগ্রাম তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ নুশরাত জাহান এর আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে ৬ এপ্রিল প্রকল্পের কাজের ওপর অস্থায়ী নিষেধজ্ঞা জারি করেন আদালত।

ওয়াসার আইনজীবী জিয়া হাবীব আহসান বলেন, আদালত বাদীপক্ষের একতরফা শুনানি শেষে ওয়াসার জবাব দাখিল পর্যন্ত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। ওয়াসা তার বক্তব্য আদালতে তুলে ধরার পর উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রোববার আদেশে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার আদেশ দিয়েছেন। এখন এ প্রকল্পের কাজ চলমান রাখতে আর কোনো বাধা নেই।

২০২১ সালে হালিশহরের ১৬৩.৮৫৫ একর জমিতে স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ শুরু করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এর আগে ওই জমির বিষয়ে চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত সেসব জমির বেআইনি ব্যবহার, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ চট্টগ্রামের একটি আদালতে খতিয়ান সংশোধন ও নিষেধাজ্ঞার মামলা করেন ভুক্তভোগী জমির মালিক ছৈয়দ মুহাম্মদ এনামুল হক মুনিরী।

আদালত মামলাটি গ্রহণ করে চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ বিবাদীদের কারণ দর্শানোর আদেশ দেন। আদালতের নোটিশ আমলে নেননি বিবাদীরা। ৪ এপ্রিল এ মামলায় শুনানি শেষে ৬ এপ্রিল স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম নগরীর মধ্য হালিশহরের চৌচালা এলাকায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও স্যুয়ারেজ প্রকল্পের জন্য ১৯৬২-৬৩ সালে ১৬৩ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল ওয়াসা। দীর্ঘদিনেও প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় অধিগ্রহণ করা জমি ফেরত চেয়ে ২০০১ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে স্থানীয়রা।

২০১৪ সালে হাইকোর্ট চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই আদেশের বিষয়টি নিষ্পত্তি না করে কাজ শুরু করায় আদালতে মামলা করেন হালিশহরের কৃষি জমি পুনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ এনামুল হক মুনিরী।

বর্তমানে এ জমিতে নগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) ৩ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন ১০ কোটি লিটার পয়ঃবর্জ্য এবং ৩০০ ঘনমিটার ফিকাল স্লাজ পরিশোধন সম্ভব হবে; যা নগরীর মোট পয়ঃবর্জ্যের ২০ শতাংশ এবং ফিকাল স্লাজের ৪১ শতাংশ।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com