শেয়ারবাজারে লেনদেন ৪০০ কোটি টাকার নিচে

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২২ । ১০:২৮ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২২ । ১০:২৮

সমকাল প্রতিবেদক

প্রতীকী ছবি

শেয়ারদরের সঙ্গে লেনদেনেও বড় পতন হয়েছে। রোববার প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৪শ কোটি টাকার কম লেনদেন হয়েছে। এ বাজারে ৩৯৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা লেনদেন গত বছরের ৫ এপ্রিল বা এক বছরেরও বেশি সময়ের সর্বনিম্ন। ওই দিন ঢাকার শেয়ারবাজারে ২৩৬ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল।

শেয়ারদরের নিম্ন সার্কিট ব্রেকার ২ শতাংশে বেঁধে দেওয়াকেই লেনদেন পতনের বড় কারণ বলে মনে করেন বাজার সংশ্নিষ্টরা। তারা জানান, সার্কিট ব্রেকারের নিম্নসীমা মাত্র ২ শতাংশ হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই দেড়শ থেকে দুইশ শেয়ার এমন দরে কেনাবেচা হচ্ছে। সর্বনিম্ন দরে নামার পর সিংহভাগ শেয়ার ক্রেতা হারাচ্ছে। বিপরীতে গুটিকয়েক কারসাজি চক্র সার্কুলার ট্রেড করে লেনদেন বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করছে। তাদের লেনদেন বাদ দিলে রোববারের লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার কম হবে।

শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুতে এবং দুবাইতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ রোডশোর প্রাক্কালে দরপতন রোধে সার্কিট ব্রেকারের ২ শতাংশের নিয়ম জারি করা হয়। বলা হয়েছিল, খুবই সাময়িক সময়ের জন্য এ নিয়ম জারি হচ্ছে। কিন্তু পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও তা বহাল আছে।

এদিকে 'বানরের ওঠানামা'র মতো করে শেয়ারদর ও সূচক ওঠানামা করছে। শেষবেলার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় সূচক ১০ পয়েন্ট বৃদ্ধির পর গতকাল সকাল ১০টায় লেনদেন শুরু ২০ মিনিটে ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬৬১১ পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল। এরপর দরপতন শুরু হলে দুপুর পৌনে ২টায় দিনের সর্বোচ্চ অবস্থানের তুলনায় ৬১ পয়েন্ট হারিয়ে ডিএসইএক্স ৬৫৪৯ পয়েন্টে নামে, যা আগের দিনের তুলনায় ৩৫ পয়েন্ট কম। আগেও এ অবস্থা দেখা গেছে। গত বুধবার ডিএসইএক্স ১০ পয়েন্ট বাড়লেও আগের দুইদিনে ৮৮ পয়েন্ট হারিয়েছিল। তার আগের দিন গত ১০ ফেব্রুয়ারি সূচকটি বেড়েছিল ২১ পয়েন্ট। তার আগের চার কার্যদিবসে হারিয়েছিল ১৩০ পয়েন্ট।

সার্বিক হিসাবে গতকাল ৫৮ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে, কমেছে ২৮০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪১টির। দর হারানো শেয়ারের মধ্যে ১৮৯টি দিনের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হয়েছে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত ওই দরে স্থির ছিল ১২৯টি, যার মধ্যে শতাধিক শেয়ারের ক্রেতা ছিল না।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী মনে করেন, বাজারের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করা এবং কৃত্রিমভাবে শেয়ারদর ধরে রাখার চেষ্টার কারণে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সূচকে দ্রুত দরপতনের পর দ্রুত উত্থানের গ্রাফ দেখলেই বোঝা যায়, বাজারে হস্তক্ষেপ হচ্ছে। সূচকের পতন দেখলেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন উদ্বিগ্ন হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। শেয়ারদর বা সূচক কোথায় উঠল বা কোথায় নামল, এসব দিকে নজর রাখা বিএসইসির কাজ নয়। এ সংস্থা দেখবে কেউ কৃত্রিম বাজার তৈরির চেষ্টা করছে কিনা। আইনের ব্যত্যয় করে শেয়ার কেনাবেচা করলে সংশ্নিষ্টকে শাস্তির আওতায় আনাই কমিশনের কাজ। কৃত্রিম বাজার তৈরির চেষ্টা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। এমন কর্মকাণ্ড বাজারের সর্বনাশ ডেকে আনছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com