খিলক্ষেতে পোশাকশ্রমিকের লাশ

হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয় শারমিনকে

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২২ । ০১:২৯ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২২ । ০১:২৯

সমকাল প্রতিবেদক

র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার সুমন

রাজধানীর খিলক্ষেতের ৩০০ ফিট থেকে মরদেহ উদ্ধার করা পোশাকশ্রমিক শারমিন বেগমকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। রোববার বিকেলে প্রধান আসামি সুমন কুমারকে (১৮) খিলক্ষেতের কুড়াতলী কাজী বাড়ি মোড় থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। প্রাথমিকভাবে তিনি র‌্যাবের কাছে শারমিনকে হত্যা ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।

গত শনিবার রাজধানীর খিলক্ষেতের ৩০০ ফিট থেকে শারমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে লাশ সেখানে ফেলে গেছে বলে জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই ঘটনার পর র‌্যাব-১ ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, সুমনের গ্রামের বাড়ি নওগাঁয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শারমিনকে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন পেশায় রিকশাচালক সুমন। খিলক্ষেত এলাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত শারমিনকে কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে অনুসরণ করতেন তিনি। ১০-১২ দিন আগে শারমিনের সঙ্গে পরিচিত হন। এর পর ফোনে কথা হয় তাদের।

গত বুধবার শারমিনকে নিজের রিকশায় নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। শুক্রবারও ঘোরাঘুরির কথা বলে তাকে বাসা থেকে ৩০০ ফিট সড়কে ডেকে আনেন। এরপর তাকে ধর্ষণ করেন সুমন। বিষয়টি স্বজনদের জানিয়ে দেবেন বলে জানালে শারমিনের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ হত্যা করেন তিনি। পরে মাথার অংশ মাটি চাপা দিয়ে পালিয়ে যান।

র‌্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার নোমান আহমদ বলেন, রোববার রাতেই সুমনকে খিলক্ষেত থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শারমিনের ভাই আজিজুল খিলক্ষেত থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। তিনি জানান, মামলার ১০-১১ বছর আগে শারমিন গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় আসেন। কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। আনুমানিক আট-নয় বছর আগে রানা নামে এক পোশাক শ্রমিকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের জান্নাতুল নামের একটি মেয়ে রয়েছে। তবে জান্নাতুলের জন্মের এক বছর পরই রানা স্ত্রীকে রেখে চলে যায়। জান্নাতুল ময়মনসিংহে নানি আয়েশা খাতুনের কাছে থাকে। প্রতিদিন রাতে সে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলত। শুক্রবার সন্ধ্যায়ও কথা হয়েছিল।

তিনি বলেন, 'আমার বোন ঢাকায় থাকত। তার কোনো শত্রু ছিল কিনা জানা নেই। কিন্তু যারা তাকে মেরেছে তাদের শাস্তি চাই। খুনিরা আমার ভাগ্নিটাকে এতিম করে দিল।'

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com