শব্দদূষণরোধ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২২ । ১১:৩১ | প্রিন্ট সংস্করণ

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন -ছবি :সংগ্রহ

শব্দদূষণে বিশ্বের শীর্ষ শহর এখন ঢাকা। এ ছাড়াও তালিকার শীর্ষ পাঁচ শহরের মধ্যে রাজশাহী চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির সবশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। শব্দদূষণ বাংলাদেশে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় এক নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে। এই শব্দদূষণ রোধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিশেষ ক্যাম্পেইন করেছেন।

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর, শান্তিনগর মোড় এবং বাসের ভেতর শব্দদূষণবিরোধী ক্যাম্পেইনে অংশ নেন তারা। প্ল্যাকার্ড, হাতে আঁকা ছবি আর লিফলেটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার বালো 'সেলিং অ্যান্ড সেলস ম্যানেজমেন্ট' কোর্সের একাডেমিক কাজের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের এ ক্যাম্পেইনের নির্দেশ দেন। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে এ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেন।

ক্যাম্পেইনের সময় শিক্ষার্থীরা ক্যানভাস, প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে রাজধানীর মতিঝিল ও শান্তিনগর মোড়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা চলমান বাসের ভেতর যাত্রীদের সচেতন করতে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শব্দদূষণ রোধে করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন। তাদের এ কাজে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা সহায়ক ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, মাইকের অবাধ ব্যবহার, গাড়ির হর্নের আওয়াজ, কলকারখানার শব্দ, উচ্চ ভলিউমে সাউন্ডবক্স বাজানো, পুরোনো গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ ইত্যাদি পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণ।

এসব সমস্যা এখনই রোধ করা না গেলে আগামীর পৃথিবী ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে। আমরা মনে করি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ঐক্যবদ্ধ কর্ম প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে প্রাপ্ত দিকনির্দেশনা শব্দদূষণকে নিয়ন্ত্রণের পর্যায়ে নিয়ে আসতে সহায়ক হবে। ক্যাম্পেইন চলাকালীন শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দিয়ে গাড়িচালকদের সচেতন করেন। শিক্ষার্থীরা বাইক, সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, বাসচালকদের অযথা হর্ন না বাজাতে অনুরোধ করেন। ক্যাম্পেইন নিয়ে সাধারণ পথচারীরা বলেন, এ ক্যাম্পেইন যারা করছেন তাদের এমন ক্যাম্পেইন আরও করা উচিত। ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া মার্কেটিং শিক্ষার্থী মিশমা দে বলেন, বাংলাদেশের পুরোনো মহামারি এই শব্দদূষণ। এটি প্রতিকারের একমাত্র ভ্যাকসিন হলো সাধারণ জনগণের সচেতনতা।

আমাদের এ ক্যাম্পেইনে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি গাড়িচালক, রিকশচালকসহ যাত্রীদের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি করার। গুলিস্তানে ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সার্জেন্ট ক্যাম্পেইন নিয়ে বলেন, এ ধরনের ক্যাম্পেইন করার জন্য মার্কেটিং বিভাগের সম্মানিত ফ্যাকাল্টিকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com